হরমোন রোগ-হাইপোথাইরয়ডিজম কি একবারে ভাল হয় ?

হাইপোথাইরয়ডিজম

হাইপোথাইরয়ডিজম কি একবারে ভাল হয় ?

হাইপোথাইরয়ডিজম একটি হরমোন জাতীয় থাইরয়েড নামক এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির রোগ। থাইরয়েড নামে এই গ্রন্থি গলার সামনে অবস্থান করে। ইহা একটি অতি প্রয়োজনীয় গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে যে হরমোন আসে বা তৈরী হয় তার কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জন্ম, মানসিক বিকাশ, শারীরিক বৃদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক গঠন ইত্যাদিতে ইহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই হরমোন না হলে বা অভাব হলে জন্ম থেকেই কষ্ট, যদি সঠিক চিকিৎসা না পায়। এই হরমোনের অভাব হলে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। বাচ্চাদের এই রোগ হলে তাকে বলে ক্রিটিনিজম। বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার আগে থেকে এই হরমোনের কার্যকারিতা শুরু হয় অর্থাৎ এই হরমোন শিশুর ব্রেইন ও দেহ বৃদ্ধিতে সরাসরি কাজ শুরু করে। সময়মত চিকিৎসা না করলে বাচ্চা হাবা-বোবা ও মানসিক প্রতিবন্ধি হয়ে থাকে। অন্যদিকে শারীরিক বৃদ্ধি না হয়ে ছোট-খাট বা বামন হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় ইহার কোন উপসর্গ পাওয়া যায় না। পরে দেখা যায় বাচ্চা কাদে, খিটখিটে মেজাজ হয়, পায়খানা কষা হয়, শরীরের চামড়া শুকনো ও খসখসে হয়ে যায়।

বড়দের শরীর আস্তে আস্তে ফুলে যায়। পাও ফুলে যায়। শরীরের সমস্ত কার্যকলাপ ধীর গতি হয়ে যায়। পায়খানা কষা হওয়া, শরীরের চামড়া শুকনা খসখসে হয়ে যায়, মুখ-চোখ ফুলা ফুলা ভাব ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরে হাইপ্রেসার, ডায়াবেটিস ও কোলষ্টেরল এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের মাসিক অনিয়ম হয়, কারও কারও মাসিকের সময় প্রচুর রক্তক্ষরন হয় বা কারও আবার মাসিক বন্ধও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ উপসর্গ ছাড়াই অনেক দিন ধরে শরীরে অবস্থান করতে পারে। বড়দের এই রোগে কোলেষ্টরল সমস্যা হয়ে হার্ট ডিজিজ হতে পারে। হাইপোথাইরয়ডিজম একটি হরমোন জাতীয় থাইরয়েড নামক এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির রোগ। থাইরয়েড নামে এই গ্রন্থি গলার সামনে অবস্থান করে। ইহা একটি অতি প্রয়োজনীয় গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে যে হরমোন আসে বা তৈরী হয় তার কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জন্ম, মানসিক বিকাশ, শারীরিক বৃদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক গঠন ইত্যাদিতে ইহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই হরমোন না হলে বা অভাব হলে জন্ম থেকেই কষ্ট, যদি সঠিক চিকিৎসা না পায়।

এই হরমোনের অভাব হলে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। বাচ্চাদের এই রোগ হলে তাকে বলে ক্রিটিনিজম। বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার আগে থেকে এই হরমোনের কার্যকারিতা শুরু হয় অর্থাৎ এই হরমোন শিশুর ব্রেইন ও দেহ বৃদ্ধিতে সরাসরি কাজ শুরু করে। সময়মত চিকিৎসা না করলে বাচ্চা হাবা-বোবা ও মানসিক প্রতিবন্ধি হয়ে থাকে। অন্যদিকে শারীরিক বৃদ্ধি না হয়ে ছোট-খাট বা বামন হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় ইহার কোন উপসর্গ পাওয়া যায় না। পরে দেখা যায় বাচ্চা কাদে, খিটখিটে মেজাজ হয়, পায়খানা কষা হয়, শরীরের চামড়া শুকনো ও খসখসে হয়ে যায়। বড়দের শরীর আস্তে আস্তে ফুলে যায়। পাও ফুলে যায়। শরীরের সমস্ত কার্যকলাপ ধীর গতি হয়ে যায়। পায়খানা কষা হওয়া, শরীরের চামড়া শুকনা খসখসে হয়ে যায়, মুখ-চোখ ফুলা ফুলা ভাব ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরে হাইপ্রেসার, ডায়াবেটিস ও কোলষ্টেরল এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের মাসিক অনিয়ম হয়, কারও কারও মাসিকের সময় প্রচুর রক্তক্ষরন হয় বা কারও আবার মাসিক বন্ধও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ উপসর্গ ছাড়াই অনেক দিন ধরে শরীরে অবস্থান করতে পারে। বড়দের এই রোগে কোলেষ্টরল সমস্যা হয়ে হার্ট ডিজিজ হতে পারে।

মেয়েদের এবং ছেলেদের ও এই হরমোনের অভাব হলে ইনফার্টিলিটি অর্থাৎ বাচ্চা জন্মদানে অক্ষমতা দেখা যেতে পারে। এ রোগ হলে মনে রাখতে হবে সারা জীবন এ রোগের চিকিৎসা নিতে হতে পারে।

হাইপোথাইরয়ডিজম কি কারনে হতে পারে ?

অনেক কারনসমূহের মধ্যে প্রধানত নিন্মের কারণসমূহ সচারাচর দেখা যায়। প্রাইমারী কারণ অর্থাৎ থাইরডের নিজস্ব কারণ ঃ

১) জন্মগত (কনজেনিটাল) ত্রুটি।

২) অটোইম্মুইন থাইরয়েড রোগ যেমন : হাসিমটোস থাইরয়েডাইটিস রোগ।

৩) থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার।

৪) রেডিও একটিভ আয়োডিন থেরাপি।

৫) পিটুইটারী গ্রন্থির নানান রোগ বা অপারেশন।

৬) ইডিওপ্যাথিক বা অজানা কারন,

৭) সার্জারী বা থাইরয়েড অপারেশন,

৮) আয়োডাইড এর অভাব,

৯) কিছু ঔষধ যেমন লিথিয়াম, ইন্টারফেরন আলফা, অ্যামিওডেরন ও অ্যান্টি থাইরয়েড থেরাপী ইত্যাদি

১০) সকেন্ডারীঃ যেমন পিটুইটারী গ্রন্থির বিভিন্ন প্রকারের রোগ, ক্যান্সার অথবা অপারেশন ইত্যাদি।

হাইপোথাইরয়ডিজম এর উপসর্গ সমূহ :

১। এই রোগে রোগীর সব ধরনের কাজের গতি ধীরস্থির হয়ে যায়। কাজ করতে রোগী আলস্য বোধ করে। কাজে     তীব্র অনিহা এবং কাজ করতে ভাল না লাগা উপসর্গটি দেখা যায়।

২। রোগী সকালে ঘুম থেকে উঠতে আলস্য বোধ করে। রোগীর হাত পা বা সারা শরীর ব্যাথা ব্যাথা ভাব থাকে।

৩। রোগী শীত সহ্য করতে পারে না। এমনকি রোগী গরমের দিনেও লেপ বা কাঁথা গায়ে দিয়ে থাকে।

৪। রোগীর পায়খানা প্রায় সময় কষা থাকে বা কোষ্ট কাঠিন্য হয়।

৫। হাতে পায়ে পানি নেমে যায় এবং শরীর ওজন বেড়ে যায়।

৬। গলার স্বর পরিবর্তন হয় অর্থাৎ গলার স্বর হাঁসের মত খস খস বা ফেস ফেস আওয়াজ হয়।

৭। হাতের ও পায়ের চামড়া শুকনা ও খসখসে হয়ে যায়।

৮। মাথার চুল এবং ভ্রুর বাহিরের দিকের চুল পড়ে যেতে পারে।

৯। মুখ চোখ ও পাঁ একটু ফোলা ফোলা ভাব দেখা যায়।

১০। অনেকদিন অনিয়ন্ত্রিত রোগীর স্মৃতিশক্তি কমে যায়। হঠাৎ কোন কিছুর নাম বা কথা মনে করতে পারে না।

১১। উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে বর্তমানে এই রোগ সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব এবং এর ভাল চিকিৎসাও রয়েছে। প্রতিকার ও চিকিৎসাঃজন্মের প্রথম দিনেই রক্ত পরীক্ষা করে এই রোগ সনাক্ত করে ইহার প্রতিকার করা সম্ভব।

যেহেতু এই হরমোন তৈরীর প্রধান উপাদান আয়োডিন সেহেতু পরিমান মত আয়োডিন যুক্ত লবন, ফ্রেশ শাক-শবজি ও ফলমুল খাওয়া দরকার।
এই রোগ হয়ে গেলে এন্ডোক্রাইনোলজিষ্ট এর পরামর্শ ও চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

আরও পড়ুনঃ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে লিখেছেন অধ্যাপক (ডা) এম. এ. মান্নান।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান
অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজী (ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ)।
আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ
রোড নং-৮, বাড়ী নং-১৭, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*