সাইন্টিফিক এভিডেন্স বেইজড ফিজিওথেরাপি ও বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি প্রাকটিস

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি প্রাকটিস

বিশ্বব্যাপী লক্ষা করা যায় বিভিন্ন রকম বাতের ব্যথা, হাড়, জোড় ও মাংসপেশীর ব্যথা পেইস, ব্যাক পেইন, প্যারালাইসিস কিংবা মুভমেন্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে গানিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের রোগসমুহের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক ফিজিওথেরাপিই উচ্চ শ্রেণীর গবেষনা সমৃদ্ধ অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই ফিজিওথেরাপির চাহিদা ও গুরুত্ব খুব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বাধীন পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ফিজিওথেরাপি মুলত নলেজ, হ্যান্ড, এক্সারসাইজ, ম্যনুয়াল থেরাপি, মুভমেন্ট বেইজড এবং সহ উপকরণ হিসেবে ইলেকট্রোথেরাপি মেশিন এর উপর নির্ভরশীল।

সক্রিয় জীবনের জন্য মুভমেন্ট অপরিহার্য। No Movement, No life জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যদি কোন কারনে মুভমেন্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তার ফিজিওথেরাপি লাগবেই। এই দীর্ঘ পরিক্রমায় কারা কিভাবে বিজ্ঞান সম্মত ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করবেন তা জানতে হবে। যেমন জন্মের পর শারীরিক অক্ষমতা এবং মুভমেন্ট জনিত সমস্যা তাত্বিক জ্ঞান প্রয়োগ করে পর্যালোচনামুলক বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে সমস্যা ও সমস্যার কারণ নির্ধারণ পূবর্ক বিজ্ঞান সম্মত ফিজিওথেরাপি নির্ধারিত হয়। এই বিষয়গুলো যিনি নির্ধারন কিংবা প্রয়োগ করবেন তাকে নিশ্চয় মুভমেন্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। যদি তা না হয়, সর্বনাশ অনিবার্য। আর এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ একমাত্র ফিজিওরাই। কারণ ফিজিওরাই সরকারী অনুমোদিত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে ৫ বছর মেয়াদী প্রফেসনাল ফিজিওথেরাপি ডিগ্রী নিয়ে থাকেন।

এই প্রোগ্রমে মেডিকেল, বায়োলজিকাল এবং বিহেভিয়েরাল সাইন্সের শক্ত ভিত্তিতে তৈরি। এই ৫ বছর সময়কালীন তাদেরকে এনাটোমি, ফিজিওলজি, ফার্মকোলজি, বায়োমেকানিক্স, একসারসাইজ মেডিসিনি থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, ম্যানুয়াল থেরাপি, সাইকোলজি এন্ড সাইক্রিয়াটি, সোসাল মেডিসিন, ইলেক্ট্রো থেরাপি, বিভিন্ন মেডিকেল ও সার্জিকাল কন্ডিশন, স্পোর্টস নিউরো, অর্থোপেডিক, কার্ডিওরেসপিরেটরী, রিউমাটোলজি, গাইনি ও অবস, কমিউনিটি ফিজিওথেরাপি বিষয়ে প্রায় ৫ হাজার ঘন্টাব্যাপী ত্বাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও ক্লিনিকাল শিক্ষা অর্জন করতে হয়।

ফিজিওথেরাপি ডিগ্রী প্রোগ্রামে ছাত্র-ছাত্রীরা মানুষের মুভমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে রোগ নির্ণয় পূর্বক তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ত্বাত্ত্বিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে স্বাস্থ্য সেবায় একজন দক্ষ সদস্য হিসেবে আবিভুত হন। এ দীর্ঘ সময়ে যারা বিজ্ঞান সম্মত ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত ত্বাত্ত্বিক, ব্যবহাকি ও ক্লিনিকাল শিক্ষা অর্জন করেন তারাই হবেন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এবং তারাই বিজ্ঞানসম্মত এভিডেন্স বেইজড ফিজিওথেরাপি প্রাকটিস করার অধিকার রাখেন।

সর্বশেষে বলতে চাই আপনার কিংবা আপনার পরিবার কিংবা আপনার পরিচিত জন যে কেউই যে কোন কারনে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিচ্ছেন কিংবা নিবেন অনুগ্রহ পূর্বক আপনার স্বার্থে জেনে যিনি আপনার ফিজিওথেরাপি দিচ্ছেন তিনি সরকার অনুমোদিত ফিজিও রেজিঃ পাওয়ার যোগ্য কিনা এবং এ সংক্রান্ত তার সার্টিফিকেট আছে কিনা কিংবা তিনি যে ফিজিওথেরাপি দিচ্ছেন তা বিজ্ঞানসম্মত কিনা। একজন ফিজিওই পারেন এভিডেন্স বেইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দিতে, অন্য কেউ নয়।

সময়মত এভিডেন্স বেইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন, সচল ও কর্মক্ষম জীবন যাপন করুন।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশার একাল-সেকাল।

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*