অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে স্বচ্ছ লেন্স ফুলে গিয়ে ক্ষীণদৃষ্ঠি বা মায়োপিয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চশমা ব্যবহারে সাময়িক আরাম বোধ হলেও পরে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের কারণে আবার চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করতে হয়।
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। এ রোগে শরীরে ইনসুলিনের ধাটতির কারণে শুধু রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে না। বহু বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিসের কারণে পর্যায়ক্রমে স্নায়ুরোগ, কিডনি রোগ এমনকি চক্ষুরোগ হতে পারে।
ডায়াবেটিস-জনিত চক্ষুরোগ
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
রেটিনা হলো চোখের সবচেয়ে দৃষ্ঠি সংবেদনশীল অংশ। রক্তে অতিরিক্ত শর্করার কারণে চোখের রেটিনা রক্তনালী সরু হয়ে যায়। এতে রেটিনার পুষ্ঠিহীনতার কারণে রক্তপাত, প্রদাহ, পানি জমা ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিহীনতা হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে চোখে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসা :
প্রথমত, অবশ্যই ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চুক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে প্রয়োজনে লেসার চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ নির্মূল সম্ভব। প্রতি ছয় মাস পরপর চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেয়া ভালো।
- ডায়াবেটিস-জনিত ছানি
চোখের স্বচ্ছ লেন্সের ভেতর দিয়ে আলো প্রবাহিত হয়ে রেটিনায় দৃষ্ঠির অনুভূতি সৃষ্ঠি করে। আলোর এই প্রবাহের জন্য লেন্সের স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। ডায়বেটিস রোগের কারণে স্বচ্ছ লেন্সের ভেতরে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় বলে লেন্স ফুলে অস্বচ্ছ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে এই অস্বচ্ছতা বা ছানির পরিমাণও বেড়ে যায় এবং রোগী ক্রমান্বয়ে দৃষ্ঠিহীন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসা:
ডায়বেটিস-জনিত ছানি অপসারণ করে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করে অনেকাংশে দৃষ্ঠি ফিরে পাওয়া সম্ভব। তবে কারো যদি রেটিনাতেও সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে দৃষ্ঠি সম্পূর্ণবাবে ফিরে নাও আসতে পারে।
- চোখের পাওয়ার সমস্যা
অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিসের কারণে স্বচ্ছ লেন্স ফুলে গিয়ে ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চশমা ব্যবহারে সাময়িক আরাম বোধ হলেও পরে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের কারণে আবার চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করতে হয়ে। তাই ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পাওয়ার পরীক্ষা করে চশমা দেয়া প্রয়োজন।
- গ্লুকোমা
ডায়াবেটিক রোগীদের চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে গ্লুকোমা রোগ হতে পারে। প্রাইমারি গ্লুকোমাতে ডায়াবেটিস হলো একটি রিক্স ফ্যাক্টর। বহুদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে চোখে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। তখন চোখের পুষ্ঠি প্রদানের জন্য নতুন রক্তনালী তৈরি হয়। যা থেকে চোখে প্রদাহ, রক্তপাত ও পরে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গ্লুকোমা রোগ হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শে ডায়বেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ, রেটিনাতে লেসার চিকিৎসা এবং গ্লুকোমা রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।
এছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে চোখের ন্সায়ুদুর্বলতা হতে পাারে। দৃষ্ঠি ন্সায়ুর প্রদাহ বা অপটিক নিউরাইটিসের কারণে হঠাৎ চোখের দৃষ্টি কমে যেতে পারে। মাংসপেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে চোখ টেরা হয়ে যেতে পারে। পরিশেষে বলতে হয়, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডায়াবেটিস-জনিত সমসাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে ত্বরিত চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

