গর্ভাবস্থায় সঠিক ওজন বৃদ্ধি ও পুস্টি

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 222
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    222
    Shares

গর্ভাবস্থায় কতটুকু ওজন বাড়া স্বাভাবিক? এই সময়ে একজন মায়ের সাধারনত ১০-১২কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে এটা কনসিভের পূর্ববর্তী ওজনের উপর নির্ভর করে। যাদের প্রেগন্যান্সির আগের থেকেই ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম (BMI ১৯ এর কম) সেই মায়েরা ১৭ কেজি পর্জন্ত ওজন বাড়াতে পারেন, তবে BMI ২৫ এর বেশি হলে ৭ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়লেই যথেস্ট। এর মধ্যে প্রেগন্যান্সির প্রথম তিন মাস ১ থেকে ২ কেজি এবং মাঝের ও শেষ তিন মাস ৫ কেজি করে ওজন বাড়তে পারে।

কোন খাবার কিভাবে পুস্টি দিতে পারে?  আমাদের দেশে গর্ভবতী মাদের পুষ্টিহীনতার একটি প্রধান কারন কুসংস্কার এবং অসচেতনতা। অনেকের ধারনা গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন ও পুস্টিকর খাবার খেলে গর্ভের শিশু বড় হয়ে যাবে এবং সিজারের সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু এ সময়ে মা ও বাচ্চার পুস্টির জন্য অন্য সময়ের চেয়ে অধিক খাবারের দরকার হয়। মায়ের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত যে পুস্টিমান দরকার তা হল-

ক্যালরি-৩০০কিলো ক্যালোরি , প্রোটিন -৬০ মি গ্রাম , ক্যালসিয়াম – ১২০০ মি গ্রাম, আয়রন -৩০ মি গ্রাম।  বিভিন্ন রকম খাবার থেকে আমরা খাবারের উপাদান গুলো পেয়ে থাকি। খাবার নির্বাচনের সময় তাই সতর্ক থাকতে হবে যাতে সব রকম উপাদানই প্রয়োজনীয় মাত্রায় থাকে। দিনে ৮ থাকা ১০ গ্লাস পানি এবং আঁশ জাতীয় খাবার যেমন,লাল আটার রুটি, শাকসবজি কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে সাহাজ্য করে। শক্তি প্রদানকারী খাবারগুলোর মধ্যে আছে আটা, গম, পাস্তা,নুডুলস,ওটস, আলু ইত্যাদি। ফলমূল ও শাকসবজি থেকে আমরা পাই বিভিন্ন রকম ভিটামিন ও এন্টি অক্সিডেন্ট।

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্নগুলো জেনে রাখুন

প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উপাদান গুলো হল মাছ, মাংশ, ডিম, বাদাম, শিম, সয়া প্রডাক্ট।
প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ আমাদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরন করতে পারে। এছাড়া ক্যালসিয়ামের আন্যান্য সোর্স গুলো হচ্ছে চিজ,দই,ব্রকলি,এলমন্ড,আইস ক্রিম ইত্যাদি। আয়রন জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কলিজা,সবুজ শাক, লাল মাংশ, বাদাম, কচু জাতীয় সবজী। প্রতিদিনের খাবারের অর্ধেকটা জুড়ে থাকা উচিত ফলমুল ও শাকসবজি এবং ফ্যাটের পরিমান সমস্ত খাদ্যের ৩০% বা এর কম হতে হবে।

কোন খাবার পরিত্যাগ করা উচিত?  এ সময় আনপাস্তুরাইজ দুধ,আধা সিদ্ধ মাংশ, অপরিষ্কার শাক সবজি থেকে কিছু জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে,যা গর্ভপাতের জন্য দায়ী। এছাড়া এলকোহল, অতিরিক্ত চা-কফি,কোল্ড ড্রিঙ্ক পরিহার করা উচিত। গর্ভাবস্থায় অনেক মায়েদেরকে গর্ভপাতের ভয়ে গাজর, পেপে খেতে দেয়া হয় না, এটি ভুল ধারনা, সহনীয় মাত্রায় খেলে কোন সমস্যা নেই। ডাবের পানি পান করাও জরুরী, যেহেতু এর পটাশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

ডাঃ নুসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনী),
বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে ট্রেনিং প্রাপ্ত (ইন্ডিয়া), ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।
চেম্বার: ডিপিআরসি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব,
(১২/১, রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001, +8801997702002,
09666774411,  029101369, 0258154875

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 − six =