মেরুদন্ডের হাড়, পিঠ বা কোমর ব্যথার অন্যতম কারণ ডিক্স প্রোল্যাপ্স

মেরুদন্ডের হাড়

মেরুদন্ডের হাড়

মেরুদন্ডের হাড়, পিট বা কোমর ব্যথার অন্যতম কারণ ডিক্স প্রোল্যাপ্স

মানুষের দেহকাঠোমোর একটি বিরাট অংশ জুড়ে রছে মেরুদন্ড। মেরুদন্ড অনেকগুলো ছোট হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। এই ছোট হাড়গুলোর প্রতিটি কাশেরুকা (ভার্টিব্রা) নামে পরিচিত। প্রতি দু’টি কশেরুকার মাঝে চাপ শোষণকারী ডিস্ক থাকে, যেটি মেরুদন্ডের এক হাড় থেকে অন্য হাড়কে আলাদা রাখে এবং নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।

ডিস্ক কী :

প্রতিটি ডিস্কের ভেতরের অংশ জেলির মতো নরম এবং বাইরের অংশ শক্ত তন্ত দ্বারা গঠিত। ভেতরের অংশকে নিউক্লিয়াস পালপোসাস এবং বাইরের অংশকে অ্যানুলাস ফাইব্রোসাস বলে। আমাদের বিভিন্ন ধরনের নাড়াচাড়া ও ভার বহনজনিত চাপকে প্রশমিত করে ডিক্স।

ডিস্ক প্রোল্যান্স :

বাহ্যিক আঘাত, হাড়ের ক্ষয় ও অতিরিক্ত ভার বহনের ফলে ডিস্কের মধ্যবর্তী অংশ বাইরে বের হয়ে গিয়ে ন্সায়ুমূলে (নার্ভরুটে) চাপ সৃষ্টির ফলে ডিস্ক পোল্যাপ্স-জনিত ব্যথা উৎপন্ন হয়। ডিস্কের অবস্থান ও প্রোল্যাপ্সের মাত্রার ওপর নির্ভর করে ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের জটিলতা। প্রাথমিক অবস্থঅয় রোগী মেরুদন্ডে ব্যথা অনুভব করে। পরে জটিলতা বাড়তে থাকলে রোগী হাত বা পায়ে ঝিনঝিন শিনশিন বা অবশ হওয়া অনুভব করেন।

ঘাড় ও পিঠ ব্যথা :

ঘাড়ে উৎপন্ন ব্যথা ঘাড় নড়াচড়ার সাথে সাথে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ঘাড়া থেকে ব্যথা মাথার দিকে বা শিরদাঁড়া বেয়ে হাতের দিকে যেতে পারে। ব্যথার সাথে ঘাড়ে বা হাতে জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন,শিনশিন করতে পারে। অনেক সময় ঘাড়ে উৎপন্ন ব্যথার ফলে রোগীর হাত-পা বা আঙুল অবশহয়ে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে হাত ও পায়ের কার্যক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। দীর্ঘ দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগতে থাকেল চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়।

কোমর ব্যথা :

লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের ক্ষেত্রে কোমরে ব্যথা অনুভব হয়। স্বাভাবিক নড়াচড়ায় ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে কোমর ব্যথা বেড়ে যায়। এমনকি হাচি ও কাশির ফলে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়। কোমর থেকে ব্যথা ক্রমেই পায়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ধীরে ধীরে পা প্যারাইসিস বা অবশ হয়ে যেতে দেখা যায়। পায়ে নিচের দিকে টানটান ভাব, জ্বালাপোড়া,ঝিনঝিন, শিনশিন ও কামড়ানো অনুভব হতে পারে। ধীরে ধীরে মেরুদন্ড বেঁকে গিয়ে কুঁজো হয়ে যেতে পারে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কোমর ব্যথার ফলে প্রসাব-পায়খান বন্ধ হয়ে রোগী শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এভাবে চলতে থাকলে রোগী একপর্যায়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

চিকিৎসা :

ঘাড়,পিঠ ও কোমর ব্যথায় ক্রমাগত ব্যথানাশক কাওয়ার পরিবর্তে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হয়ে রোগ নিণয় করতে হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ফিজিওথেরাপি দিয়েও যখন রোগী আরোগ্য লাভ না করেন তখন (গজও) করে দেখতে হবে ডিস্ক প্রোলাপ্স-জনিত কোনো সমস্যা আছে কি না? মেরুদন্ডের ডিস্কের চাপ বেশি হলে অপারেশনের মাধ্যমেই সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের অত্যাধনিক লেজার সার্জারির মাধ্যমে কাটাছেঁড়াহীন (Percutaneous Laser Disc Decompression_PLDD) চিকিৎসা বাংলাদেশে চালু আছে। এর ফলে রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসার পরিবের্ত স্বল্পমেয়াদি ও নিরাপদ লেজার চিকিৎসায় দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব হয়। তা ছাড়া যেহেতু লেজার সার্জারিতে রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না তাই ডায়াবেটিস, কিডনি ও হুদরোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক রোগীরাও এখন ঝুঁকিহীনভাবে পিএলডিডি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন।

খরচ :

অত্যাধুনিক লেজার সার্জারির পিএলডিডি অপারেশনটি (US FDA) কর্তৃক স্বীকৃত হওয়ায় উন্নত বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত। বাংলাদেশে অন্তত সুলভমূল্যে এ চিকিৎসাটি চালু আছে। রোগীদের সন্তুষ্টি ও দ্রুত আরোগ্যের কারণে PLID চিকিৎসা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই ঘাড়, পিঠ ও কোমর ব্যতায় অবহেলা না করে নিরাপদ লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

One comment

  1. Thanks for finally writing about > মেরুদন্ডের হাড়, পিঠ বা কোমর
    ব্যথার অন্যতম কারণ ডিক্স প্রোল্যাপ্স < Liked it!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*