ওলটকম্বল
প্রাকৃতিক গাইনি ডাক্তার’ ওলটকম্বল
প্রচলিত নাম: ওলটকম্বল
ইউনানি নাম: উলটকম্বল
আয়ুর্বেদিক নাম: ঔলটকম্বল
ইংরেজী নাম: Devil`s Cotton
Botanical Name: Abroma Agusta Linn.
পরিবার: Sterculiaceae
পরিচিতি:
আমাদের দেশে ওলটকম্বল বেশ পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা হয়। বিভিন্ন বনজঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। এর অনেক ঔষধি গুণ থাকায় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর জন্য বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ শুরু হয়েছে। গাছ কুব বেশি মোটা হয় না, এটি অনেকটা এরন্ড গাছের মতো। এর কাঠ নরম ও ধূসর বর্ণের হয়। গাছের ছালে পাটের আঁশের মতো আঁশ থাকে, এ জন্য ইংরেজীতে এই গাছকে বলা হয়- Devil`s Cotton । এর ফুল গাঢ় মেরুন রঙের হয়ে থাকে। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকলে ধূসর বর্ণের হয়, আর এটি ্পাঁচ কোনাবিশিষ্ট্ হয়। ফলের ভেতওে কম্বলের মতো লোমম পাঁশটি প্রকোষ্ঠে কালোজিরার মতো অসংখ্য বীজ সাজানো থাকে। গাছের ডাঁটা ও ছাল পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বিজল সৃষ্টি হয়। প্রাচীনকালে থেকেই ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিভিন্ন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ওলট্কম্বল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউনানির চেয়ে আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে এর ব্যবহার অনেক বেশি। ওলটকম্বলের প্রধান ব্যবহার স্ত্রীরোগে। প্রায় ২০ প্রকারের স্ত্রীরোগে এটি ব্যবহৃত হয় বলে এক ‘প্রাকৃতিক গাইন ডাক্তার’ বলা হয়।
উপকারিতা:
ওলটকম্বল মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অল্প ঋতুস্বাব, অধিক ঋতুস্রাব, ব্যাথাযুক্ত ঋতুস্রাব, শ্বেতস্রাব, প্রসব-পরবর্তী অধিকস্রাব, জরায়ুপ্রদাহ, জরায়ুর দুর্বলতা, যোনিপ্রদাহ, সহবাসকালীন ব্যথা, কোমর ব্যথা, গর্ভেও উৎপত্তি না হওয়া ও প্রস্রাবে জ্বলাপোড়ায় ব্যবহৃদ হয়। এ ছাড়াও পুরুষদেও শুক্রমেহ, শুক্রস্বপ্লতা ও বাত ব্যথায় বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
রাসায়নিক উপাদান
ব্যবহৃত অংশ রাসায়নিক উপাদান পাতা টেরোক্সরল, এসিটেট, বিটা-সাইটোস্টেরল মুল ও মুলের ছাল ফিক্সড অয়েল, রেজিন, এবরোমিন, গাম, অ্যালকালয়েড, কলিন, বিটেইন, বিটা-সাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট
রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতি
রোগের নাম ব্যবহার্য অংশ মাত্রা ব্যবহার পদ্ধতি
রজঃকৃচ্ছ্র মূলের ছাল ৬০ গ্রাম প্রতিবার ২৫০ মি:লি: পানিতে জ্বাল দিয়ে পানির পরিমাণ অর্ধেক হলে ছেঁকে সকালে ও বিকেলে সেব্য। ব্যথাযুক্ত ও অনিয়মিত ঋতুস্রাব মূলের ছাল চূর্ণ ৩ গ্রাম মূলের চূর্ণের সাথে ১৫০ মি.গ্রাম গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে মাসিকের চার-পাঁচ দিন আগে থেকে প্রতিদিন একবার সেব্য। জরায়ুর দুর্বলতা ও যোনিপ্রদাহ শুকানো ছাল ১০ গ্রাম এর সাথে অশোকছাল-১০ গ্রাম, মুন্ডিফুল-৫ গ্রাম, মেহেদি পাতা-২গ্রাম, আধা চূর্ণ করে প্রতিবার ২৫০ মি:লি. পানিতে জ্বাল দিয়ে পানির পরিমাণ অর্ধেক হলে ছেঁকে সকাল ও বিকেলে সেব্য। এভাবে এক মাস খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শ্বেত প্রদও মূলের চাল চূর্ণ ৩ গ্রাম সকাল-সন্ধ্যায় পানিসহ খালি পেটে সেব্য। সহবাসকালীণ ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করা কাঁচা ছাল ১০ গ্রাম ছাল বেটে পানিতে গুলে কচলে ছেঁকে এর সাথে অর্জুন ছালের চূর্ণ ৫ গ্রাম অল্প পানিতে মিশিয়ে শরবত কওে দিনে দুইবার সেব্য। জরায়ুর স্থানচ্যুতি তাজা মূলের ছাল ৫ গ্রাম পিষে নিয়ে পানিতে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় চিনিসহ সেব্য। প্র¯্রাবে জ্বালাপোড়া পাতার ডাঁটা তিন-চারটি ডাঁটা ছেঁকে ২৫০ মি: লি. পানিতে কচলিয়ে প্রয়োজনে সামান্য চিনি পুরুষদেও শুক্রক্ষয়ও শুক্রস্বল্পতা তাজা পাতার ডাঁটা তিন-চারটি ডাঁটা ছেঁটে ২০০ মিলি পানিতে কচলিয়ে এককাপ দুধ সামান্য চিনি মিশিয়ে কচলিয়ে বিকেলে খালি পেটে সেব্য। বার্ধক্য জনিত রোগ মূলের চূর্ণ ২০০ মি. গ্রাম চূর্ণের সাথে গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পানিসহ দিনে দুইবার সেব্য।
সর্তকতা:
- গর্ভকালীণ সময়ে ওলটকম্বল ব্যবহার নিরাপদ নয়।
- অধিক সেবনে এলার্জি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও মাথা ঘোরা, বুক জ্বালাপোড়া, পেটে ব্যা ও অতিরিক্ত রক্ত¯্রাব দেখা দিতে পারে।
সেবনমাত্র ও সেবনবিধি: ২-৪ চা চামচ করে দিনে দু-তিনবার সেব্য।
জেনে নিন কাঁচা পেপেতে রয়েছে কি কি ঔষধি গুণ
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

