থেরাপির উদ্দেশ্যঃ
যদি কোনো ব্যক্তি জন্মগতভাবে বা অন্য কোন কারণে শারীরিক বা মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পর যতটুকু কর্মক্ষমতা হারায় বা পুর্নবাসনের জন্য অবশিষ্ট থাকে তবে তার দৈনিক কর্মে ও অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে সে ক্ষমতাটুকু প্রয়োগ করার শিক্ষাই হল ফিজিওথেরাপি। তাছাড়া কোনো শারীরিক বা মানসিকভাবে পঞ্চাৎপদ রোগীকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং তার সার্বিক কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে উন্নীত করাই ফিজিওথেরাপির কাজ।
কর্মক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সফলতা নির্ভর করে শুরু থেকে শেষে পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিজিওথেরাপির ওপর কর্মক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মান ও সময় ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর করে। রোগীর মানসিক, দৈহিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। ফিজিওথেরাপির কাজ ও উদ্দেশ্য প্রায় একই রকম।
তবে ফিজিওথেরাপির কাজ হল সফল পূনর্বাসনের জন্য রোগীকে নিপুণভাবে কর্মক্ষম করে তোলা এবং মানসিকভাবে পশ্চৎপদ রোগীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আচরণ উন্নয়ন, অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের জীবনযাত্রা ব্যবস্থা ও সামাজিক অবস্থার সঙ্গে চলার উপযোগী করা। অনেক রোগী ফিজিওথেরাপি ছাড়াই পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতে পারে। কোনো কোনো রোগীর উভয় থেরাপি অথবা যে কোনো একটির প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রেই একে-অপরের পরিপূরক। প্রত্যেক থেরাপিরই নির্দিষ্ট প্রয়োজন, কর্তব্য দায়িত্ব ও কর্মপদ্ধতি আছে।
থেরাপির মূলনীতিঃ
✪ শারীরিক অক্ষমতা, পঙ্গুত্ব, ব্যথা বেদনা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ব্যায়াম, ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন পূনর্বাসন কলা কৌশলের মাধ্যমে মুক্ত করা ও কর্মক্ষম করে তোলা।
✪ মানসিক ও দৈহিক অক্ষমতা নিরূপন, পুনর্বাসনের জন্য পরিকল্পনা ও পদ্ধতি গ্রহণ, পূর্বের পেশার জন্য অক্ষম হলে নতুন পেশার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করে তোলা। জন্মগত পঙ্গু ও বিকলাঙ্গদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নসহকারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। দলগত পরামর্শ ও সহযোগিতা মূল নীতির অন্তর্ভূক্ত।
✪ কর্মক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা- দুর্বল ও দীর্ঘদিন কাজে অনভ্যস্থ রোগীকে নিয়মিত বিভিন্ন অনুশীলন ও কাজে মনোনিবেশ ও আগ্রহ সৃষ্টি করাতে হবে। দৈহিক ও মানসিক অগ্রগতি ও উৎসাহের প্রতি লক্ষ্য রেখে অনুশীলনের সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কর্মক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রোগীর সার্বিক অগ্রগতি ও মূল্যায়ন অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে সুসজ্জিত পূর্ণবাসন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
✪ মাংসপেশির সমন্বয়, সহযোগিতা ও শক্তি বৃদ্ধি করা এবং অনিচ্ছাকৃত ও অসংলগ্ন অঙ্গ সঞ্চালন বন্ধ করা। নিপুণভাবে মাংসপেশি কর্মক্ষম করে তোলা। দৈনন্দিন কাজগুলো করার মাধ্যমে সুফল পাওয়া যায়, যা স্বনির্ভরশীল হওয়ার জন্য খুবই প্রয়োজন।
✪ স্থায়ী পঙ্গু ও বিকলাঙ্গদের বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভরশীল করতে হবে। স্বনির্ভরশীল হওয়া পূণর্বাসনের প্রথম শর্ত।
✪ অস্থিসন্ধির বিকৃতি প্রতিরোধ ও কর্মক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

