হাড় ছিদ্র রোগ বা অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis)

হাড় ছিদ্র রোগ বা অস্টিওপোরোসিস

মানুষের শরীরে ২০৬ খানা হাড় বা অস্থি থাকে। স্বাভাবিক গঠনে হাড়ে আমিষ, কোলাজেন, ক্যালশিয়াম ও ফসফেট থাকে বলে হাড়ে শক্তিশালী হয়। আমাদের বয়স যখন ৩০-৪০ এর মধ্যে থাকে তাদের হাড়ের গঠন সবচেয়ে মজবুত থাকে। প্রাকৃতিক ভাবে ৪০ উর্দ্ব বয়সী নরনারী শরীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। ফলে হাড় দূর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড়ের এই হ্রাসের পরিমান নির্ভর করে ব্যাক্তির বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্যভাস, বংশানুক্রম এর উপর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে একে হাড় ছিদ্র রোগ বা অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) বলে।

অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ছিদ্র রোগ কি ?

হাড়ের ভেতর ঘনত্ব বাড়া-কমা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৬-১৮ বছর বয়সে হাড়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ২০ বছর বয়স পর্যন্ত হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে বাড়ে। যখন বয়স চল্লিশউর্দ্ধ (৪০) হয় স্বাভাবিকভাবে হাড়ের অষ্টিওব্লাস্টিক প্রক্রিয়া কমে গিয়ে অষ্টিওক্লাস্টিক প্রক্রিয়া বেড়ে যায় ফলে, হাড় ক্ষয় হওয়া শুরু হয়। এই অবস্থাকে অস্টিওপোরোসিস বলা হয়।

অস্টিওপেরোসিস বা হাড়ের ছিদ্র রোগের প্রাদুর্ভাব ?

এই রোগ মহিলা ও পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের বিশেষ করে মনোপোজ বা ঋতুস্রাব বন্ধের পর শরীরে ইষ্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোন কমে যায়। ফলে হাড়ের ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। পুরুষদের টেষ্টোটেরনের  (Testosterone) হরমোন ৭০ বছর বয়সে কমতে শুরু করে তখন হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সারাদেশে ৫০ উর্দ্ধ বয়সী প্রতি ৩ জন মহিলার মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন অস্টিওপেরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ হয়।

অস্টিওপোরোসিস ঝুঁকি কাদের বেশী?

১. মনোপোজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ পরবর্তী মহিলার ।(অপারেশন করে জরায়ু বা ডিম্বাশয় ফেলে দিলে)

২. ককেশীয় অঞ্চলে ।

৩. যাদের পরিবারের কারও অস্টিওপোরোসিস আছে।

৪. যারা পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহন করেন না।

৫. যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা হাটাহাটি করেন না।

৬. যাদের ওজন কম।

৭. যারা ধুমপান ও অ্যালকোহল পান করেন ।

৮. কিছু অসুখ অস্টিওপেরোসিস ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় যেমন :

রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, যাদের শরীরে ইষ্ট্রোজেন মাত্রা কম, যাদের শরীরে টেষ্ট্রোটরনের মাত্রা কম, যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেশি, প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা অশ্বাভাবিক বেশি। সিলিয়াক ডিজিজ অথবা ক্রোনস ডিজিজ।

অস্টিওপোরোসিস নির্ণয়ের পরীক্ষাঃ

ক্লিনিকাল উপসর্গ এবং স্বাভাবিক পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে, ডাক্তার আপনার শারীরিক বিভিন্ন ক্লিনিকাল উপসর্গ পর্যবেক্ষন করে, আপনার অস্টিওপোরেসিস নির্ণয় করতে পারেন।

X-ray.

MRI.

Bone Density Examination.

Blood Test.

অস্টিওপেরোসিস চিকিৎসাঃ

✔ অস্টিওপোরোসিসে ব্যথা-বেদনা কমাতে রিহেব-ফিজিও অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন চিকিৎসা। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ব্যায়াম হাড়, জোড়া ও মাংসপেশীর সচলতা বাড়ায় ও মানুষকে কর্মক্ষম রাখে।

✔ সঠিক সময়ে অসিটওপোরোসিসের চিকিৎসা না নিলে দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক বিবেচনায় দুঃসহ জীবন যাপন করতে হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি পাঁচজনে একজন রোগী হাড় ভাঙার এক বছরের মধ্যে মারা যায়। কাজেই অীস্টওপোরোসিসের চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তার দিকে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। জীবনযাত্রার সঠিক নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত।

✔ নিয়মিত ব্যায়াম করা।

✔ ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করা।

✔ শরীরে ওজন কমানো, ফাস্টফুড ও চর্বিজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলা।

✔ পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ছোট মাছ, দুধ, ডিম ইত্যাদি গ্রহণ করা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ ট্যাবলেট যেমন-Labcal D গ্রহণ করা যেতে পারে।বয়স্ক পুরুষ বা নারী এবং মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাড় ক্ষয় প্রতিরোধকারী ওষুধ যেমন- বিসফসফোনেট, এলেনড্রোনিক এসিড, ইবানড্রোনিক এসিড, জোলেনড্রোনিক এসিড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

✔ অস্টিওপোরেসিসে হাড়ের ঘনত্ব কামে হাড় ছিদ্রযুক্ত, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে এর পতিরোধ বা চিকিৎসা না নিলে একান্ত বাক্তিগত কাজকর্ম যেমন- নামাজ পড়া,গোসল করা, টয়লেটে যাওয়া, হাঁটা চলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজেই অস্টিওপেরোসিস সম্পর্কে আমাদের সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*