শরীরে ভুট্টার উপকারিতা

শরীরে ভুট্টার উপকারিতা

ভুট্টার স্বাস্থ্য গুণ অনেকেরই অজানা। এটিকে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানের প্যাকেজ বলে আখ্যায়িত করা যায়। স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভীষণ উপকারী ভুট্টাকে নানাভাবে খাওয়া যায়- স্যুপ,সালাদ,নাস্তা হিসেবে অথবা অনান্য খাবারের সাথে যোগ করে। যা পুষ্টি করে দ্বিগুণ যেমনঃ নুডলস এর সাথে। তাছাড়া শারীরিক ও মানসিক শক্তির একটি বড় উৎস ভুট্টা।

খেলোয়াড়দের জন্য এটি বেশি জরুরী। কেননা তাদের শারীরিক কসরতের কারণে যে পরিমান শক্তি ক্ষয় হয়। তা পূরণে এটি খুবই সহায়ক। যা কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে থাকে। জানা যাক তার নানবিধ উপকারিতা।

Please Subscribe Us!

শরীর এবং মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে

ভুট্টায় উপস্থিত ভিটামিন বি, থিয়ামিন এবং নিয়াসিন ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রেন সেলের গ্রোথেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এই প্রকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত খাওয়ার অভ্য়াস করলে কোনও ধরনের ব্রেন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এই পুষ্টিকর উপাদানগুলি শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতেও সাহায্য করে। তাই তো নিয়িমত ভুট্টা খেলে শরীর এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও চিন্তাই থাকে না।

খনিজের ঘাটতি দূর করে

ছোট্ট হলুদ ভুট্টার শাঁসে এত বেশি খনিজ থাকে যা আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না! শরীরকে সচল এবং রোগমুক্ত রাখতে যে যে খনিজের প্রয়োজন পরে, তার বেশিরভাগই মজুত রয়েছে ভুট্টায়। যেমন- ফসফরাস,  ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক এবং কপার প্রভৃতি। সেই সঙ্গে রয়েছে সেলেনিয়ামের মতো উপকারি খনিজও। তাই তো নিয়মিত ভুট্টা খেলে শরীর বাবাজিকে নিয়ে আর কোন চিন্তা থাকে না।  এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও কপার থাকে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফসফরাস থাকে যা স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়। এই খনিজ উপাদানটি শুধুমাত্র হাড়ের ফাটল রোধ করেনা বরং কিডনির স্বাভাবিক কাজ বৃদ্ধি করে।

কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা দূর করে

ভুট্টার ভেতরে উপস্থিত ফাইবার শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন পাকস্থলির কর্মক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি শরীরের বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে বদ-হজমের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, ফাইবার, নানাবিধ ক্যান্সারকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে

বর্তমান যেহারে ক্যান্সার রোগের প্রকাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভুট্টা খাওয়া প্রয়োজনও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আসলে ভুট্টার শরীরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের অন্দরে প্রবেশ করার পর ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে শুরু করে। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। প্রসঙ্গত, ভুট্টায় ফেরলিক অ্যাসিড নামক একটি উপাদান থাকে, এটি আসলে একটি অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক প্রপাটিজ, যা টিউমার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভুট্টা থেকে তৈরি কর্ন অয়েল খাওয়া শুরু করলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরেলর মাত্রা কমাতে শুরু করে। সেই সঙ্গে তেলটিতে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

অ্যানিমিয়া রোগকে দূরে রাখে

শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে অ্যানিমিয়া রোগের প্রকোপ কমাতে ভুট্টা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে কোষের গঠনেও সাহায্য করে। তাই এর পর থেকে কোনও সময় যদি রক্তাল্পতার মতো সমস্যায় আক্রান্ত হন, তাহলে ভুট্টা খেতে ভুলবেন না যেন!

গর্ভাবস্থার জন্য অত্যাবশ্যকীয়

ফলিক এসিডের চমৎকার উৎস বেবিকর্ণ এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় খুবই সাধারণ একটি অভিযোগ হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। তাই গর্ভবতী মহিলাদের খাদ্যতালিকায় বেবিকর্ণ যুক্ত করাটা জরুরী।

Please Subscribe Us!

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

ভুট্টা ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড ও বায়োফ্লাভোনয়েডস এ সমৃদ্ধ যা রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জার্নাল অফ নিউট্রিশনাল বায়োক্যামিস্ট্রির মতে, ভুট্টার তুষের তেল গ্রহণ করলে প্লাজমার এলডিএল কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমে শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কমানোর মাধ্যমে।

অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে

বেবি কর্ণে ভালো পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই ভুট্টা খেলে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয় এবং রক্তস্বল্পতা বা অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে।

পরিপাকের উন্নতি ঘটায়

উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে বলে ভুট্টা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ডায়েটিশিয়ান ডা. আস্থা শর্মা বলেন, একটি গবেষণায় কোলন ক্যান্সারের রোগীদের ভুট্টা খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

হাইপারটেনশন কমায়

ফেনলের উপস্থিতির জন্য ভুট্টা খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

বেবি কর্ণের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম বলে ডায়াবেটিস মেলাইটিসের জন্য উপকারি।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়

ভিটামিন এ এর ভালো উৎস হওয়ায় ভুট্টা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে

ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই ফাইবার আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ভুট্টার তৈরি খাবার এবং ভুট্টা খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ।

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে

ভুট্টার রয়েছে কলেস্টোরলের মাত্রা কমিয়ে আনার অসাধারণ গুণ। নিয়মিত ভুট্টা খেলে দেহের কোলেস্টোরলের মাত্রা কমে আসে এবং এতে করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এছাড়াও ভুট্টা কার্ডিওভ্যাস্কুলার যে কোনো সমস্যা থেকে হৃৎপিণ্ডকে রক্ষা করে।

Please Subscribe Us!

স্বাস্থ্যকর নাশতা

ভুট্টা সাধারণত রোস্ট বা স্টেম করে খাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন খেলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা লাগবে না। চাইলে ভুট্টা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গ্রিল করেও খেতে পারেন।

পুষ্টিগুণে ভরা

ভুট্টা আঁশে ভরা। এতে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে। এতে বায়োফ্লাভোনয়েডস ও ক্যারোটিনয়েডসের মতো প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখে।

রোগবালাই দূর করে

শীতকালে শরীরে নানা রকম রোগবালাই দেখা দিতে পারে। গরম-গরম ভুট্টা খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। বর্ষার সময় যেসব রোগ ছড়ায়, তা থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে ভুট্টা দারুণ কার্যকর।

মৌসুমি শস্য

মৌসুমি শস্য হিসেবে ভুট্টা খেতে পারেন। ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূরে রাখে।

রুচিবর্ধক

বর্ষায় ঘরে বা বাইরে সময় কাটাতে ভুট্টা ও চা খেতে পারেন। চায়ের আড্ডা জমতে পারে ভুট্টা দিয়ে।

হজমে সহায়ক

ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমে সহায়তা করে।

রক্তাল্পতা দূর হয়

ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন বি১২ বর্তমান, যা নতুন রক্তকোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে রক্তাল্পতা দূর হয়।

প্রচুর শক্তি

প্রচুর শর্করা থাকে বলে দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যক্রমের সহায়ক। এক কাপ ভুট্টায় ২৯ গ্রাম শর্করা থাকে। অ্যাথলেটদের জন্য ভুট্টা উপকারী। ব্যায়াম শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভুট্টা খাওয়া উচিত।

বাজে কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রক

এলডিএল নামে শরীরে যে বাজে কোলস্টেরল থাকে, ভুট্টা তা দূর করতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে

ভুট্টার হলুদ দানাগুলোয় ক্যারোটিনয়েডস থাকে। ভুট্টার ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতেও সাহায্য করে।

Please Subscribe Us!

ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেগুনি ভুট্টা

বেগুনি ভুট্টা অনেক দেশে নীল বা লাল ভুট্টা নামেও পরিচিত। এ ভুট্টার দানা বা কার্নেল গাঢ় বেগুনি রঙের হওয়ায় একে পারপাল ভুট্টা বলে। পেরু, বলিভিয়া, ইকোয়েডর, চিলি প্রভৃতি দেশে বেগুনি ভুট্টা হতে বেগুনি রঙের এক ধরনের স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি হয় যার নাম ছিছিয়া মোরাডা। ভুট্টার আটা হতে বেগুনি রঙের রুটি, কেক, পুডিংও তৈরি করা যায়। এ বেগুনি ভুট্টার এ্যান্থোসায়ানিন ২০ শতাংশ ক্যান্সারের সেলকে ইন- ভিট্রো অবস্থায় মেরে ফেলতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও ফুলে যাওয়া এ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান ২০১৫ সাল হতে বেগুনি ভুট্টার জাত উদ্ভাবনে গবেষণা করে আসছেন। দীর্ঘ গবেষণার ফলস্বরূপ বর্তমানে ড. জামিলুর রহমান বেগুনি ভুট্টার কিছু ফলনশীল অগ্রসারী লাইন উদ্ভাবন করেছেন। এ সমস্ত বেগুনি ভুট্টার দানা গাঢ় বেগুনি রঙের এবং এমনকি সম্পূর্ণ ভুট্টা গাছের রঙ গাঢ় বেগুনি বর্ণের হয়। এমনকি ভুট্টার পুরুষ ফুল (টাসেল) এবং স্ত্রী ফুলও (কবস) সম্পূর্ণ বেগুনি বর্নের হয়। এ বেগুনি ভুট্টার ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৬ টন। রবিতে ১১০-১১৫ দিনে ও খরিপে ৯০-৯৫ দিনে ভুট্টা সংগ্রহ করা যায়। এ বেগুনি ভুট্টার চাষ প্রণালী অন্য ভুট্টার মতোই একই রকম। ড. জামিলুর রহমান আশা করছেন ২০১৯ সালের মধ্যে আগ্রহী কৃষকের মধ্যে এ বেগুনি ভুট্টার বীজ সরবরাহ করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে প্রফেসর ড. জামিলুর রহমান জানান, বেগুনি বা পারপাল ভুট্টার রঙের জন্য দায়ী এক শ্রেণীর পানিতে দ্রবীভূত পলিফেলোলিক জাতীয় ফ্লাভিনায়েড শ্রেণীর এন্থোসায়নিন যৌগ যা এ জাতীয় ভুট্টাকে অন্য ভুট্টা হতে স্বতন্ত্র, দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যকর করেছে। সায়ানিডিন-৩-গ্লুকোসাইড নামক এক প্রকার রাসায়নিক রঞ্জক বেগুনি ভুট্টার প্রধান উপাদান। তিনি আরও জানান, গবেষণায় দেখা গেছে ১০০ গ্রাম বেগুনি ভুট্টার আটায় প্রায় ৬২.৭ মি.গ্রা. এন্থোসায়ানিন পাওয়া যায়। যেসব ভুট্টার বীজের আবরন ও এলিয়োরন বেগুনি রঙের হয় সে সব ভুট্টাতে অধিক পরিমাণে ১৪১.৭ মি.গ্রামেরও বেশি এ্যান্থোসায়ানিন থাকে। দক্ষিণ আমেরিকা মোরাডা নামক বেগুনি ভুট্টার স্থানীয় জাতে প্রতি ১০০ গ্রাম আটাতে ১৬০০ মি.গ্রাম পর্যন্ত এন্থোসায়ানিন পাওয়া গেছে।

উদ্ভিদজাত খাবারের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে এন্থোসায়ানিন একটি অন্যতম আকর্ষণীয় পুষ্টি উপাদান যার রয়েছে এ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ অনেক স্বাস্থ্যকর গুণাগুণ। যার কারণে যুগ যুগ ধরে রাজা-বাদশাসহ পুষ্টি সচেতন মানুষেরা বেগুনি, নীল, কমলা, লালসহ নানা রঙের এন্থোসায়ানিন সমৃদ্ধ খাবার খুঁজে বেড়ায়। এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ছাড়াও এ্যান্থোসায়ানিন সমৃদ্ধ খাবারে রয়েছে এ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি, এ্যান্টি-ক্যান্সার, এ্যান্টি-মাইক্রোর্বিয়াল ও এ্যান্টি-এজিং গুণাবলী। এন্থোসায়ানিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, স্থুলতা কমায়, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ রাখে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, স্নায়ু-ক্ষয় জনিত রোগ কে দমন রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও তারুণ্য ধরে রাখে। শরীরে তৈরী হওয়া বিভিন্ন বিক্রিয়ক অক্সিজেন বা মুক্ত মূলকের ক্ষতিকর প্রভাব হতে এ্যান্থোসায়ানিন জাতীয় খাবার দেহকে রক্ষা করে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও দেহকে দীর্ঘ মেয়াদী রোগ হতে রক্ষা করে। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ভুট্টা একটি বহুমুখী শস্যে। পুষ্টিমানে ভুট্টা অনেক শস্যের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। বেগুনি ভুট্টার খাবার মান বিশেষ করে আমিষ ও এ্যান্থোসায়ানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যে ভাল ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা যায়। তাই বেগুনি ভুট্টার উপযুক্ত জাত উদ্ভাবন ও কৃষক পর্যায়ে এর সম্প্রসারণ একান্ত প্রয়োজন।

Please Subscribe Us!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*