পলিওমায়েলাইটিস রোগোত্তর পক্ষাঘাত

পলিওমায়েলাইটিস রোগোত্তর পক্ষাঘাত

পলিওমায়েলাইটিস পলিও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত সংক্রমক রোগ। বাংলাদেশে পঙ্গু ও বিকলাঙ্গের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে পলিওমায়েলাইটিস অন্যতম প্রধান কারণ। এ রোগ শিশুদের হয়ে থাকে। খুবই কদাচিৎ বয়স্কদের হয়ে থাকে। এটা প্রতিরোধ করা যায় এবং কার্যকরী প্রতিষেধক ব্যবস্থা আছে-এ জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক কর্মসূচী মোতাবেক কাজ চলছে। এ রোগে মাংসপেশির সঞ্চালন শক্তি নষ্ট হয়।

কিন্তু অনুভূতি শক্তি স্বাভাবিক থাকে। পলিও ভাইরাস দ্বারা মস্তিস্কের বহিঃস্তর,মস্তিষ্ককান্ড ও মেরুরজ্জুর ধূসর পদার্থ বিশেষ করে সঞ্চালন কেন্দ্রের কোষগুলো দলগত বা বিক্ষিপ্তভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রথম কয়েকদিন মৃদু জ্বরের পর পক্ষাঘাত দেখা দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাংসপেশিগুলো আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগীর মৃত্যু হতে পারে। দেহের বিভিন্ন অঙ্গের বিভিন্ন মাংসপেশি দলগত ও বুদ্ধিবৃত্তি স্বাভাবিক থাকে।পক্ষাঘাগ্রস্ত অঙ্গের নিরাময় প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কয়েক মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত চলতে থাকতে পারে। স্থায়ী অক্ষমতা কোন অঙ্গে বা কোন অংশে কতটুকু হবে প্রাথমিক অবস্থায় বলা কঠিন।

মাংসপেশিগুলোর আংশিক, সম্পূর্ণ বা অসম দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ব্যবহারের জন্য আক্রান্ত অঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বক্রতা, বিকৃতি ও অসামঞ্জস্যমূলক আকৃতি হয়ে থাকে। সূচিকিৎসা ও সুব্যবস্থার অভাবে অক্ষমতা ও বিকৃতির অবনতি বয়ঃবৃদ্ধির সন্ধিকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। রোগের প্রারম্ভ থেকে ব্যবস্থা ও প্রর্যবেক্ষণের আওতায় থাকলে রোগীর অক্ষমতা ও পঙ্গুত্বদশা বহুলাংশে কমিয়ে পূর্ণবাসন সহজতর করা যায়। সেজন্য রোগী আত্বীয়-স্বজন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের সবার সার্বক্ষণিক সচেষ্ট থাকতে হবে ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোগীর অবস্থা, চিকিৎসা পদ্ধতি, অবনতি ও অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে লিখিত রাখতে হবে যাতে পরে অন্য চিকিৎসকের কাছে পূর্বাপর সব তথ্য জানতে কষ্ট না হয়। অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের জন্য বিনা চিকিৎসা বা কুচিকিৎসার শিকার হয়ে শত শত রোগী পঙ্গু ও বিকলাঙ্গ হয়ে পরিবার ও সমাজের কাছে বিরাট দুঃসহ বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিনা চিকিৎসায় উপেক্ষিত ও অবহেলিত হয়ে-হামাগুড়ি দিয়ে, দেহকে টেনে-ছেঁচড়িয়ে ঘুরিয়ে অথবা চতস্পদে চরে রাস্তায়, রাস্তায়, দ্বারে দ্বারে যায় এবং মানুভেষর করুণার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকে এবং ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

অবহেলিত ও উপেক্ষিত পলিওমাইলাইটিস পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর বিভিন্ন বিকৃতি ও ভঙ্গিঃ

এসব পঙ্গু রোগীগুলো আমাদের সব স্তরের লোকের সহানুভূতির সমবেদনাসহ পূর্ণবাসনের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা পেলে নামমাত্র মানুষের মতো বাঁচতে পারে।

যদি এ রোগের প্রাথমিক অবস্থা থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তবে পুর্নবাসনের মাধ্যমে এদের সামান্যতম হলেও উন্নততর জীবন ধারণের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

চিকিৎসা ও পূর্ণবাস পদ্ধতিঃ

১. রক্ষণশীল চিকিৎসা।
২. পিজওথেরাপি।
৩. প্রতিবন্ধী সহায়ক উপকরণ।
৪. শল্য চিকিৎসা।

পূনর্বাসনঃ

১. মাংসপেশি ও গিরার যত্ন নেয়ার জন্য ব্যায়াম মাংসপেশির দুর্বলতা, অসমতা, বিকৃতি ও অঙ্গের আকৃতির অসামঞ্জস্য প্রতিরোধ ও নিরাময়কারী চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম সহায়ক উপকরণ ও শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ সময় পূনর্বাসনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
২. মানসিকভাবে প্রস্তুতিকরণ।
৩. স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কেলিপার, ক্রাচ, ট্রলি, ও হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা।
৪. লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা: সাধারণ বিদ্যালয়ে সুস্থ শিশুদের সঙ্গে অথবা এ ধরনের রোগীদের জন্য তৈরি বিদ্যালয়ে।
৫. দৈহিক প্রয়োজন ও চিত্তবিনোদনের তাগিদে খেলাধুলার ব্যবস্থা করা।
৬. পেশাগত প্রশিক্ষণ-দৈহিক যোগ্যতানুযায়ী বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কাজে নিয়োগ। কাজের মাধ্যমে দৈহিক পুনর্বাসন, মানসিক উৎসাহ ও পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৭. সামাজিকভাবে পুনর্বাসন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*