
জায়ফলের ঔষধি গুণ
ভাষানুযায়ী নাম: বাংলা-জায়ফল, English-Nutmeg. Botanical-Myristica fragrans, Family-Myristicaceae.
পরিচিতি: জায়ফল ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু গাছ। পাতা অনেকটা কাঁঠালপাতার মতো এবং উপরিভাগ সবুজ ও নিচের দিকটা হলুদ ও ধুসর বর্ণের। ছোট হলুদ বর্ণের হালকা সুঘ্রাণযুক্ত ফুল হয় এবং ফল ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা গায়ে ডোরাকাটা থাকে। বর্ষার আগে ফুল এবং পরে ফল হয়।ফল পাকলে ফেটে যায় এবং বীজবরণ থেকে জৈত্রি ঝরে পড়ে। জায়ফল বীজ ও জৈত্রী ব্যবহার হয়।
প্রাপ্তিস্থান: জায়ফল-ভারত,সুমাত্রা,মালয় ও আমেরিকার উষ্ণ প্রধান অঞ্চলে জন্মে।
জায়ফলে বিদ্যমান রাসাফনিক রেডিক্যালগুলো: জায়ফলে রয়েছে ৫-১৫ শতাংশ্ উদ্বায়ী তেল। এই উদ্বায়ী তেলে রয়েছে আলফা-পাইনিন, মাইরিসটিসি, ভোলাটাইল অয়েল, ইউজেনল।
বিভিন্ন রোগে জায়ফলের ব্যাবহার:
ডায়াবেটিস রোগে:
৭৫ গ্রাম জায়ফলের তেল, ৭৫ গ্রাম মেথির তেল, ৬০ গ্রাম ধুতরার তেল, সেইজ গাছের ফুল চূর্ণ ৩০০ গ্রাম, হিমসাগর গাছের পাতার নির্যাস ৪ লিটার একত্রিত করে একটি তামার পাত্রে অল্পতাপে জ্বাল করে উহাতে ৮ গ্রাম স্বর্ণ ও ১২ গ্রাম শোধিত তাম্রচূর্ণ যোগ করতে হবে। ওই উপাদানগুলো যখন আচারের মতো রূপ ধারণ করে তখন পাত্র থেকে নামিয়ে ড্রায়ার মেশিনে শুকায়ে ডাস্ট মেশিনে চূর্ণ করতে হবে। ওই চূর্ণ ৫০০ মিগ্রা আকারের ক্যাপসুলে ভরতে হবে। এই ওষুধ অগ্ন্যাশয়ের বেটাকোষের ওপর সরাসরি কাজ করে।
বেটাকোষ ধ্বংস হওয়াকে প্রতিরোধ করে এবং ধ্বংসকৃত বেটাকোষকে পুনঃসচল করে ইনসুলিন তৈরিতে সহায়তা করে। এ ওষুধ সেবনে প্যানক্রিয়াসের অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট রস নিঃসরণকারী ক্ষতিগ্রস্ত লোবিউল, অ্যালভিওলি ও আইচলেটসকে পুনঃসচল করে তোলে যার কারণে প্যানক্রিয়াস স্বাভাবিকতায় ফিরে আসে। যদি ডায়াবেটিসের মাত্রা ১২-এর ওপরে থাকে এবং রোগী যদি দিনে ২ থেকে ৩ বার ইনসুলিন ব্যবহার করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে এক বেলার ইনসুলিন বা দিয়ে প্রতিদিন সকাল ও রাতে আহারের পর দুটি করে ক্যাপসুল সেবন করতে হবে।এ ওষুধটি আমার সোলমেট গবেষণাগারের সফল গবেষণাকৃত ৯৯%+কার্যকারী সমূলে ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস আরোগ্যকারক। এ ওষুধটি টাইপ-১ ও টাইপ-২ এই দুই প্রকার ডায়াবেটিসই আরোগ্য করতে সক্ষম।
যৌন রোগে:
৪০০ গ্রাম জায়ফল চুর্ণ, ১০০ গ্রাম জাফরান চূর্ণ, ১০০ গ্রাম লতাকন্তরী চূর্ণ, সবগুলো উপাদান একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ৬ লিটার মধুতে জ্বাল করতে হবে। ওই দ্রবন যখন আচারের মতো হয় তখন চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে কাচ/প্লাস্টিক পাত্রে সংরক্ষণ করে চা চামচের ১ চামচ পরিমাণে দিন দু’বার সেবনে পুরুষর কাম শিথিলতানাশক, যৌন উত্তেজক, যৌনশুক্তি বর্ধক, বীর্যগাঢ় ও ঘনকারক, শুক্রাণুবর্ধক ও রতিশক্তিবর্ধক হিসেবে বিশেষ কার্যকারী। এটি মহিলারা সেবন করলে তাদেরও যৌনশক্তি বৃদ্ধিসহ যৌনাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।
প্যারালাইজড রোগে:
৮০০ গ্রাম জায়ফল ১ কেজি খাঁটি ঘি দ্বারা উত্তম রূপে ভেজে চূর্ণ করে এতে ২০০ গ্রাম শোধিত শিলাজুত যোগ করে ৩ কেজি মধুতে জ্বাল করে আচার বা হালুয়া প্রস্তুত করে চা চামচের এক চামচ পরিমাণে দিনে তিনবার সেবনে সর্বপ্রকারের প্যারালাইজড, প্যারাপেলেজি ও হেমিপ্যারাপেলেজি সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য হয়। এটা ছাড়াও জায়ফলের ২৫ গ্রাম তেল, লবঙ্গের ৫০ গ্রাম তেল, তিল তেল ২০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে অনুভূতিহীন অঙ্গে মালিশ রূপে ব্যবহারে অনুভূতিহীনতা নাশক হিসেবে কার্যকারী।
যকৃত রোগে:
৫০০ গ্রাম জায়ফল চূর্ণ, ৩০০ গ্রাম দারুহরিদ্রা চূর্ণ, ৫০০ গ্রাম কাঁচা ধনের রস, ৫০০ গ্রাম কাঁচা আদার রস ও ২ কেজি খাটি মধু একত্রে জার করে হালুয়া প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে সেবনে যকৃতের দুর্বলনাশক, যকৃতের শক্তিবর্ধক হিসেবে বিশেষ কার্যকারী।
বাত রোগে:
৩০০ গ্রাম জায়ফল চূর্ণ, ১৫০ গ্রাম বিষ কচু চূর্ণ, ৭৫ গ্রাম শোধিত অভ্য চূর্ণ, ৫০ গ্রাম শোধিত ধুতরা বীজ, ১০০ গ্রাম শোধিত কুচিলা বীজ চূর্ণ সবগুলো উপাদান একত্রিত করে ৫ লিটার কাঁচা অর্শ্বগন্ধার নির্যাসে জ্বাল করে শুকিয়ে চূর্ণ করে বাবলার গাম যোগ করে ৩০০ মিগ্রা আকারের বড়ি/ট্যাবলেট প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকালে ও রাতে আহারের পর একত্রে দু’টি করে বড়ি/ট্যাবলেট সেবনে সর্বপ্রকারের বাত-ব্যাধি নাশক, ক্যালসিয়মের অভাব পূরণ কারক, হাড় ক্ষয়নাশক, নার্ভ ও আর্টারির ব্যথানাশক, মাংসপেশির ব্যথানাশক হিসেবে বিশেষ কার্যকারী। ওষুধটি সেবনকালে এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা ওষুধ সেবন করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ শরীর ও মস্তিষ্কে পরিবর্তন আনে মাশরুম।
গণসচেতনায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
