রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা সেবার অনন্য নাম ‘ডিপিআরসি হাসপাতাল’

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা সেবার অনন্য নাম ‘ডিপিআরসি হাসপাতাল’

রিহেব-ফিজিও একটি মডার্ন চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে বিনা অপারেশনে চিকিৎসা দেয়া হয়। বাত ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড়, পিঠ, মেরুদণ্ডের ব্যথা, হাড়ে আঘাত পাওয়া, ট্রমাটিক রোগ, ডায়াবেটিকসজনিত শারীরিক অক্ষমতা, স্পোর্টস ইনজুড়ি, হাড় ক্ষয় রোগ, শিশুদের বাত ব্যথাজনিত রোগ,

পঙ্গুত্ব, প্যারালাইসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস ইত্যাদি রোগের বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসা হলো রিহেব-ফিজিও। উন্নত বিশ্বে এ চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু হয়েছে একশত বছর আগে। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় তৃতীয় বিশ্বের দেশে এই চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপক বিকাশ ও সমৃদ্ধি এখনো ঘটেনি।

অনেক বৃত্তশালী আছেন যারা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেবার সামর্থ ছিল। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা এসব চিকিৎসা কেন্দ্রের অভাবে শুধু ব্যথার ঔষধ খেয়ে পঙ্গুত্ব এবং শারীরিক অক্ষমতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হতো।

কিন্তু একজন মানুষ প্যারালাইসিস হয়ে পরিবারের উপর নির্ভর করে জীবিত অবস্থায় মৃতের মতো বেঁচে থাকতে পারেনা। তার আবার একজন লোক যে নিজেই নিজেকে চালাতে পারেনা। পরিবারে আয় করে সহযোগিতা করা তো অসম্ভব। সে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে সে শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পরে।

তাই আমাদের সমাজের এই সমস্ত পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং প্যারালাইসিসের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেয়ায় আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করে ঢাকা পেইন ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার লিমিটেড ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব (ডিপিআরসি)। যা ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত।

স্বপ্ন ও বাস্তবায়ন

আলোক উজ্জল দীপ্ত প্রাণ চঞ্চল চিকিৎসক ব্যক্তিত্ব ডা: মো: সফিউল্যাহ প্রধান। ছোট বেলা থেকে তাঁর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো ২০০০ সালে রিহেব-ফিজিও এর ওপরে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে ঢাকার শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ঢাকা পেইন ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার লিমিটেড ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব (ডিপিআরসি)।

ডিপিআরসি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা :

ডিপিআরসি হাসপাতাল তিন ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে।

– ইনডোর

– আউটডোর

– এবং কাউন্সেলিং।

ইনডোরে সাধারণত ৫০ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়ে থাকে। যেখানে তাদের সঠিক রোগ চিহ্নিত করে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করাই আমাদের ইনডোর চিকিৎসা পদ্ধতি। কিছু রোগী রয়েছে যাদের ভর্তির দরকার হয় না। যারা থেরাপি এবং পরামর্শ নিয়ে চলে যায়। মূলত এদের জন্য আউটডোরের ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশ ও দেশের বাইরে অনেক রোগী আছে তাদের পক্ষে সরাসরি আমাদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ঐ সমস্ত রোগীকে আমরা ফোনের মাধ্যমে অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তার রোগ সম্পর্কে জেনে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। যার ফলে তারা দূরে থেকেও আমাদের চিকিৎসা সেবা পেয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের হতাশ দূর হচ্ছে এবং তারা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে। একে আমরা কাউন্সেলিং বা টেলিমেডিসিনও বলে থাকি।

রিহেব-ফিজিও কি:

রিহেব (পুনর্বাসন) এবং ফিজিও (শারীরিক) শব্দ দুটি মিলে রিহেব-ফিজিও বা শারীরিক পুনর্বাসন চিকিৎসার। শুধুমাত্র ঔষধ এইসব রোগের পরিপূর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা থেকে যেসব রোগের সৃষ্টি হয়, তার পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভের উপায় রিহেব-ফিজিও। প্রাচীন গ্রীসে হিপোক্রেটাস ম্যাসেজ ও ম্যানুয়াল থেরাপি দ্বারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালে বিদেশী ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসার সূচনা হয়। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর স্বাস্থ্য সমস্যা (প্রধানত বাত-ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথা, প্যারালাইসিস ইত্যাদি) নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন।

রিহেব-ফিজিও পদ্ধতি:

-ম্যানুয়াল থেরাপি

-ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি

-মোবিলাইজেশন

-মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন

-থেরাপিউটিক এঙ্গারসাইজ

-ইনফিলট্রেশন বা জয়েণ্ট ইনজেকশন

-পশ্চারাল এডুকেশন

-আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সী

-হাইড্রোথেরাপি

-ইলেকট্রোথেরাপি বা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসা।

-কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগ্স বা ঔষধ।

কাদেরকে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা দেওয়া হয়:

১। বাত-ব্যথা, ২। কোমড় ব্যথা, ৩। ঘাড় ব্যথা, ৪। হাঁটু অথবা গোড়ালীর ব্যথা, ৫। আঘাত জনিত ব্যথা, ৬। হাড় ক্ষয় জনিত রোগ।, ৭। জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, ৮। স্ট্রোক, ৯।প্যারালাইসিস জনিত সমস্যায়, ১০। মুখ বেঁকে যাওয়া বা ফেসিয়াল পালসি, ১১। বিভিন্ন ধরনের অপারেশন পরবর্তী সমস্যায়, ১২। আইসিইউ তে অবস্থানকারী রোগীর জন্য, ১৩। পা বাঁকা (ক্লাবফিট), ১৪। গাইনোকলজিক্যাল সমস্যায়, ১৫। সেরিব্রাল পলসি (প্রতিবন্ধী শিশু), ১৬। বার্ধক্যজনিত সমস্যা।

রিহেব-ফিজিও বর্তমান অবস্থা :

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বর্তমানে বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও স্পোর্টস ইনজুরির ক্ষেত্রে অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ফিজিওথেরাপি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে ।

বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বাত ও ব্যথা’র চিকিৎসায় কিছু ভিটামিন ছাড়া অন্য যেসব ব্যথার ওষুধ সেবন করা হয় তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় কিডনি ডেমেজসহ আরো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ব্যথা প্যারালাইসিস এবং স্পোর্টস ইনজুরির চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি বর্তমানে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত উন্নত পদ্ধতি। এ চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনও ব্যাপক বিকাশ লাভ করেনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা এবং উন্নতমানের হাসপাতাল অপ্রতুল।

অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় রিহেব-ফিজিও ভূমিকা

রিহেব-ফিজিও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। যা অতি প্রাচীনকাল থেকেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ করে হাড় জোড়া, মাংসপেশি ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা হ্রাস বা লোপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসায় এসেছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও আধুনিকতা, ব্যপ্তি সর্বক্ষেত্রে। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের এর ক্ষেত্রে রিহেব-ফিজিও ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সামিটের আলোচিত অসংক্রামক রোগের ক্যান্সার ছাড়া অন্য সব রোগ যেমন- হৃদরোগ, বাতব্যথা, বক্ষব্যাধি, ডায়াবেটিকসসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ ফিজিক্যাল ইনেকটিভিটি এবং ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটির মাধ্যমে প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা যায় যা অনেক গবেষণার প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণার প্রকাশিত বিশ্বে প্রতি বছর ৭.৬ মিলিয়ন (মোট মৃত্যুর-১৩%) মানুষ ক্যান্সারে মারা যায় এবং ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি বাড়িয়ে ৩০% মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। আরেকটা গবেষণায় প্রকাশিত সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরণের ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি ৩৪% কোলোন এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের মৃত্যুও হার কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ রিহেব-ফিজিও পেশার একাল- সেকাল:

জীবন ও জীবিকার জন্য ভাব, আদান-প্রদানের জন্য যোগাযোগের জন্য শরীরকে সচল, গতিশীল ও কর্মঠ রাখতে শারীরিক মুভমেন্টের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে কোনো বয়সে যে কোনো কারণে শারীরিক মুভমেন্টের সমস্যাগুলির ক্রমবর্ধমান উর্ধ্ব গতিকে কেন্দ্র করে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে খুবই দ্রততার সঙ্গে।

বিশ্বব্যাপী নন-কমিউনিক্যাবল ডিজিজেস, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস, ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগজনিত কারণে মুভমেন্ট সমস্যাগ্রস্থ ও শারীরিক রোগীদের অতি দ্রত বৃদ্ধিকে একবিংশ শতাব্দীতে স্বাস্থ্য সেবার সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা ও শিক্ষার আধুনিকায়নের মাধ্যমে এর যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ এ রোগ সমুহের মহা প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি একদিকে যে হারে দিনে রাতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক ও মানুষ সৃষ্টি দুর্যোগ লেগেই আছে। এমনি অবস্থায় এ ধরনের রোগীদের সংখ্যা যে কত তারও কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই, যদিও কিছু পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের শতকরা ১০ ভাগ মানুষ বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধী।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অবসানের পর হাজার হাজার যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ও জন সাধারণের চিকিৎসা ও পুনবার্সনে ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রয়োজন দেখা দিলে বিভিন্ন দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবী ফিজিওথেরাপিস্ট এনে সাময়িকভাবে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করা হয় এবং জরুরী ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার রিহেব-ফিজিও সিলেবাসের সমম্বয়ে একটি সিলেবাস প্রণয়ন করে সরকারী অনুমতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তদানীন্তন পরিচালক Prof. Dr. R.J. Gust সাহেব ১৯৭৩ সনে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা শিক্ষার ডিগ্রী চালু করেন।

তখন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টি হতে এমবিবিএস ও বিডিএস এর ন্যায় রিহেব-ফিজিও বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি (BPT) এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়, যাহা বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটর) এ পরিচালিত। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে রিহেব-ফিজিও বিভাগ চালু হয়।

যেখানে দেশী-বিদেশী ফিজিওরা কর্মরত ছিলেন। তারপর বিদেশীদের চলে যাওয়া আর দেশি ফিজিওদের সবাই ক্রমান্বয়ে অবসর গ্রহণ করেন। তাই সরকারী হাসপাতালগুলোতে ফিজিওথেরাপি বিভাগে লক্ষ্য করা যায় সেখানে কোনো ডিগ্রীধারী ফিজিওথেরাপিস্ট নেই। শুধু ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ২/৩ জন আছেন।

যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে ১২০০ জনের অধিক বিপিটি ডিগ্রীপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট বেসরকারী পর্যায়ে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন।

ফিজিওথেরাপিস্ট কে?

যিনি সরকার অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন, তিনিই ফিজিওথেরাপিস্ট। (সূত্র: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন অব ফিজিক্যাল থেরাপি, বাংলাদেশ সরকারের ১৯৮৫ গ্যাজেট নোটিফিকেশন, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সাময়িক বিধিমালা)

ফিজিওথেরাপি টেকনিশিয়ান কে?

যিনি সরকার অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান হতে ডিপ্লোমা ইন হেলথ্ টেকনোলজি (ফিজিওথেরাপি) কোর্স সম্পন্ন করেছেন তিনি ফিজিওথেরাপি টেকনিশিয়ান বা এসিসটেন্ট।তিনি কোনো ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করতে পারবেন।

সাক্ষাতকার:

এদেশে রিহেব-ফিজিও নবীণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। দেশে যে কয়েকজন চিকিৎসকের হাত ধরে এগিয়ে চলছে রিহেব-ফিজিওর চিকিৎসা পদ্ধতি তার মধ্যে ডা: মো: সফিউল্যাহ প্রধান অন্যতম। তিনি ২০০৮ সালে ঢাকায় (শ্যামলীতে) প্রতিষ্ঠা করেছেন ঢাকা পেইন ফিজিওথেরাপি এন্ড বিহেবিলিটেশন সেন্টার ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব (ডিপিআরসি)।

বর্তমানে যা একটি সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের রিহেব-ফিজিও হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ ডা: মো: সফিউল্যাহ প্রধান বাংলাদেশে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা, চিকিৎসা শিক্ষার নানাদিক এবং ঢাকা পেইন রিহেব-ফিজিও এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টারের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তা এখানে উপস্থাপন করা হলো।

প্রশ্ন: ব্রেইন স্ট্রোক হলে রিহেব-ফিজিও’র চিকিৎসার মাধ্যমে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব?

ডা: মো: সফিউল্যাহ প্রধান: ব্রেইন স্ট্রোক চিকিৎসা দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত- তাৎক্ষণিকভাবে রক্তক্ষরণ হয়ে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়া। ২য় হলো- মস্তিষ্কের রক্তনালী শুকিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়া। এই ধরণের রোগী ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

বলতে গেলে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই ধরনের রোগীর পরিমাণ আনুপাতিক হারে বেশী। এতে করে সামাজিকভাবে মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। যে পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষটি ব্রেইন স্ট্রোক করলো সে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। হঠাৎ করে স্ট্রোক করা রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দেশে রয়েছে।

তেমনি আস্তে আস্তে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের জন্যও চিকিৎসা রয়েছে। এক্ষেত্রে রোগী বুঝতে পারেন যে তিনি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ সময়ে শরীরের একপাশ বিশেষ করে বাম অংশ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই অবস্থা থেকে পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি অবস হয়ে যায়। রোগী যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে আসবে ততই চিকিৎসা সহজ হবে। এ সময় রোগীর প্রচুর বমি হয় এবং জ্বরের সাথে শরীরে খিচুনী হতে পারে। মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিড়ে যেতে পারে এবং রোগী ব্রেইন স্ট্রোক করে কোমায় চলে যেতে পারে এমনকি মারাও যেতে পারে।

আমরা চেষ্টা করি যেনো রোগী পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। যেভাবে আক্রান্ত হওয়ার আগে সচল ছিল। তবে এই প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। এক থেকে দু’মাসের মধ্যে সঠিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। আমরা এই রকম অসংখ্য রোগী পুনর্বাসন করেছি।

স্ট্রোকের কারণে রোগীর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ডায়াগনসিস করা জরুরী। আমরা সাধারণত সিটিস্ক্যান করে থাকি। কম খরচে এই টেস্ট এর মধ্য দিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করা হয় এবং আমরা সে মোতাবেক চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

একটি কথা না বললেই নয়, মানুষ মনে করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়া এক ধরনের অভিশাপ আর এই কারণে রোগীকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। তারা মানসিকভাবে আক্রান্ত হতো। আসলে এই ধারণ সম্পূর্ণ অজ্ঞানতা এবং কুসংস্কার। কেউ আক্রান্ত হলে তাকে রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট আসতে হবে। আমরা পুনর্বাসনের প্রত্যাশায় সব ধরণের ব্রেইন স্ট্রোক এবং রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা দিচ্ছি। যেকোনো বয়সের রোগী এখানে সেবা পাচ্ছেন। আমরা প্রথমেই চেষ্টা করি যেন রোগী নিজের চলাফেরা, নিজের খাওয়া দাওয়া, কাপড় পড়াসহ প্রাথমিক কাজগুলো করতে পারেন।

প্রশ্ন: ব্যথানাশক ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকা, এ নিয়ে গবেষণ করা এবং খাদ্যভাস পরিবর্তনে কিছু বলবেন কি?

ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান: এখন দেশে অনেক সচেতনতা এসেছে। পত্র পত্রিকা ও টেলিভিশনে নানামুখী চিকিৎসা বিষয়ক প্রোগ্রাম প্রচারের কারণে এখন মানুষ ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে আগের তুলনায় সচেতন হচ্ছে। আমরা গবেষণা করে দেখেছি যাদের ব্রেইন স্টোক করে এবং হার্ট এট্যাকে আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে অধিকাংশ রোগী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অধিক পরিমাণ পেইন কিলার বা ব্যথার ঔষধ সেবন করেছে। এ থেকে তাদের শরীরে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে।

আমরা দেখেছি এ ধরনের রোগীদের হার্টের নানারকম সমস্যা এবং কিডিনি ডেমেজ হওয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। গ্যাসটিক আলসার লিভার ডেমেজ হওয়া, অন্ধত্ব বরণ করা, হাত পা ফুলে যেতে পারে। ঔষধ সেবন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ধুমপান ছাড়তে হবে, লাল মাংস না খাওয়া এবং বিভিন্ন উত্তেজনাকর ঔষধ সেবন ত্যাগ করতে হবে। এগুলো নিরব ঘাতক যা জীবন নাশ করে। বিশেষ করে মোটা শরীরের লোকদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশী।

এই জন্য শরীরের ওজন কমাতে হবে এবং চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে স্ট্রোক করার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য খাদ্যভাস পরিবর্তন দরকার। মনে রাখতে হবে ১৮ বছর বয়সের পর খাদ্যভাস পরিবর্তন জরুরী। প্রাকৃতিক সবজি ও মৌসুমি ফল বেশি করে খেতে হবে। বয়স যত বাড়বে ততই প্রাকৃতিকে ধারন করতে হবে। নারীদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই তাদেরকে যোগ ব্যায়াম ধারণ করতে হবে। চর্বিমুক্ত জীবন গড়তে হবে।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে আমরা মনে করি বাংলাদেশে রিহেব-ফিজিও উন্নত চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে আরো গবেষণা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরী। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে রিহেব-ফিজিও শিক্ষার উপর সিলেবাস থাকতে হবে। উন্নত যন্ত্রপাতি, ঔষধ এবং হাসপাতাল দেশে হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত প্রচুর রোগী শহর এবং গ্রামে সর্বত্রই বাড়ছে। অথচ দক্ষ এবং উচ্চমানের চিকিৎসক গড়ার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে যাব কেন? আমি এ বিষয়ে সরকারের জোরালো উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি, তা একটি সুন্দর ভবিষ্যত এর প্রয়োজনেই ।

প্রশ্ন: মানুষ তার জীবদ্দশায় কোনো না কোনো সময়ে কোমড় বা ঘাড়ে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন, এই ব্যথা কতটা মারাত্মক?

ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান: বেশির ভাগ ঘাড় ব্যথা খুব সাধারণ কারণে হয়। কিন্তু সাধারণ ব্যথাই মানুষকে ভীষণ বিপদে ফেলে দেয়- অনেকে শয্যাশায়ী হযে পড়েন বা স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পারেন না। তাই ঘাড় ও কোমর ব্যথা অবহেলার বিষয় নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগী অনেক কষ্ট পেতে পারেন, এমনকি অপারেশনের টেবিলে পর্যন্ত যেতে হতে পারে।

প্রথমে কোমর ব্যথার কথায় আসি-কোমরের গঠনতন্ত্র থেকে দেখা যায়, মেরুদণ্ডের পাঁচটি হাড় নিয়ে কোমর গঠিত। প্রতি দুটি হাড়ের মধ্যবর্তি স্থানে থাকে তালের শাসের মত ডিস্ক। স্পাইনালকর্ড বা মেরুরুজ্জু থেকে স্নায়ু বের হয় তা হাড় ও ডিস্কের সমন্বয়ে গঠিত ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে কোমর নিতম্ব ও পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই হাড় ও ডিস্ক ছাড়াও কোমরের অনেক মাংশপেশী ও লিগামেন্ট রয়েছে। তাই এগুলোর কোনো একটিতে অসামঞ্জস্য তৈরি হলেই কোমর ব্যথা হয়।

প্রশ্ন: কোমর ব্যথার কারণ হিসেবে অনেকে বলেন, হাড় বেড়ে গেছে বা ক্ষয় হয়ে গেছে অথবা অনেকে বলেন হাড় ফাঁকা হয়ে গেছে। আসল ব্যাপারটি কী?

ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান: কোমর ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হল লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস ও পি এল আই ডি। কোমরে হাড়ের ক্ষয় হলে তাকে লাম্বার স্পন্ডাইলিস বলে।এই ব্যাপারটিকে বোঝাতে বিভিন্নজন ক্ষয়, বেড়ে যাওয়া বা ফাঁকা হওয়া বলে থাকেন। তিনটি ব্যাপারই এক।

আরেকটি বিষয় না বললেই নয় তা হলো- হাড় ক্ষয়জনিত কোমর ব্যথা সাধারণত চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে বেশী হয়। তবে পিএলআইডি বা মাংশপেশীতে টানজনিত কোমর ব্যথা যে কোনো বয়সে হতে পারে। এটি রোগীর কাজের ধরণ, খাদ্যাভাস, শরীরের গঠন ও ওজন এমনকি বংশগত কারণের উপরও অনেকাংশে নির্ভর করে। যারা ভারি কাজ করেন বা সারাদিন বসে কাজ করেন এবং যাদের ওজন অনেক বেশি তাদের কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

ঠিকানা:

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি.

১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭।

সরাসরি ফোন: ০৯৬৬৬৭৭৪৪১১, ০১৯৯৭৭০২০০১, ০১৯৯৭৭০২০০২।

মেডিকেলবিডি/এএনবি/ ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − ten =