
একটি ভয়াবহ আতঙ্কের অপর নাম হচ্ছে মেনিনজাইটিস । মেনিনজাইটিস এমন একটি রোগ যে রোগের জীবাণু সাধারণত মস্তিষ্কের এবং মেরুরজ্জুর আবরণীকে আক্রমণ করে । এই মেনিনজাইটি রোগে মৃত্যু অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে যখন এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন চিকিৎসার জন্য সময় থাকে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম। নানা কারণে মেনিনজাইটিস রোগটি হতে পারে, যার মাঝে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ, আঘাত, ক্যানসার এমনকি কোনো কোনো বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও।
প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। দারিদ্র্য, ঘনবসতি এবং উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো থেকে মেনিনজাইটিস জীবাণু বা রোগটি শনাক্ত করা বেশ মুশকিল । আর অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা গেলেও প্রায় ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মাঝেই রোগী মৃত্যুবরণ করে আর ২০ শতাংশ রোগী বেঁচে গেলেও বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধিতা বরণ করে নিতে হয়। সাধারণত বিভিন্ন সমীক্ষানুসারে ৫ বছর বয়সের নিচের শিশুরা আর ১৫-১৯ বছর বয়সের বালক বালিকাদের মাঝে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। মেনিনজাইটিস সাধারণত দুই ধরনের হয়—
০১. ভাইরাল মেনিনজাইটিস
০২. ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস।
সাধারণত কম গুরুতর হয়ে থাকে ভাইরাল মেনিনজাইটিস এবং এই রোগে আক্রান্তের হিসাব করা খুব দু:সাধ্য ব্যাপার। কারণ, উপসর্গগুলো এতটাই হালকা হয় যে একে সাধারণ ফ্লু বলে মনে হতে পারে বা মনে করা হয়ে থাকে। এই দুই প্রকার মেনিনজাইটিসের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্নক ও প্রাণনাশক হলো দুই নাম্বারটি বা ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের সময়মতো এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা করা না হলে, এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটায় এবং মস্তিষ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থায়ীভাবে ক্ষতিসাধন করতে পারে। এই মেনিনজাইটিস ৫ বছরের নিচে শিশুদের সাধারণত আক্রমণ করলেও মাঝে মাঝে এক বছরের কম বয়সের শিশুদের এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের আক্রান্ত করে থাকে।
মেনিনজাইটিসের ব্যাকটেরিয়া বাহন করছে এমন লোকের হাঁচি-কাশির থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তিতে ছড়িয়ে থাকে। বদ্ধ জায়গায় বহু মানুষের অবস্থান এবং খাওয়া বা পানির পাত্র ভাগাভাগি করলে এই রোগ সহজে বিস্তার লাভ করে। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, বমি, মাথাব্যথা এবং পাশাপাশি ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। এবং অন্যান্য লক্ষণগুলোর মধ্যে হলো আলোক সংবেদনশীলতা, নিদ্রাহীনতা, বিভ্রান্তি, বিরক্তিভাব, প্রলাপ বকা এবং পরিশেষে কোমায় চলে যাওয়া। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে সংক্রমণ হলে জীবন রক্ষার্থে হাত-পা বা এর অংশবিশেষ কেটে ফেলতে হতে পারে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, রোগমুক্তির পরও রোগের মারাত্মক কিছু প্রতিক্রিয়া থেকে যায়, যা তার মস্তিষ্ক এবং কিডনির কর্মক্ষমতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস প্রতিরোধে সাধারণত তিন ধরনের টিকা পাওয়া যায়—
০১. মেনিগোকক্কাল মেনিনজাইটিস
০২. নিউমোকক্কাল মেনিনজাইটিস এবং
০৩. হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিউমোকক্কাল মেনিনজাইটিস এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি-এর টিকা শিশুদের বিনা মূল্যে প্রদান করছে। আর মেনিগোকক্কাল মেনিনজাইটিসের টিকা বেসরকারিভাবে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের চেম্বারে পাওয়া যাচ্ছে।
নয় মাস থেকে পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সের যেকোনো সুস্থ ব্যক্তি মেনিগোকক্কাল মেনিনজাইটিসের টিকা নিতে পারে এতে কোন সমস্যা নেই। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, হোস্টেলে অবস্থানরত কিশোর-কিশোরী অথবা বিবিধ কারণে যাদের ঘন ঘন ভ্রমণ করতে হয়, তাদের এই টিকা অবশ্যই নেওয়া উচিত। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস এমন একটি রোগ, যা চিকিৎসার জন্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময় থাকে তাই যথাসম্ভব টিকা নিয়ে সুস্থ থাকুন সুস্থ রাখুন পরিবারকে।
ডাঃ মাহবুব আলম মজুমদার
মেডিসিন ও কিডনী রোগ ইউনিট
মেডিসিন ও কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: সন্ধা ৭টা – রাত ৯টা
(রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতিবার)
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
