স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ও নিরাময়ের উপায়

স্তন ক্যান্সার একটি মারাত্বক ও প্রাণঘাতী রোগের লক্ষণ। “জার্মান ক্যানসার সোসাইটি”- জার্মান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে প্রতি বছর প্রায় সত্তর হাজার নারীর স্তন ক্যানসার রোগ নির্ণীত হয়, যার মধ্যে মারা যায় প্রায় ১৭ হাজার নারীই৷ নারীদের অন্যান্য ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসারেই হয় সবচেয়ে বেশি ৷ এতে মানুষ মারা গেলেও, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই৷ কারণ সময় মতো ধরা পড়লে এ রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ সম্ভব৷

০১। লক্ষণ

স্তনের চামড়ায় ভাজ, লাল হওয়া বা কুচকে যাওয়া, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা বৃন্ত থেকে রস ক্ষরণ হওয়া – স্তনে এ ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার৷ তবে সব টিউমার বা পরিবর্তনই যে ক্যানসারে রূপ নেয়, তা কিন্তু নয়!

০২। মেমোগ্রাফি

‘মেমোগ্রাফি’ এমন একটি পরীক্ষা যাতে স্তনে একেবারে ক্ষুদ্র গিট, চাকা বা মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি ধরা পড়ে৷ তাই সময়মতো মেমোগ্রাফি করানো প্রয়োজন৷ বিশেষকরে ৫০-এর ঊর্ধে যাঁদের বয়স, তাঁদের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটা নিয়মিত করাতে হবে৷ তাছাড়া প্রত্যেক নারীরই বছরে অন্তত একবার স্ত্রী বিশেষজ্ঞের কাছে স্তন ও জরায়ু পরীক্ষা করানো উচিত৷

০৩। নিজেই পরীক্ষা করুন

৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক নারীর নিজেরই নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত৷ এই পরীক্ষা করতে হবে ‘পিরিয়ড’ বা মাসিক হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ মাসে অন্তত একবার৷ স্তনের ওপর থেকে নীচে, নীচ থেকে ওপরে এবং এপাশ থেকে ওপাশ – নানাভাবে স্তন দুটি টিপে পরীক্ষা করতে হবে৷ বোঝার চেষ্টা করতে হবে স্তনের ভেতর শক্ত কিছু আছে কিনা৷ তবে স্তনে গিট, চাকা বা টিউমার আছে কিনা তা বোঝার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াই শ্রেয়৷

০৪। ক্যানসারের জিন

সাধারণত স্তন ক্যানসার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই৷ তবে পরিবারে মা, খালা, ফুপু বা দাদি-নানির স্তন ক্যানসার থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি৷ এমনটা হলে সেক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার সাথে জীবন যাপন করতে হবে৷ অর্থাৎ হেয়ালি না করে নিয়মিত ডাক্তারি চেকাআপ করানো আর পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার৷

০৫। ক্যানসার নির্ণয়ে সবচেয়ে ভালো পন্থা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষকরা সবসময়ই স্তন ক্যানসারের নতুন নতুন জিন খুঁজে পাচ্ছেন৷ তাই এর চিকিৎসাও নির্ভর করে স্তনের টিউমারের ধরণের ওপর৷ মেমোগ্রাফিই ব্রেস্ট ক্যানসার নির্ণয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো পন্থা৷  জার্মানির অন্যতম ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. কার্ল হাইৎস ম্যুলার বলেন স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন৷’’

০৬। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

জার্মান ক্যানসার সমিতির করা এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রতিদিন আধঘণ্টা ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান না করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ইত্যাদি করলে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব৷

০৭। পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হতে পারে

স্তন ক্যানসার কেবল নারীদেরই হয় বিষয়টি কিন্তু মোটেই সঠিক নয়, এটা পুরুষদেরও হতে পারে৷ পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হয়, যদিও তা তুলনামূলকভাবে নারীদের চেয়ে অনেক কম৷ তাই পুরুষদেরও নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করানো উচিত৷ সুস্থ থাকতে নিয়মিত খাবার গ্রহণ করা ও শারীরিক পরিশ্রম করা খুবই ভালো। কিন্তু শারীরিক পরিশ্রিম না হলে ব্যায়াম করতে হবে।

ডাঃ উমা নাগ (শম্পা)
প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: বিকাল ৫টা – সন্ধা ৭ টা
(শনি, সোম, বুধবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*