ব্যথা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ (কুইক পেইন রিলিফ)

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 6.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    6.5K
    Shares

ব্যথা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ (কুইক পেইন রিলিফ)

ভালো করে খোঁজ নিলে দেখা যাবে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একজন করে বাতের ব্যথায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ রকমের বাতের ব্যথার রোগ পাওয়া যায়, তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বাত জনিত ব্যথাকে (arthritis) অন্যান্য রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আবার এমনটাও দেখা যায় বাত বংশগত ভাবেও হয়ে থাকে।

বাত-ব্যথা কি?

‘বাত’ শব্দটি আমাদের সমাজে বহুল আলোচিত শব্দ।

শরীর ব্যথা বিশেষ করে যে কোনও জয়েন্ট বা গিরায় ব্যথা হলেই তাকে আমরা বাত বলে থাকি।

এছাড়া ঘাড় ব্যথা, কোমরে ব্যথা এবং এই ব্যথা হাত কিংবা পায়ের দিকে ছড়িয়ে গেলেও তার নাম হয়ে যায় বাত।

বাতের ব্যথা অমাবস্যায় বাড়ে, পানির জোয়ারে বাড়ে কিংবা শীতে এর প্রকোপ বেশি হয় এমন কথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। আমাদের দেশে অনেক মানুষ বাতের ব্যথায় ভুগছেন। এই ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। ডাক্তারের পরিভাষায় আথ্রাইটিস বলে।

বাত ফলে হাড়ের বিবৃতি ঘটে। পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি ভোগে। খাদ্য তালিকায় অপর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ, ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে সংশ্লেষণ না হওয়া এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম করার ফলে হাড় ক্ষয়ের সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে বেশি পরিশ্রম না করার ফলে স্থূলতা মেনোপোজও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের অন্যতম কারণ বলে ধরা যায়।

ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে যায়, ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজনের চাপ হাড়ের ওপর পড়ে এবং হাড় বাঁকা হতে শুরু করে। এক সময় দ্রুত তা ক্ষয় হতে হতে ভেঙে যায়। বড়দের এ সমস্যাকে অস্টিওম্যালাসিয়া বলে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক, মানসিক শক্তি ও দেহ কোষের কর্মক্ষমতা বা সামর্থ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। টিস্যুর এই সামর্থ্য ক্রমাবনতির হার বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুপাতে হয়। ৫০/৬০ বছর বয়সের ব্যক্তিরা ভুগতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বার্ধক্য জনিত সমস্যা ও জয়েন্ট বা মাংস পেশির ব্যথায় যাকে আমরা সহজ ভাষায় বাত বলে জানি। সাধারণত মহিলাদের ৪০ বছর পর পুরুষরা ৫০ বছর পর বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশের ৫০ উর্দ্ধ জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ লোক ব্যথা জনিত সমস্যায় ভোগেন।

বিশেষ করে যেসব জয়েন্ট শরীরের ওজন বহন করে এবং অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয় যেমনঃ ঘাড়, কোমর, স্কন্ধ বা সোল্ডার জয়েন্ট এবং হাটু ব্যথার রোগী সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বাতের ব্যথার অনেক কারন রয়েছে তার মধ্যে ৯০ ভাগ হচ্ছে “মেকানিকেল সমস্যা”। মেকানিকেল সমস্যা বলতে মেরুদন্ডের মাংস পেশি, লিগামেন্ট মচকানো বা আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিক্স সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তনকে বুঝায়। অন্যান্য কারনের মধ্যে বয়সজনিত হাঁড় ও জোড়ার ক্ষয় বা বৃদ্ধি, রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস বা গেটেবাত, অষ্টিওআথ্রাইটিস, অষ্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পন্ডাইলোসিস, বার্সাইটিস, টেন্ডিনাইটিস, স্নায়ুবিক রোগ, টিউমার, ক্যান্সার, মাংস পেশির রোগ, শরীরে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, শরীরের অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে রোগী তার দেহের জোড়ার কর্ম ক্ষমতা বা নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায় এবং জোড়া সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে রোগী পঙ্গুত্ব বরন করতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন রোগেভোগে শরীরের মাংস পেশী গুলোও শুকিয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসাঃ

তাই বাতের ব্যথা নিয়ে কষ্ট না পেয়ে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাহারা বাতের ব্যথায় ভূগছেন তারা একজন বিশেষজ্ঞ রিহেব-ফিজিও চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শে ভাল থাকতে পারেন। রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন অত্যান্ত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই দেখে শুনে ভাল ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিচের পরামর্শগুলো ঠিকমতো মেনে চললে বাতের ব্যথা থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা সম্ভবঃ

১.ব্যথা বেশী হলে ৭দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিবেন।

২.নিয়মিত রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা নিবেন।

৩.ব্যথার জায়গায় গরম/ঠান্ডা স্যাক দিবেন ১০-১৫ মিনিট।

৪.বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

৫.মেরুদন্ড ও ঘাড় নীচু করে কোন কাজ করবেন না।

৬.নীচু জিনিস যেমন- পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে পিঠ সাপোর্ট দিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে বসবেন।

৭.ফোম ও জাজিমে না শুয়ে উচু শক্ত সমান বিছানায় শোবেন।

৮.মাথায় বা হাতে ভারী ওজন/ বোঝা বহন নিষেধ।

৯.দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করবেন।

১০.রিহেব-ফিজিও চিকিৎসকের নির্দেশমত দেখানো ব্যায়াম নিয়মিত করবেন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two + 18 =