বৃদ্ধাশ্রমে আমরা ক’জন ডাক্তার

বৃদ্ধাশ্রমে আমরা ক’জন ডাক্তার

ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটি ভিডিও চোখে পরে। আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম। যেইখানে অসহায় মানুষ এর বসবাস। একজন ডাক্তার হিসেবে ইচ্ছা হলো একদিন ওদের দেখে আসবো  এবং মেডিকেল চেক আপ দিয়ে আসবো। কথা টা শেয়ার করি ডাঃ শুভ এর সাথে। শুভ ও রাজি হয়ে যায়। কিভাবে যেনো খুজে বের করে ফেলে ঠিকানা। আমাদের ইচ্ছার কথা ও এপ্লিকেশন এর মাধ্যমে জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সেলিনা শেলির কাছে। আমাদের জানাবেন বলে দিলেন। আমরা ও নাছর বান্দা। ফোন দিয়ে বললাম ইচ্ছা টার কথা। রাজি হয়ে গেলেন। তবে সময় বেধে দিলেন ১ ঘণ্টা। ৪০জন এর জন্য ১ঘণ্টা যথেষ্ট নয় তবে আর কথা বাড়ালাম না।

আমি ডাঃ নিশু এবং ডাঃ শুভ রওনা দিলাম চাঁনপাড়া, উত্তরখান (উত্তরা) আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম এর উদ্দেশ্যে। গিয়ে ই বসে পড়লাম তাদের দেখতে। টিভি তে এফ বি তে এবং মানুষ এর মুখে ই শুনেছি এতোদিন। আজ যে চোখে দেখলাম। ইমোশন কে কন্টোল  করে একের পর এক জন কে দেখলাম। বেশির ভাগের ই স্কিন এর সমস্যা। কেনো ই বা হবে না। জীবনের অনেকটা সময় যে রাস্তায় ধুলাবালির সাথে কাটিয়েছেন। রোদ  বৃষ্টি রোগ জীবাণু কোন কিছু থেকে ই তো বাচতে পারেনি। আবার অনেকে বয়সের ভারে ক্লান্ত হয়ে পরেছেন। ডায়াবেটিক,হাই প্রেশার এইসব তো আর লোক দেখে মায়া করে আসে না। পাগলি টা ও মা হয়েছে।শুনেছেন এমন,আর আজ যে আমরা নিজ চোখে দেখলাম।

পাগলি তাই তো নিজের যত্ন ই নিতে পারে না বাচ্চার কি নিবে? আলিফ ৬মাস আগে এই দুনিয়া তে এসেছে আমাদের দেখে ফুকলা দাঁতে হাসি দিচ্ছিলো। এখন হাসতেছে যখন ও বড় হবে তখন পাগলি মা টাক কি প্রশ্ন করবে না কে তার বাবা? পাগলি টা এখন ও চুপ তখন ও নিশ্চয় চুপ ই থাকবে। ইয়া ৪মাস বয়স। মার মতো ই কেনো  জানি সেও নিস্তব। হাতে পায়ে মুখে বিভিন্ন জায়গাই ঘা। বয়সের তুলনায় কেনো জানি বাড়ছে না। কি করে বাড়বে মায়ের যে তার দিকে একটু ও খেয়াল নেই। ১৩ বছরের মুনি কথা বলতে পারেনা। কিন্তু কয়দিন পর পর ই তার খুব মাথা ব্যাথা হয় সাথে হাঁটু ব্যাথা।

ইশারায় বুঝানোর চেষ্টা করলো যদি ঔষধ লিখে দেই,যদি তার ব্যাথা টা একটু কমে। এইভাবে এক এক করে ৩০-৩২জন দেখার পর বাকি ৮-১০জন আর আমাদের সামনে আসে নি।বয়সে নুয়ে পরেছে তাই বেশিরভাগ সময় টা বিছানায় ই থাকেন। ইচ্ছা ছিলো সবাই কে দেখার তাই উঠে যত টুকু পেরেছি তাদের বিছানায় গিয়ে দেখেছি। তাদের বাড়ি নয় এটি তবুও আমাদের বললো  আবার যাওয়ার জন্য। চোখের পানি মুছতে মুছতে মাথায় হাত ভুলিয়ে বললো  আবার যেনো যাই। কবে যাবো প্রশ্ন করতে ভুলেনি অনেকে। কেমন যেনো  এক মায়ার জালে এরা সবাইকে জরিয়ে ফেলে। ৩ ঘণ্টা সময় খুব বেশি নয়। কিভাবে যেনো  কেটে  গেলো। ইচ্ছা করছিলো আরেকটু সময় থাকি। কিন্তু তাদের গোসল এবং খাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিলো অনেকে গোসল এ চলে গিয়েছে। আর যাইহোক ৩ বেলা খাবার তো এরা ঠিক  ই পাই।

পরিচালক সেলিনা শেলি ও অনেক খুশি। তার একটা আফসোস ছিলো এর আগে যারা গিয়েছে একটু দেখে ছবি তুলে ই চলে আসছে। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। তাই আবার কবে যাবো জানতে চাইলেন। প্লান টা আগে থেকে ই ছিলো তবে জানতে চাওয়া টা অনেক আনন্দ দিলো  আমাদের। প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর চায়নিজ মেডিকেল এলোমনাই এর পক্ষ থেকে তাদের কে ফ্রি মেডিকেল চেক আপ এবং প্রয়োজনে যেকোন  স্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগীতা করবে।

তাদের জন্য কিছু করতে পারা টা যে অনেক আনন্দের ব্যাপার সেটা সেখানে যাওয়ার পর আরো ভালভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। ভালো থাকুক এই মানুষ গুলো। জীবনের শেষ ক’টি দিন যেনো  তাদের কষ্ট ছাড়া ই পাড় হয়ে যাই,পাগলি টা ও থাকুক নিরাপদে আপন নিবাসে আপনদের সাথে।

আরও পড়ুনঃ ডাক্তারের গায়ে রুগীর স্বজনের হাত লাগায়- মুমূর্ষ রুগী দেখলেন না ডাক্তার !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*