বংশগত একটি জটিল রক্তরোগ হল হিমোফিলিয়া- জেনে নিন বিস্তারিত

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    19
    Shares

শরীরের কোনো অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা কেটে গেলে সহজে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না। রক্তের মধ্যে কিছু প্রোটিন উপাদান এমনভাবে বিন্যস্ত, যাতে রক্ত তরল অবস্থায় থাকে এবং শরীরের বাইরে কোথাও কেটে বা ছিঁড়ে গেলেও রক্ত আস্তে আস্তে জমাট বেঁধে রক্তপাত হওয়া বন্ধ করে দেয়। সাধারণত হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিশেষ উপাদান থাকে না তাই এ রকমটা ঘটে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়ার এ অস্বাভাবিকতাই হিমোফিলিয়া।

আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন

হিমোফিলিয়া রোগের ধরন

এ রোগের তীব্রতা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন—

  • তীব্র
  • মাঝারি
  • মৃদু

তবে এই রোগ দুই ধরনের হয়। যেমন—

  • হিমোফিলিয়া ‘এ
  • হিমোফিলিয়া ‘বি’

হিমোফিলিয়া ‘এ’

ক্লটিং ফ্যাক্টর ৮-এর ঘাটতিজনিত কারণে হিমোফিলিয়া ‘এ’ হয়। এটাই সাধারণ ফ্যাক্টর, যাতে প্রতি লাখে ১০ জনের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

হিমোফিলিয়া ‘বি’

 ক্লটিং ফ্যাক্টর ৮-এর ঘাটতিজনিত কারণে হিমোফিলিয়া ‘বি’ হয়। এটি সচরাচর দেখা যায় না, যাতে প্রতি লাখে দুজনের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

এর বাহক কে?

আমরা জানি, নারীদের দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। একটি এক্স ক্রোমোজোমে হিমোফিলিয়া জিন না থাকলেও অন্য এক্স ক্রোমোজোমে থাকা জিন ৫০ ভাগ পর্যন্ত ফ্যাক্টর ৮ বা ৯ তৈরি করতে পারে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা তৈরি হয়। হিমোফিলিয়া জিন বহনকারী বেশির ভাগ নারীর আলাদা করে কোনো উপসর্গ লক্ষ করা যায় না। তবে অস্ত্রোপচার হলে অত্যধিক রক্তপাত, ঋতুস্রাবের সময় প্রচুর রক্তপাত এবং গায়ে নীল দাগ দেখে অনেক সময় বোঝা যায়—সেই নারী হিমোফিলিয়ার বাহক। অন্যদিকে পুরুষরা এ রোগে আক্রান্ত হয় বেশি।

হিমোফিলিয়ার ভয়াবহতা

এ রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। তবে এই রোগে সামান্য কাটা-ছেঁড়ায় তেমন সমস্যা হয় না; কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা দেহের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন—অস্থিসন্ধি (হাঁটু, কনুই) মস্তিষ্ক, পেটের গহ্বর ইত্যাদি কেটে গেলে বা সার্জারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

হিমোফিলিয়ার লক্ষণসমূহ

শৈশবকালে বেশির ভাগ হিমোফিলিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় । তবে অনেকের আরো পরে প্রকাশ পেতে পারে। সাধারণত জন্মের ছয় মাস বয়স থেকে অর্থাৎ শিশুটি যখন হামাগুড়ি দিতে শেখে তখন থেকেই কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যা দেখে বোঝা যায় সেই নবজাতকের হিমোফিলিয়া রয়েছে কি না। যেমন

  • দুর্ঘটনা ঘটলে বা শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে অনেক বেশি রক্ত ঝরতে থাকে।
  • এই রোগ থাকলে শিশুদের চলাফেরা বা খেলাধুলার সময় পড়ে গেলে মাংসপেশিতে কালশিরা পড়ে যায়।
  • জন্মের পর নাড়ি কাটার পরও রক্তক্ষরণ হয়।
  • অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ফলে অস্থিসন্ধিতে চাপ পড়ে এবং ক্ষয় হয়।
  • পেশির অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ফলে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ফুলে যায় এবং ব্যথা অনুভব করে।
  • প্রস্রাব-পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়।
  • খতনা করার পর অতিরিক্ত রক্তপাত হয়।

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো যেমন—

  • অস্থিসন্ধি
  • মস্তিষ্ক
  • পেটের গহ্বর ইত্যাদি

কেটে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।

হিমোফিলিয়ার চিকিৎসা

সাধারণত হিমোফিলিয়া নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। তবে সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন পেলে সুস্থ এবং সক্রিয় জীবনযাপন করা সম্ভব। ব্যয়বহুল হলেও এই রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, মাত্রা ও রোগীর বয়সের ওপর।  সাধারণত ফ্যাক্টর ৮ বা ৯ অথবা প্লাজমা শিরাপথ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এ ছাড়া ছোট কোনো ক্ষত সৃষ্টি হলে ব্যান্ডেজও করতে হয়। ত্বকের নিচে রক্তপাতের ক্ষেত্রে অনেক সময় আইস ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়।

সতর্কতা অবলম্বন

পরিবারের কারো হিমোফিলিয়া থাকলে, শিশুদের অস্থিসন্ধি ফুলে গেলে বা ব্যথা অনুভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া জীবনযাপন পদ্ধতিতে তাদের বেশ কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। যেমন—  প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম যেমন—সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো এবং হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। কিন্তু ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, রেসলিংয়ের মতো খেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই ধরণের খেলাধুলা কখনোই খেলা যাবে না।যাদের রক্ত জমাট বাঁধার বা রক্তপাত দীর্ঘ সময় ধরে হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের অবশ্যই দাঁতের চিকিৎসা বা যেকোনো অপারেশনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শে শিরাপথে ওষুধ, রক্ত বা রক্তজাত পদার্থ নিতে হবে। এতে যাদের হিমোফিলিয়া রয়েছে তাদের রক্ত জমাট বাঁধা বা দীর্ঘ রক্তপাতের সমস্যা কম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =