প্রেগনেনসির সময় কোন ঔষধ কতটা নিরাপদ?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 161
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    161
    Shares

প্রেগনেনসির সময় কোন ঔষধ কতটা নিরাপদ?

সন্তান ধারনের সময়টি মেয়েদের জীবনে ত্যাগ, তিতীক্ষা ও প্রতীক্ষার সময়। এ সময় প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু সীমাবদ্ধতা চলে আসে। যেমন ঔষধ খাবার ক্ষেত্রে নিতে হয় কিছু সতর্কতা। কারন, গর্ভাবস্থায় মায়ের গ্রহনকৃত ঔষধ গর্ভ ফুল হয়ে গর্ভস্থ বাচ্চার দেহে প্রবেশ করতে পারে, তাই যেকোনো ঔষধ গ্রহন করার আগে তা নিরাপদ কিনা জেনে নেয়া উচিত। গর্ভস্থ বাচ্চার উপর প্রভাব নির্ভর করবে আপনি কোন ঔষধ খাচ্ছেন আর গর্ভকালীন কোন সময়ে খাচ্ছেন তার উপর। গর্ভাবস্থায় কোন ঔষধ  কতটা নিরাপদ তা নির্দেশায়িত করে FDA (U.S.Food and drug association) একটি শ্রেণী বিভাগ করেছে।

ক্যাটাগরি A-এই গ্রুপের মেডিসিনগুলো পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভস্ত বাচ্চার জন্য নিরাপদ প্রমাণিত। যেমন বিভিন্ন ভিটামিন, ফলিক এসিড, এই গ্রুপের মধ্যে পরে।

ক্যাটাগরি  B- এই গ্রুপের মেডিসিন গুলো  বাচ্চার জন্য কোন বড় সমস্যা করে না যা প্রানীর উপর গবেষনা করে প্রমাণিত হয়েছে,তবে হিউম্যান প্রেগনেনসির উপর গবেষনা নেই। এই গ্রুপের ঔষধের মধ্যে রয়েছে,

এলার্জির ঔষধ-Loratadin(লোরাটাডিন, Chlorpheniramin (ক্লোরফেনিরামিন) বা হিস্টাসিন জাতীয় ঔষধ মায়ের জন্য নিরাপদ। এন্টিবায়োটিক-cefradin (সেফ্রাডিন, Ceftriaxon (সেফত্রাক্সন, Cefixim (সিফিক্সিম, Nitrofurantoin (নাইত্রফুরান্টয়েন) ইত্যাদি। জ্বর বা ব্যাথার ঔষধ -Paracetamol (প্যারাসিটামল, Ibuprofen(আইবুপ্রফেন, Neproxen (নেপ্রক্সেন) ইত্যাদি। এরমধ্যে আইবুপ্রফেন, নেপ্রক্সেন শেষ তিন মাসে দেয়া হয় না। পাকস্থলির এ্যাসিডিটির জন্য ব্যবহৃত ঔষধ যেমন Pentoprazole(পেন্টোপ্রাজল, Rabeprazole (রেবিপ্রাজল)।

ক্যাটাগরি C-এই গ্রুপের প্রানীর উপর পরীক্ষা করে গর্ভস্ত বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর দেখা গেছে, তবে এই ঔষধে মায়ের উপকারীতা বেশি হলে ঝুকি স্বত্বেও গর্ভবতী মাকে দেয়া যাবে। এমন কিছু ঔষধ হচ্ছে –

ব্যাথার ঔষধ Tramadol(ট্রামাডল, Gaba pentin(গাবা পেন্টিন)। এছাড়া Prednisolon (প্রে্ডনিশলন, Amlodipin (এমলোডিপিন) এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।

ক্যাটাগরি D-এই গ্রুপের ঔষধ বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে, গর্ভবতী মায়ের উপর গবেষণা করে গর্ভস্ত বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর প্রমানিত হয়েছে, তবে ক্যাটাগরি C এর মতই মায়ের জন্য উপকারের পরিমান বেশি মনে হলে অনেক সময় গর্ভবতী মাকে দেয়া যেতে পারে।

যেমন, উচ্চ রক্তচাপের জন্য গ্রহনকৃত Lisinopril (লিসিনোপ্রিল, Losartan (লোসার্টান) এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। তাই যারা প্রেগনেনসির আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপের জন্য ঔষধ খাচ্ছেন তাদের উচিত হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর ঔষধগুলো পরিবর্তন করে নিরাপদ ঔষধ বেছে নেয়া। এছাড়া নিদ্রাহীনতার কিছু ঔষধ যেমন Clonazepum, Lorazepum, Alprazolum এই গ্রুপের মধ্যে রয়েছে।

ক্যাটাগরি X: এই গ্রুপের ঔষধ  মানুষ ও অন্যান্য প্রানীর উপর পরীক্ষা করে এবং বিভিন্ন গবেষনায় গর্ভস্ত বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে প্রমানিত।

এই ঔষধগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সাররোধী ঔষধ যেমন Methotrexate, ডায়াবেটিসের জন্য গ্রহনকৃত Warfarin, চর্বিরোধী ঔষধ Atorvastatin, Simvastatin ইত্যাদি।

অধিকাংশ স্থানীয় ঔষধ (ত্বকে ব্যবহারের, এ্যাজমার জন্য ব্যবহৃত ইনহেলার, চোখ ও কানের ড্রপ প্রেগনেনসিতে নিরাপদ বলা যায়। তবে এই বিশেষ সময়ে যেকোন ঔষধ ব্যবহারের পূর্বে একজন অভিজ্ঞ স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিন।

ডাঃ নুসরাত জাহান, সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনী),
বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে ট্রেনিং প্রাপ্ত (ইন্ডিয়া), ল্যাপারোস্কপিক সার্জন।
চেম্বার: ডিপিআরসি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব,
(১২/১, রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001, +8801997702002,
09666774411,  029101369, 0258154875

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =