এসির ভুল ব্যবহারেই শরীরে বাসা বাঁধছে জ্বর-নিউমোনিয়া

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 546
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    546
    Shares

এসির ভুল ব্যবহারেই শরীরে বাসা বাঁধছে জ্বর-নিউমোনিয়া

সকালে উঠে নাক দিয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে ক্লাস টু’য়ের পড়ুয়া ছেলেটার। দিন দু’য়েক কাটতে না কাটতেই সর্দি বুকে বসে গেল ছেলেটার। টানের মতো হতে থাকলে ডাক্তারের কাছে ছুটে যেতে হলো তার বাবা-মাকে। ছেলের আচমকা শরীর খারাপের কারণ ধরতেই দিশেহারা তাঁরা। গরমের ছুটি চলছে। তাই স্কুলে যাতায়াতের পথে রোদ লাগার প্রশ্ন তো নেই-ই বরং রোদের বেশিরভাগ সময়টা ঘরেই থাকে সে। তা-ও এসি’র মধ্যেই। তাহলেও কেন এই সর্দি-কাশি? চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানালেন, যাবতীয় শরীর খারাপের নেপথ্যে রয়েছে ওই এয়ার কন্ডিশনারই।

ছোট্ট ছেলেটিই নয়। ষাটোর্ধ্ব বয়সীরাও কাবু হয়েছেন এই এসির কারণেই। বুকে সর্দি বসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাদের। জানায় যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, ‘শরীরে হয়তো নিউমোনিয়ার জীবাণু বাসা বেঁধেছিল আগেই, কিন্তু অবৈজ্ঞানিকভাবে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহারের কারণে সেটাই প্রকোপ বাড়িয়েছে।’

গরমের হাত থেকে বাঁচতে হুড়মুড়িয়ে ঘরে এসি বসানোর ধুম পড়েছে শহরে।কিন্তু ঠান্ডা করার যন্ত্র ব্যবহারের কায়দা জানা নেই অধিকাংশের। আর যার জেরে হাজারো টাকার যন্ত্র কিনে লাখো খরচ করতে হচ্ছে অনেককেই। কারণ, অবিবেচকের মতো এসি ব্যবহারের জেরে সর্দি-কাশি এমনকি নিউমোনিয়ার মতোও রোগের কোপে পড়ছেন শহরবাসী।

এসি থেকে এত বিপত্তি?

এসি ঠিকমতো তাপমাত্রায় ব্যবহার করতে না পারলে সমস্যা তো হবেই। আর নতুন এসি কেনা হলে অধিকাংশ সময়েই পরিমিতভাবে এয়ার কন্ডিশন মেশিন ব্যবহার করা হয় না। আর মনে রাখতে হবে, এসিতে জমা ধুলিকণায় অ্যালার্জেন্ট থাকে।’ বাইরের তাপমাত্রা বাড়লে ঘর ঠাণ্ডা করতে তো এসি কম তাপমাত্রায় চালাতেই হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন শরীরকে সুস্থ রাখতে আনুমানিক ২৪-২৮ ডিগ্রির মধ্যেই এসির তাপমাত্রা নামিয়ে আনতে হবে।তাড়াহুড়া করা উচিত নয় মোটেই। এসিকে সময় দিতে হবে ঘর ঠান্ডা করার। তাতে এসিও ঠিক থাকবে, আবার শরীরও খারাপ হবে না,’ মন্তব্য এক এয়াকন্ডিশন এক্সপার্টের।

ঘটনা হলো, অপরিমিত এসি ব্যবহারের জেরে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিশু এবং প্রবীণরাই। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রভাস গিরি বলেন, ‘বাবা-মা যদি দেখেন একদিন বা একরাত এসিতে থাকলেই সন্তানের ঠান্ডা লাগার ভাব হয়েছে, তাহলে তৎক্ষাণাৎ সতর্ক হতে হবে। সেটা না করে এসিতে থাকা চালিয়ে গেলে হিতে বিপরীত ফল হতে পারে। এসির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধুলিকণা জমে যাওয়া। আর সেই ধুলিকণায় অ্যালার্জেন্ট থাকে। নিয়মিত এসি পরিষ্কার করা না হলে অ্যালার্জেন্টের কারণে সর্দি-জ্বর বা শ্বাসনালীর সমস্যা অনেক কিছুই হতে পারে।’

এয়ার কন্ডিশনে থাকবেন কীভাবে?

 বাচ্চারা কম তাপমাত্রা পছন্দ করে। এসির রিমোট বাচ্চাদের হাত থেকে দূরে রাখুন।
 রাতে এসি চালিয়ে ঘুমোলে হয় টাইমার দিয়ে রাখুন, যাতে কিছুক্ষণ চলার পর তা ঘরের তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাপমাত্রা কমাতে, বাড়াতে পারে।
 উইন্ডো এসি হলে প্রতিদিন এসি পরিষ্কার করুন। আর স্প্লিট এসি হলে প্রতি দু’-তিন মাসে একবার লোক ডেকে এসি পরিষ্কার করান।
 প্রতি সপ্তাহে একদিন বেডশিট, পিলো কভার বদলে ফেলুন। সম্ভব হলে, বালিশ, বিছানা রোদে দিন। কারণ, ঠান্ডা তাপমাত্রায় ডাস্ট মাইট জন্মায় যা থেকে অ্যালার্জি ছড়ায়।

আরও পড়ুনঃ রোযার কাফফারা আদায়ের বিধানাবলী।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × one =