
মানুষের জীবনে বিভিন্ন কারণে ৪০ বছর বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এ বয়সেই মানুষের জীবনে পূর্ণতা, সফলতা আসে। আবার এ বয়স থেকেই বার্ধক্যও শুরু হয়। তাই এ বয়স থেকেই কিছু স্বাস্থ্য সতর্কতা ও বিধি নিষেধ পালন করতে পারলে বাকি জীবন সুস্থ থাকা যায় অনেকাংশেই। এই পৃথিবীতে যারা দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করেছেন বা যারা করছেন, তাদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন থেকে জানা যায় তাদের এ দীর্ঘ সুস্থ জীবনধারণের রহস্য আসলে কি? তারা প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠে নিজ নিজ ধর্মানুযায়ী প্রার্থনা করে দিনের কাজ শুরু করতেন। ডায়াবেটিস না থাকলে আধা গ্লাস অল্প গরম পানিতে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে খেতে প্রাতঃভ্রমণে বের হতেন। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা প্রাতঃভ্রমণের পর ঘরে ফিরে অল্প গরম পানিতে গোসল সেরে নাশতা করতেন। নাশতায় থাকত তিনটি মধ্যম আকারের গমের রুটি ও সবজি। সবজি থাকত দু-তিন ধরনের একসঙ্গে শুকনো রান্না। তেল ও ঝাল কম। একটি সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ। ননিবিহীন এক গ্লাস দুধ। একটি দেশী ফল, যেমন- কলা, কমলা, আম, আনারস ইত্যাদি। এরপর দৈনন্দিন কাজ শুরু।
হাঁটাচলা ঠিক রাখতে নাতি-নাতনি বা বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে আনা নেয়া করা যায়। বাজার করা যায়। বেলা এগারটায় হালকা নাস্তা ।সময় অতিবাহিত করতে বই পড়া যায়। অন্যথায় ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা চলে। বেলা ২টায় মধ্যাহ্নের খাওয়াদাওয়া। দুপুরে খাওয়াদাওয়ায় যথাসম্ভব ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলতে হয়। খাসি বা গরুর মাংস না খাওয়াই উত্তম। তবে মুরগি বা পাখির গোশত ভালো। এরপর ভালো হয় ঘণ্টাখানেক দুপুরের বিশ্রাম। উঠে ধর্মীয় বইপুস্তক পড়াশোনা। আসরের নামাজ শেষে বৈকাল ভ্রমণ আধাঘণ্টা থেকে একঘণ্টা। ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে সন্ধ্যায় প্রার্থনা বা মাগরিবের নামাজ। নামাজের পর হালকা নাশতা। এরপর ঘরের শিশুদের লেখাপড়ায় সাহায্য করা যায়। নিজেও বইপুস্তক পড়া যায়। বিনা কাজে শুয়ে-বসে থাকলে দুশ্চিন্তা গ্রাস করে। তখন শরীর-মন খারাপ হয়। কোনো সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত থাকা যায় এটা খুবই ভালো শরীর ও মনের জন্য।
এ সময় স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা খুবই জরুরী। কমপক্ষে ৬ মাস অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। উচ্চরক্তচাপ থাকলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল হাঁটা এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করা উত্তম। ডায়াবেটিস থাকলে দু-দিন অন্তর সুগার টেস্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বেশি দিন বাঁচার জন্য পরিমিত খেতে হবে। বেছে বেছে সংযত হয়ে খেতে হবে। খাদ্যের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল তেল। সবচেয়ে ভালো হল দেশী ফলমূল। আমাদের দেশী ফলমূল অনেক ভালো অনেক পুষ্টিকর। আল্লাহ আমাদের জন্য বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ফলমূল দেন। বিভিন্ন ঋতুতে যেসব ফলমূল হয় তা আমরা খাই না। অথচ সেগুলো খেলে ওই ঋতুতে নানা রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যারা ৪০ এ পৌঁছে গেছেন, খাওয়া দাওয়া সংযত হতে হবে অবশ্যই।
পোলাও-বিরিয়ানি এগুলো আমাদের জন্য ভালো নয়। সাদা ভাতই শ্রেয়। রেজালা, রোস্ট, কোরমা যৎসামান্য খাওয়া চলে। চর্বিজাতীয় খাদ্য, ছানা, মাখন, ঘি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। শাকসবজি প্রতিদিন খাওয়া ভালো। যেসব ফল বা সবজি কাঁচা খাওয়া যায়, যেমন- শসা, ক্ষীরা, পাকা টমেটো ইত্যাদি প্রচুর খাওয়া উচিত। পরোটা না খেয়ে ছিটা রুটি, গমের আটা বা চালের রুটি অনেক ভালো। প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে পাতি লেবু বা কাগজি লেবুর রস খাওয়া ভালো। সেই সঙ্গে কাঁচামরিচ চিবিয়ে খাওয়া উপকারী। বড় মাছ অপেক্ষা ছোট মাছ খাওয়া ভালো। বয়স ৪০ হলে দৈনন্দিন এক কাপ টকদই খাওয়া উচিত। গোশত বা রান্না ডিম খেয়ে দুধ খাওয়া উচিত নয়। রাতে ও দিনে খাওয়ার পরই শুয়ে পড়লে পেটে গ্যাস হয়। হজমে বিঘ্ন ঘটে। রাতের খাওয়া ঘুমাতে যাওয়ার একঘণ্টা থেকে দেড়ঘণ্টা আগে খেতে হবে। যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য প্রাতঃভ্রমণ নিষিদ্ধ। তারা বিকালবেলা বা সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটি করবেন।
বয়স চল্লিশ হলেই দৈনিক দুই বেলা আধাঘণ্টা করে হাঁটা, আট ঘণ্টা ঘুম, চিনি ও কাঁচালবণ বর্জনীয় খুবই জরুরী। শিশুসঙ্গ মন ভালো রাখে। যথাসম্ভব কলহ, বিবাদ, ঝগড়াঝাটি থেকে দূরে থাকা শ্রেয়। অসুস্থ বোধ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। এ বয়সে কোনো কারণে উত্তেজিত হওয়া ঠিক নয়। উত্তেজিত বা রাগান্বিত হলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। বার্ধক্যে যাদের স্বামী বা স্ত্রী বিয়োগ হয় তারা খুবই নিঃসঙ্গ ও অসহায় বোধ করেন। এ জন্য তাদের সার্বক্ষণিক একটা কাজে লেগে থাকা ভালো। নিঃসঙ্গ বোধ হলে মনের একান্ত ভাবনাগুলো ডায়েরিতে লিখুন। মন হালকা হবে। শিশুসঙ্গ সবচেয়ে ভালো। তাদের কাছে শৈশব, বাল্য, কৈশোর ও যৌবনকালের গল্প বলুন। মন ভালো থাকলে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এটা চিরন্তন সত্য।
ডাঃ এম এম জালাল উদ্দিন
মানসিক রোগ, মাথা ব্যথা ও মৃগীরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: রাত ৮টা- রাত ১০ টা (শনি থেকে বুধবার)
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
