টনসিল কি বড় কোন রোগ? জেনে নিন।

টনসিল কি বড় কোন রোগ?

টনসিল হচ্ছে একধরণের লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি যা আমাদের গলার পিছনের দিকের অংশে থাকে। টনসিল আমাদের দেহে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন করে থাকে। এই শ্বেত রক্তকণিকা বাইরে থেকে দেহে প্রবেশকারী রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কখনো শ্বেতরক্তকণিকা জীবাণুর বিরুদ্ধে ঠিকমতো কাজ করতে না পারলেই দেহে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কখনো কখনো এইসব জীবাণুকে ধ্বংস করতে গিয়ে টনসিল গ্রন্থি নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে ইনফেকশন হয় এবং এই গ্রন্থি ফুলে যায়। একেই আমরা মেডিকেলের ভাষায় টন্সিলাইটিস বলি এবং সাধারণের ভাষায় টনসিলের সমস্যা বলে চিনি।

ইউটিউব এ সাবস্ক্রাইব করুন

সাধারণত শিশুরা বাইরে খেলাধুলা করে এবং স্কুলে অনেকে একসাথে থাকে। ফলে টনসিলাইটিস হওয়ার মতো শত কারণের মুখোমুখি হয়। আর এইজন্যই শিশু- কিশোরদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয় তবে যেকোনো বয়সী মানুষেরই টনসিলাইটিস হতে পারে।

কারণঃ

১) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টনসিলাইটিস হয়ে থাকে কমন কোল্ড বা অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণের কারণে।

২) ১৫-২০ ভাগ টনসিলাইটিসের কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়াকে। স্ট্রেপ্টোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার কারণে স্ট্রেপ্টো থ্রোট নামক রোগ হয়। এই রোগের লক্ষণকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

লক্ষণঃ

২ দিনের বেশি সময় গলায় ব্যাথা থাকে এবং খাবার গিলতে ব্যাথা হয়।

গলা ফুলে যায় এবং মাঝে মাঝে গলা ফুলে পুঁজ হয়েছে মনে হয়।

গলার স্বরে পরিবর্তন আসে।

স্ট্রেপ্টোকক্কাল টন্সিলাইটিসের ক্ষেত্রে শিশুদের জ্বর, মাথা ব্যাথা, পেটে ব্যাথা হয়।

খাবারে অরুচি দেখা দেয়।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি নিজ থেকে ঠিক না হয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। ৩-৪ দিনের বেশি সময় ধরে গলা ব্যাথা থাকলে, জ্বর আসলে এবং গিলতে ব্যাথা করতে থাকলে সমস্যা মারাত্মক হয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিলে এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে থাকলে টন্সিলাইটিস ভালো হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহন না করে এবং চিকিৎসকের উপদেশ মেনে না চলে তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ হয়ে থাকে, যাকে আমরা Chronic tonsillitis বলে থাকি।
এই দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশন যদি বছরে চার-পাঁচবার করে পরপর দুই বছর হয়, তবে অসুস্থ টনসিল অপারেশন করিয়ে নেয়াই ভালো।

আরও পড়ুনঃ ডিসপেজিয়া- ঢোক গেলতে সমস্যা হলে করণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*