
কন্ঠস্বরকে জানুন (পর্ব-২)
ভোকালকর্ডের অপব্যবহারের কারণ
অধিক জনসমাবেশ, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে জোরে কথা বলা। অতিরিক্ত এবং দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলা। ঘাড় ও কানের মাঝে ফোন চেপে ধরে কথা বলার ঘাড় ও শব্দযন্ত্রের মাংসপেশিতে টান লাগে। উচ্চস্বরে বা চিৎকার করে কথা বলা। জনসমাবেশে বাব ড় লেকচার গ্যালারিতে মাইক ছাড়াই জোরে কথা বলা, এতে ভোকালকর্ডের ওপর বেশি চাপ পড়ে।
কম ক্ষতিকারক কণ্ঠনালীর রোগ
বারবার অথবা দীর্ঘমেয়াদি কণ্ঠনালীর অপব্যবহারে যে ক্ষতি হয় পরবর্তীকালে তা কণ্ঠনালীর কম্পনের মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে এবং কণ্ঠনালীতে পলিপ, নডিউল বা সিস্ট হতে পারে। নডিউল সাধারণত কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে বেশি হয়। রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, আইনজীবি, অধিক সন্তানের জননী, মসজিদের ইমাম, হকারদের মধ্যে এসব রোগ হতে পারে। চিকিৎসা হলো অপারেশন, যেমন- মাইক্রোলেরিংগোস্কপি ও ভয়েস থেরাপি।
ভোকালকর্ডের প্যারালাইসিস দুর্বলতা
ভোকালকর্ডের বা ল্যারিংসের নার্ভের দুর্বলতা বা কোনো সমস্যার জন্য কণ্ঠনালীর পরিবর্তন হতে পারে। ভাইরাসজনিত প্রদাহের জন্য নার্ভের জন্য নার্ভের দুর্বলতা হয়। সাধারণত এক দিকের নার্ভ একই সাথে আক্রান্ত হওয়া খুবই বিরল। এক দিকের নার্ভ প্যারালাইসিসের কারণ হচ্ছে ভাইরাস ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার ও থাইরয়েড অপারেশন। কণ্ঠনালীর প্যারাইসিসের জন্য ফ্যাঁসফেঁসে আওয়াজ হয় এবং এটি নিঃশ্বাসের সাথে জড়িত। কয়েক মাসের মধ্যে এক দিকের প্যারালাইসিস ভালো হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোকালকর্ডের প্যারাইসিস ভালো হয় না, তখন চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
কণ্ঠনালীর ক্যান্সার
আমাদের দেশে গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের প্রকোপ অনেক বেশি। গলার স্বর পরিবর্তনের ১৫ দিনের মধ্যে ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগীর ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালীর ক্যান্সারকে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কণ্ঠনালীর ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এবং এ রোগের সব ধরনের চিকিৎসা যেমন- সার্জারি, কোমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি আমাদের দেশে বিদ্যমান।
কিভাবে কণ্ঠকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা যায়
পানি ভোকালকর্ডকে আর্দ্র রাখে এবং আর্দ্র ভোকালকর্ডের শুষ্ক ভোকালকর্ড থেকে বেশি ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন প্রচুর পারিমাণে পানি পান করবেন। কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। খেলা শুরুর আগে যেমন প্রস্তুতি দরকার তেমনি বক্তৃতার আগে ভোকালকর্ডের একইভাবে হালকা ব্যায়াম করা উচিত। প্রাক্টিস করলে ভোকালর্ডের কণ্ঠের মান ও উপস্থাপনা সুন্দরহ য়। কথা বলা বা গান গাওয়ার মাঝখানে দীর্ঘশ্বাস-প্রশ্বাস নিলে কথা বলা, গান গাওয়াকে সুন্দর করে এবং ভোকালকর্ডের অবসাদ হয় না। বক্তব্য বা উপস্থাপনা বা বড় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাইক্রোফোন ব্যবহার করা উত্তম।
দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কণ্ঠনালীকে বিশ্রাম দেয়া উচিত, যা কণ্ঠনালীর অবসাদ দূর করে এবং শক্তি ফিরিয়ে দেয়। নিজের কণ্ঠকে শুনুন এবং যদি কোনো রকমের উপসর্গ থাকে বা পরির্বন লক্ষ করেন তাহলে যথাযথ যত্ন নিন। যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্বর পরির্বন লক্ষণীয় হয় তাহলে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এমন কিছু করবেন না যা কণ্ঠনালীর ক্ষতি হয়।
ধূমপান, অ্যালকোহল পান, অতিরিক্ত গরম পানীয় পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। এটা ছাড়াও ধূমপান কণ্ঠনালীর প্রদাহ করে। জোরে জোরে বা পরিবর্তিত স্বরে কথা বলা উচিত নয়। জোরে কথা বললে বা কণ্ঠনালীর অপব্যবহার করলে কণ্ঠনালীতে সূক্ষ আঘাত হতে পারে। দূর থেকে কাউকে ডাকতে হলে হাততালি বা শিস বা হাত নেড়ে অথবা লাইটের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। বড় খেলা উপভোগ করার সময় পছন্দের দলকে সাপোর্ট করার জন্য জোরে চিৎকার না করে পতাকা উড়ান বা ব্যানার লিখুন।
অ্যাসিডিটি হতে পারে এমন কিছু খাবেন না। তাই মাথা উঁচু করে ঘুমাবেন, হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করে ঘুমাবেন, টাইট কাপড় পরে ঘুমাবো যাবে না। খাবারের সাথে সাথে ঘুমানো বা ক্যাফেইন যুক্ত খাবার গ্রহণ করা বাদ দিতে হবে।
গাড়িতে ভ্রমণ, ট্রেনে যাতায়াত, অবসর সময়ে কণ্ঠনালীকে বিশ্রাম দিতে হবে।
এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে ভোকালকর্ডে চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না। অপ্রয়োজনীয় ফোন ধরা থেকে বিরত থাকুন।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
