সড়ক দূর্ঘটনায় আহতদের পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে হবে

পঙ্গুত্বের অভিশাপ

শাহীনার মৃত্যু সারা বিশ্ব বাসীকে কাঁদিয়েছে ঠিকই। কিন্তুু এই মৃত্যুতে আছে বীরত্ব, উদ্ধার কর্মীরা যখন শাহীনার লাশ ষ্ট্রেচার করে নিয়ে যাচ্ছিল মনে হল এক বীরঙ্গনা যুদ্ধ শেষে ক্লান্ত হয়ে রাজকীয় মর্যাদায় বাড়ি ফিরে যাচেছ। আমি এই ট্র্যাজিডিকে সাভার ট্র্যাজিডিই বলতে চাই, কোন নর ঘাতকের নাম যুক্ত করতে চাই না। কারন যে সকল প্রান চলে গেল তারা তো মহান আল্লাহ পাকের দরবারে ফিরে গেল, দোয়া করি তারা সবাই যেন বেহেস্ত/স্বর্গ বাসী হয়। আর যে সকল নরনারী আহত হয়ে বেঁচে গেছে কেউ কেউ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শেষ পর্যন্ত যাহারা বেঁচে থাকবে তাদের বইতে হবে পঙ্গুত্বের অভিশাপ।

এদের প্রত্যেকটি মানুষই কর্মক্ষম ছিলেন। অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন তাদের হতে হবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জন্য বোঝা। একদিকে অর্থ উপার্জন বন্ধ অন্য দিকে পঙ্গুত্বের অভিশাপ। একজন পঙ্গু মানুষের দৈনন্দিন খাওয়ানো, টয়লেট করানো, গোসল করানো থেকে শুরু করে সকল কাজ কর্ম পরিবারের অন্যান্য সদস্যের উপর গিয়ে পড়বে। এতে করে অন্য সদস্যরা তাদের নিজেদের কাজ কর্ম আর স্বাভাবিক ভাবে করতে পারবে না।

তাই যদি দ্রুত সম্ভব আহত প্রত্যেকটি মানুষকে শারীরিক মানষিক ও সামাজিক পূর্নবাসন জরুরী। শারীরিক পূর্নবাসন চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি বিশাল ভূমিকা পালন করে। শারীরিক ভাবে কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে বা হাত পা কেটে ফেলা হলে শরীরের প্রত্যেকটি জোড়া, হাড় ও মাংশ পেশীতে প্রভাব ফেলে। রোগী ক্রনিক ব্যথা বেদনায় ভোগেন। কারো অঙ্গহানী হলে সবচেছে গুরুত্বপূর্ন হল “ফেনটম পেইন” এতে রোগীর তীব্র যন্ত্রনা হতে পারে। পা বা হাত নেই তারপরও মনে হবে কাটা পা বা হাত আছে এবং ঐখানে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। এ সকল ব্যথা পেইন কিলার কোন সমাধান করতে পারে না। উল্টো দীর্ঘ দিন পেইন কিলার খেলে হার্ট- কিডনী রোগ, আলসার, ষ্ট্রোক জাতীয় মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অত্যান্ত কার্যকরী নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি। দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের একিউট ও ক্রনিক এই দুই ষ্ট্রেজে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

একিউট ষ্ট্রেজে ইমারজেনিস ম্যানেজমেন্ট করা হয়ে যেন রোগী একটা স্টেবল কন্ডিশনে আসে, পাশাপাশি পূর্নবাসন চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে হয়, যেন হাড়-জোড়া ও মাংশ পেশীর কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকক থাকে। কোন বিকলাঙ্গতা বা পঙ্গুত্ব রোগীকে কাবু করতে না পারে। আর ক্রনিক ষ্ট্রেজ অনেক দীর্ঘ স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি। এই ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। দূর্ঘটনা পরবর্তী শারীরিক আঘাত ও আঘাতের ফলে অঙ্গহানী হলে (যাকে আমরা ডাক্তারী ভাষায় ফিজিকেল ডিজএবেলিটি বলে থাকি) দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পাশাপাশি অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, সাইকো থেরাপি ও কাউনসেলিং চালিয়ে যেতে হয়। পূর্নবাসন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সমাজকর্মী ও আর্থিক সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। শারীরিক পূর্নবাসনের ক্ষেত্রে অনেক সময় কৃত্রিম হাত বা পা (প্রসথেসিস), অর্থোসেস, ব্রেস ইত্যাদির প্রয়োজন হয়।

পূর্নবাসন চিকিৎসায় হাল ছেড়ে দিলে চলবেনা, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চালিয়ে গেলে রোগী আবার আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। প্রয়োজনে কাউনসেলিং এর মাধ্যমে ভকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে বিভিন্ন কাজে লাগানো যেতে পারে। ফলে ঐ রোগী ফিরে পাবেন তার সক্ষমতা, কর্মক্ষম জীবন। ভূগতে হবে না পঙ্গুত্বের অভিশাপ। তাই এ ব্যাপারে সবাইতে সচেতন হতে হবে।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*