স্ট্রোক চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব

স্ট্রোক চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি

স্ট্রোক চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিঃ 

ঔষধ স্ট্রোক রোগীকে মেডিকেল ষ্ট্যাবল করতে পারলেও তার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যাগুলো দুর করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাই রোগী স্ট্রোক আক্রান্ত হলে দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এবং ২৪ ঘন্টার ভেতরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু নিশ্চিত করবেন। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের পর যত দ্রুত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

ফিজিওথেরাপি দৈনিক ৩/৪ বার করে দিতে হতে পারে। বাসায় ১বার করে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিয়ে তেমন কোন ফল আসে না। তার জন্য রোগীকে ক্লিনিক বা হাসপাতালে ভর্তি রেখে ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়াই উত্তম। শুরু থেকে ফিজিওথেরাপি চালু থাকলে ২/৩ মাসে রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে একিউট ও ক্রনিক স্টেজ এই ভাবে দুই রকম চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এবং প্রতি মহুর্তেই রোগীর ফিজিকেল অবস্থা অবজার্রভ করতে হয়। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

যেমনঃ মবিলাইজেশন এক্সার সাইজ, পশ্চারাল চেনজেজ, স্ট্রেচ রিফ্লেক্স, রেইনজ অব মোশন এক্সার সাইজ, পশচারাল ইনহিবিশন এক্সার সাইজ, ভেজোমোটর রিফ্লেক্স এক্সার সাইজ, রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ, একটিভ ফ্রি, একটিভ এসিসটেড, এসিসটেড রেজিসটেড, রেজিসটেড এক্সারসাইজ, রিএজুকেশন এক্সার সাইজ, বেলেন্স ট্রেনিং, গেইট ট্রেনিং, পিএনএফ এবং বোবাথ-কেবাথ এক্সারসাইজ, নিউরোমাসকুলার এক্সইটেশন ও ইনহেবিশন, মাসকুলার স্ট্রেচিং, বিভিন্ন অর্থোসিস বা প্রসথেসিস ট্রেনিং ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক পূর্নবাসন চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে কর্মক্ষম ও সুস্থ হয়ে উঠে, অনেক ক্ষেত্রে ইলেকট্রোথেরাপির প্রয়োজন হতে হবে।

তাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যেখানে সেখানে বা কোন টেকনোলজিষ্ট বা টেকনিশিয়ানের দ্বারা না নিয়ে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ন তত্ত্বাবধানে নিতে হবে। তাহলে রোগী অবশ্যই ভূল চিকিৎসা থেকে বেচে যাবেন এবং একটি স্বাভাবিক কর্মক্ষম জীবন ফিরে পাবেন।

আর যারা দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত তাদের শারীরিক পূর্নবাসনের পাশাপাশি মানসিক পূর্নবাসনও করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া উচিত।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*