শরীরে লবণশূন্যতা ও চিকিৎসা (পর্ব – ২)

শরীরে লবণশূন্যতা ও চিকিৎসা

শরীরে দীর্ঘমেয়াদি লবণশূন্যতায় শরীরে লবণের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে- দিনের পর দিন কিংবা সপ্তাহের পর সপ্তাহ। এতে মৃদু উপসর্গ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শরীরের তীব্র লবণশূন্যতায় শরীরে লবণের মাত্রা তাড়াতাড়ি পড়ে যায়, ফলে মারাত্মক প্রকিক্রিয়া দেখা যায়- যেমন মস্তিষ্ক ফুলে যেতে পারে, যার ফলে রোগী অচেতন হয়ে যায় এবং অনেক সময় মারাও যায়। যেহেতু শরীরে লবণশূন্যতার উপসর্গ অনেক কারণে দেখা দিতে পারে সেহেতু শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর করে রোগ নির্ণয় করা যায় না। এই রোগ নির্ণয় করার জন্য রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হয়।

শরীরে তীব্র লবণশূন্যতা চিকিৎসা করার জন্য অন্তর্নিহিত অসুখের চিকিৎসা করতে হবে যদি সম্ভব হয়।

যদি রোগীর শরীরে মৃদু লবণ শূন্যতা দেখা দেয়, খাবার ডাইইউরেটিক্স বা বেশি পানি পান করার জন্য তবে তাকে সাময়িকভাবে পানি পান করা কমাতে হবে। অইেশ সময় ডাইইউরেটিক্সের মাত্রা কমিয়ে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ানো যা।

যদি শরীরে তীব্র লবণশূন্যতা দেখা দেয় তবে আরো বেশি চিকৎসার দরকার পড়বে। শিরার মধ্যে তরল- শিরার মধ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এই চিকিৎসা অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে হয়। ওষুধ- শরীরে লবণশূন্যতার উপসর্গ যেমন মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কাঁপনি ওষুধের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

হরমোন থেরাপি- যদি এড্রিনাল গ্রন্থির অসামর্থ্যতার কারণে শরীরে লবণশূন্যতা দেখা দেয় তবে হরমোন দিয়ে তার চিকিৎসা করা যায়।

নিম্নলিখিত পদ্ধতি গ্রহণ করলে রোগী শরীরে লবণশূন্যতা প্রতিরোধ করতে পারে:

সহযোগী কারণগুলোর চিকিৎসা করতে হবে যেসব কারণে শরীরে লবণশূন্যতা দেখা দেয় সেই কারণগুলোর চিকিৎসা করতে হবে যেমন এড্রিনাল গ্রন্থির অসামর্থ্যতা তাহলে শরীরে লবণশূন্যতা কমানো যাবে।

নিজেকে রোগ সম্বন্ধে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। যদি রোগীর কোনো অসুখ থেকে থাকে যাতে শরীরে লবণশূন্যতা দেখা দেয় কিংবা রোগী যদি কোনো ডাইইউরেটিক্স গ্রহণ করে থাকে তবে রোগীকে শরীরে লবণশূন্যতার উপসর্গ সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে। নতুন কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে তার ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। খেলোয়াড়েরা শুধা সেটুকু পানি পান করবে যেটুকু তারা ঘামের মাধ্যমে খেলার সময় বা দৌড়ের সময় হারায়। তবে তা ঘণ্টায় ১ লিটারের বেশি হওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের সময় খেলোয়ারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পানি পান করা উচত। বিশেষ করে ম্যারাথন দৌড়ের সময় ইলেকট্রোলাইট যুক্ত পানীয় পান করা উচিত।

পরিমাণ মতো পানি পান করতে হবে, পানীয় পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। তাই খেয়াল করতে হবে যাতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান করা যাবে না। পিপাসা ও প্রস্রাবের রঙ দেখে বোঝা যায় কী পরিমাণ পানি শরীরের জন্য দরকার। যদি কেউ পিপাসার্ত না হয় এবং তার প্রস্রাবের হলুদাভ হয় তবে বুঝতে হবে সে যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করে।

আরও পড়ুনঃ শরীরে লবণশূন্যতা (পর্ব – ১)

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*