
বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত
বিশ্বজুড়ে জনসাধারণের সচেতনতার লক্ষ্যে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসটি প্রতি বছর ৮ই মে সারা বিশ্বব্যাপী উদ্যাপন করা হয়ে থাকে। যার প্রধান লক্ষ্য হলো থ্যালাসেমিয়া রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা, রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রামন প্রতিরোধ করা।
গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বমোট জনসংখ্যার প্রায় ৬.৩ ভাগ শিশু থ্যালাসেমিয়ার জ্বীনগত সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছে। যেহেতু এই রোগটি একটি জ্বীনগত সমস্যা হতে আগত সেহেতু আপনার সন্তানকে রক্ষা করতে “বিয়ের আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করা আবশ্যক”। তাই এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের বিষয়বস্তু হলো: “বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত”।
থ্যালাসেমিয়া রোগটি কী?
থ্যালাসেমিয়া হলো “অটোসোমাল রিসেসিভ” (স্বয়ংক্রিয়) রক্তের সমস্যা যেটি সাধরণত জ্বীনের মাধ্যমে বাবা-মা হতে সন্তানের দেহে ছড়িয়ে থাকে। মানব শরীরে জ্বীন বংশপরিচয় রক্ষা করে থাকে। এটি রক্তের মধ্যে সংঘটিত সমস্যা যেটি আমাদের রক্তে বিদ্যমান লোহিত রক্তকণিকা বা RBC কে দুর্বল ও ধ্বংস করার মাধ্যমে দেহে বিস্তার লাভ করে। এবং শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরীতে বাধা প্রদান করে ফলে রক্ত শূন্যতার সৃষ্টি করে।
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ:
১। হাড় বিকৃতি, ২। আয়রণ বা লৌহ আধিক্য, ৩ হার্টের বিভিন্ন ধরনের অসুখ (যেমন: বুক ধরফর), ৪। তুলনামূলক লিভার বা যকৃত আকার বৃদ্ধি পাওয়া, ৫। জন্ডিস, ৬। তুলনামূলক প্লীহার আকৃতি বৃদ্ধি, ৭। মুখম-ল ও কপালের হাড় বৃদ্ধি ও ৮। বিলম্বিত বয়ঃসন্ধিকাল ইত্যাদি। আরো অনেক ছোট বড় স্বাস্থ্য সমস্যা।
সাধরণত ৩.৪% মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, প্রায় ৭০০০ থেকে ১০০০০ নতুন শিশু প্রতি বছর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে ভারতে জন্মগ্রহণ করে আসছে। এটি যেকোনো প্রকারের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে যেমন:- (আলফা থ্যালাসেমিয়া, বিটা থ্যালাসেমিয়া বা ডেল্টা থ্যালাসেমিয়া) এদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়াকে হালকা, সহনীয় এবং তীব্র এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
পরীক্ষা
শিশুদের ক্ষেত্রে (২-৩) বছর বয়সে প্রথম লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। প্রায় সময় হালকা থ্যালাসেমিয়া কোনো লক্ষণ প্রদর্শন করে না যতক্ষণ না পর্যন্ত রক্ত পরীক্ষা করা হয়।(পরীক্ষা:- কম্লিট ব্লাড কাউন্ট বা সি.বি.সি)
চিকিৎসা
জেনে অবাক হবেন যে থ্যালাসেমিয়া রোগের স্থায়ী কোনো সমাধান নেই, রোগটি বহু প্রাচীনকাল হতে বংশানুক্রমে আমাদের মাঝে বিদ্যমান। তবে আধুনিক চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রযাত্রায় রক্তদান, ভিটামিন-বি, আয়রণ চিলেশন থেরাপি এবং রক্ত ও অস্থিমজ্জা পুনরায় স্থাপনের মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এ সকল চিকিৎসা অতি সময় ও খরচ সাপেক্ষ্য হয়ে থাকে যা অনেক মধ্যবৃত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য অবহনযোগ্য।
পরামর্শ
এই রোগ হতে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী করা। মনে রাখবেন যতবেশি সচেতনতা তৈরী করা যায় ততোবেশি রোগটি হতে মুক্তি লাভ করা আমাদের জন্য সহজ হবে।
কেন বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালন করা হয়?
১. জনসচেতনা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানান দেয়া।
২. রোগটির সংক্রামন প্রতিরোধে কাজ করা।
৩. বিশেষ করে নবীনদের রক্তদানে অনুপ্রণীত করার মাধ্যমে, যারা রোগটি নিয়ে ভুগছে তাদের সাহায্য করা।
৪. আমাদের মতো ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যারা আছেন তাদের আরো অনুপ্রাণীত করা।
৫. যারা রোগটি নিয়ে ভুগছেন তাদেরকে হাসপাতালে আসতে এবং রোগটি সংক্রামণ প্রতিরোধে অনুপ্রাণীত করা।
৬. নবীনগনকে বিবাহ পূর্বে রক্ত পরীক্ষা সম্পর্কে অনুপ্রাণীত করা যাতে তাদের পরবর্তী ভবিষ্যত প্রজন্ম রোগটি হতে মুক্তি লাভে সক্ষম হয়।
৭. সর্বোপরি, রোগটি আমাদের সমাজ, দেশ ও পৃথিবী হতে তাড়াতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।
ডা: মো: রহমত উল্লাহ শুভ
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
