
রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের কাউন্সিল গঠন
স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর পুনর্বাসন চিকিৎসাসেবার উন্নয়নকল্পে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন। আঘাতজনিত, বাথব্যথা, আর্থরাইটিস, স্নায়ুবিক কারণে, নন কমিউনিকেবল ডিজিস থেকে বা যে কোনো কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যবহারিক জীবন মান উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন আইন-২০১৮’ বিল নামে নতুন একটি আইন। এই কাউন্সিল চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্ট ও পেশাজীবীদের নিবন্ধন, সনদ প্রদান এবং চিকিৎসার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২৩তম বা শেষ অধিবেশনের সমাপনী দিনে গতকাল এই বিলটি পাস হয়। বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এর আগে বিলের ওপর আনীত একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। অপর সংশোধনীসহ জনমত যাচাই, বছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবসমূহ কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
আইনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সভাপতি করে ৩৩ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীরা নামের আগে বা পরে কী ধরনের পদবি, চিহ্ন, ডিগ্রি ব্যবহার করবেন। নিবন্ধিতদের জন্য তা কাউন্সিল নির্ধারণ করে দেবে।
কিন্তু অনিবন্ধিত কেউ এসব পদবি, চিহ্ন, ডিগ্রি ব্যবহার করলে কমপক্ষে সাত বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন থাকার পরও বিধি অমান্য করে দেশি-বিদেশি কোনো মিথ্যা উপাধি, ভুয়া ডিগ্রি বা চিহ্ন ব্যবহার করলে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের তফশিলে রিহ্যাবিলিটেশন প্র্যাকটিশনার, টেকনোলজিস্ট, টেকনিশিয়ানের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান ও বিবরণ এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা প্রদানকারী ও সাটিফিকেট কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা সন্নিবেশিত হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসেবে বিবৃতিতে বলা হয়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো প্রতিবন্ধিতার শিকার। রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী যথা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক, স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, সাইকোলজিস্ট, নিউট্রলজিস্ট, স্পেশাল এডুকেটর প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। এসব পেশাজীবীদের স্বীকৃতি ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন আইন ২০১৮ বিল প্রণয়ন করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আজ ২৯ অক্টোবর রাত ৮ টায় জাতীয় সংসদে “বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন-২০১৮” পাস হয়েছে। এর ফলে এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও সংক্রামক ব্যাধি ও স্নায়ুবিকাশজনিত জটিলতার বিস্তার, সড়ক দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারনে অসহায় পঙ্গুত্বসহ অসংখ্য প্রতিবন্ধিতার শিকার মানুষ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি চিকিৎসা পরবর্তী পুনর্বাসন সেবা পাবে।
আজকের এই আইনটি পাশ হবার ফলে দেশের ব্যাপক সংখ্যক দুর্ঘটনা কবলিত মানুষ উপকৃত হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সংসদে জানিয়েছেন এবং আইনটির সাথে প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া জড়িত বলে আইনটি পাশে সকলের আকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, পাশ হওয়া আইনটিতে মোট ৩৭ টি ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এছাড়াও আইনটিতে পেশাজীবী, প্রাকটিশনার, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, সরকারি প্রতিনিধিসহ মোট ৩৩ জন সদস্য সমন্ব্যয়ে কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে- ডা. মো. আক্কাস আলী বলেন, বাংলাদেশ রিহেবিলিটেশন কাউন্সিলটি মূলত অক্ষম রোগীদের (ডিজেবল পেসেন্ট) জন্য। আমাদের সমাজে যাদেরকে প্যারাইজড রোগী বলা হয়, মূলত তাদেরকেই সুস্থ্য করে তোলা বা নিজের হাতে খেতে পারা বা নিজে নিজে চলতে পারা- মূলকথায় সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই রিহেবিলিটেশন এর উদ্দেশ্য।
উন্নত বিশ্বে রিহেবিলিটেশন অনেক উন্নত। এদিকে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সোশাল সিকিউরিটি এর অংশ হিসেবে এটিকে শক্তিশালী ও উন্নত করা হচ্ছে। একজন প্যারালাইজড রোগী সমাজের, দেশের ও পরিবারের জন্য বোঝা (বার্ডেন)। কিন্তু যেকোনো মূল্যে যদি এটা ভালো করা যায় তাহলে এটা সকলের জন্যই মঙ্গলজনক।
এখানে যারা সার্ভিস দিয়ে থাকে তারা সবাই প্রফেশনাল যেমন: ফিজিওথেরাপিস্ট ডাক্তার, স্পিচথেরাপিস্ট ইত্যাদি এবং তাদের জন্য যে কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সারাবিশ্বেই এরকম কাউন্সিল রয়েছে। কিন্তু যারা এই কাউন্সিলগুলোতে নেতৃত্ব দিবে তাদেরকেও প্রফেশনাল ব্যাক্তি হতে হবে। এছাড়াও তিনি সংসদে প্রস্তাব করেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান যদি একজন ফিজিও থেরাপিস্ট বা থেরাপিস্ট হয় সেটা অনেক ভালো হবে।
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা পেইন ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহেবলিটেশন সেন্টার (ডিপিআরসি) হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মো. সফিউল্ল্যাহ্ প্রধান বলেন, এ আইন পাশ হবার কারণে ফিজিওথেরাপি স্বীকৃত ডিগ্রীবিহীন কেউ আর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দিতে পারবে না। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপি, টেকনোলজি-টেকনেশিয়ানকে তা এ আইনের মাধ্যমে পরিষ্কার হল। এতে করে কোনো ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্ট আর জনগণের সাথে প্রতারণা করতে পারবে না। এইজন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
