যেসব প্রয়োজনে ঢেঁড়স খাওয়া অত্যাবশ্যক

ঢেঁড়স একটি মৌসুমী সবজি যা খুবই সহজলভ্য। আর এটি এমন একটি সবজি যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ঢেঁড়স ভাজি, ঢেঁড়সের তরকারি প্রায় সবাই পছন্দ করেন।এছাড়া গরম ভাতের সঙ্গে কচি ঢেঁড়সের ভর্তা খুব সুস্বাদু। তো চলুন জেনে নিই কেন অবশ্যই আপনি ঢেঁড়স খাবেন। হ্যাঁ আজকের এই তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটি পড়ার পর আপনি অবশ্যই ঢেঁড়স খাবেন বলে আমরা আশা করি।

জেনে নিন কেন ঢেঁড়স খাবেন?

ঢেঁড়স অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন, এটি আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে। ঢেঁড়সে রয়েছে সলিউবল ফাইবার পেকটিন যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলকে কমাতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করে। তো চলুন জেনে নিই ঢেঁড়স কেন খাবেন?

০১. রোগ প্রতিরোধে

ঢেঁড়সের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

০২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

ঢেঁড়সের মধ্যে থাকা উপকারী ফাইবার দেহের গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে রাখে। তাই ডায়াবেটিস কমাতে ঢেঁড়স অত্যন্ত কার্যকরী একটি সবজি। ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন খাবারের তালিকায় ঢেঁড়স রাখা উচিত।

০৩. রক্তশূন্যতা রোধে

রক্তশূন্যতা রোধ করে ঢেঁড়সের আয়রন ও ভিটামিন কে দেহে রক্ত জমাট সমস্যা রোধ করে, দেহে প্রয়োজনীয় লাল প্লেটলেট তৈরি করে এবং দেহের দুর্বলতা রোধ করে থাকে। তাই রক্তশূন্যতার সমস্যায় বেশি করে ঢেঁড়স খাওয়া ভালো।

০৪. চুলের যত্নে ঢেঁড়স

চুলের জন্য খুব উপকারী, এটি চুলের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, খুশকি ও উকুন রোধ করে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়াও ঢেঁড়স ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল কমায় ঢেঁড়সের মধ্যে রয়েছে সলিউবল ফাইবার পেকটিন যা দেহ থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং অ্যাথেরোসক্লোরোসিস প্রতিরোধ করে।

০৫. ওজন কমাতে

ঢেঁড়সে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম তাই এটি ওজন কমানোর ডায়েট মেন্যুতে রাখতে পারেন। ঢেঁড়সের ফাইবার ক্যালরি ছাড়াই পেট ভরা রাখে, তাই ক্যালরি বহুল খাবার থেকে বিরত থাকা যায়।

০৬. শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে

ঢেঁড়স হাঁপানী রোগে খুব উপকারী। ঢেঁড়সের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। প্রাচীন হারবাল চিকিৎসায় হাঁপানি রোগ সারাতে ঢেঁড়সকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হত।

০৭. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর

ঢেঁড়সে রয়েছে অধিক পরিমাণ আঁশ এবং পেকটিন যা হজমে সাহায্য করে। পেকটিন অন্ত্রের স্ফীতিভাব কমায় এবং অন্ত্র থেকে বর্জ্য সহজে পরিষ্কার করে। তাছাড়া ঢেঁড়সের ফাইবার বা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং সহজে হজম হয় বলে বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে।

০৮. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে

ঢেঁড়সে বিদ্যমান ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন এবং লিউটিন চোখের গ্লুকোমা এবং চোখের ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও ঢেঁড়স হাড়কে মজবুত রাখে। দাঁত ও মাড়ির রোগেও ঢেঁড়স উপকারী। ঢেঁড়সের নানা ধরণের উপাদান আমাদের ত্বকের সমস্যা ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজে আসে। ঢেঁড়স গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক তৈরিতে সাহায্য করে, মিসক্যারেজ হওয়া প্রতিরোধ করে। তাই সুস্থ থাকতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়স রাখুন।

 

মনিকা সরকার
সহকারী অধ্যাপক। খাদ্য ও পুষ্টি ইউনিট
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: বিকাল ৪টা – সন্ধ্যা ৬টা
(শনি, সোম, বুধ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*