
যক্ষা হলে রক্ষা নাই এই কথার ভিত্তি নাই
আমরা আগে শুনেছি, “যক্ষা হলে রক্ষা নাই এই কথার ভিত্তি নাই” “যক্ষা একটি মরণব্যধি রোগ”। বর্তমানে দেশে যক্ষার প্রাদুর্ভাব বেশি। আমরা সবাই সচেতন তাই আমাদের জেনে রাখা ভাল যক্ষার লক্ষণগুলোঃ
০১. এক নাগাড়ে দুই সপ্তাহের অধিক সময় ব্যাপি কাশি। কাশির সাথে কফ আসতে পারে, যা সাধারণ এন্টিবাইওটিক দিয়ে এ কাশি নিরাময়যোগ্য নয়।
০২. সন্ধ্যা রাত্রে জ্বর আসবে যা মধ্যরাত্রে বা শেষ রাত্রে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দিবে, জ্বর সাধারণত ১০০ F এর বেশি হবে না।
০৩. খাবরের প্রতি অরুচি, ওজন কমে যাবে বা শরীর শুকিয়ে যাবে।
০৪. কাশতে কাশতে বুকে ব্যথা হবে শ্বাস নিতে কস্ট হতে পারে।
০৫. কাশির সাথে রক্ত আসতে পারে।
“এই লক্ষণগুলো আমাদের কাহারো মাঝে থাকলে আমরা নিকটস্থ উপজেলা হাসপাতালে/ বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে অথবা নির্দিষ্ট এনজিও ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তারদের পরামর্শ নিব”
মনে রাখতে হবে,
ফুসফুসের যক্ষা ছড়ায় ফুসফুসের বহির্ভূত স্থানে যক্ষা ছড়ায় না। চুল, দাঁত, নখ ব্যাধিত সব জায়গাতেই যক্ষার জীবাণু থাকতে পারে।
TB (যক্ষা)
০১. মানুষ সমাজ বদ্ধ জীব। কাজেই আমরা একত্রে বসবাস করি বলেই একজন থেকে অন্যজনের ফুসফুসের যক্ষা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে তাই বলে এটা কোন বংশগত রোগ নয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবারের প্রতি নজর দিতে হবে।
০২. যক্ষা কি?
যক্ষা একটি জীবাণু ঘটিত রোগ যা মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (বা যক্ষা জীবাণু) নামক জীবাণু দিয়ে হাঁচি কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ হয়ে থাকে।
যক্ষা কত প্রকার
যক্ষা রোগ সংক্রমণের স্থান অনুযায়ী যক্ষা দুই প্রকার, যেমন-
০১. Pulmonary TB বা ফুসফুসের যক্ষা
০২. Extra Pulmonary TB বা ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষা
যক্ষা রোগ কিভাবে ছড়ায়
যক্ষা রোগীর কফ, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যক্ষা রোগের জীবাণু বের হয়ে বাতাসে মিশে ও শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুসে ঢুকে বংশ বৃদ্ধি করে।
একজন যক্ষা রোগী চিকিৎসা ছাড়া বছরে দশজন সুস্থ লোক আক্রান্ত করতে পারে। এভাবে সে তার পরিবারের সদস্যও আশে-পাশের ব্যক্তিদের মাঝে এ রোগ ছড়াতে পারে।
ডাঃ মোহাম্মদ আলী
মেডিসিন, বাতজ্বর ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
ডিপিআরসি হাসপাতাল লিঃ
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
