
অনেক সময়ই দেখা যায় পুরুষদের স্তন স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক আকৃতি ধারণ করে থাক। পুরুষের্ এই অস্বাভাবিক স্তন বৃদ্ধিকে গাইনেকোমাস্টিয়া বলা হয়। বয়ঃসন্ধিকালে সাধারণত পুরুষদের এ অনাকাঙ্খিত অবস্থা খুবই বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালের স্তনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বছর দুই এক এর মধ্যে মধ্যে মিলিয়ে যায়। গাইনেকোমাস্টিয়ার বা অস্বাভাবিক স্তনের বৃদ্ধির অনেক কারণ আছে।
কিন্তু যৌন হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই গাইনেকোমাস্টিয়ার প্রধান কারণ। আবার অনেক সময় পুরুষদের স্তনে অতিরিক্ত চর্বি জমলও স্তন বড় দেখা যায়, কিন্তু অতিরিক্ত চর্বির কারণে স্তন বড় হলে সেটাকে গাইনেকোমাস্টিয়া বলা হয় না। গাইনেকোমাস্টিয়া বা স্তন বড় হওয়া এক পাশে বা দুই পাশেই হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যথাও হতে পারে। সাধারণত গাইনেকোমাস্টিয়া নবজাতক শিশু, বয়ঃসন্ধিকাল বা বয়ঃসন্ধিকালের কিছুটা আগে এবং বৃদ্ধ বয়সে বেশি দেখা দিয়ে থাকে। যেসব কারণে এই অস্বাভাবিক স্তন বা গাইনেকোমাস্টিয়া দেখা দিতে পারে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
০১. হরমোনসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ গ্রহণ
০২. রক্তে ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য
০৩. টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমে যাওয়া
০৪. অ্যানড্রোজেন রিসেপ্টরের ত্রুটি
০৫. দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ
০৬. লিভার সিরোসিস
০৭. এইচআইভি ইত্যাদি
তবে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এর কোনো কারণ ধরা যায় না। প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমনটি হচ্ছে কি না। ওমিপ্রাজল, সিমেটিডিন, ইমাটিনিব মিসাইলেট, স্পাইরোনোল্যাকটন, ফিনাস্টেরাইড ও কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধও এধরণের সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ সরাসরি স্তন টিস্যুর ওপর কাজ করে থাকে আবার কিছু কিছু ওষুধ ডোপামিনের কাজে বাধা সৃষ্টি করে থাকে এবং পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে প্রোলাকটিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে থাকে।
অ্যান্ড্রোসটেনেডিওন ইস্ট্রোজেনের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় শক্তিবৃদ্ধিকারী ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত । যেমন অ্যান্টি অ্যানড্রোজেন এবং ডিএনআরএইচ অ্যানালগ (প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ) এগুলো গাইনেকোমাস্টিয়া করে থাকে। গাইনেকোমাস্টিয়ার একটি কারণ মারিজুয়ানা । টেস্টোস্টেরনের উৎপাদনের মাত্রা কমে গেলেও গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে। যেসকল কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে পারে যেমন অণ্ডকোষের সমস্যা, হাইপোথ্যালামাস কিংবা পিটুইটারির রোগে। অ্যানাবলিক অ্যান্ড্রোজেনিক স্টেরয়েডের অপব্যবহারও এই প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে একটি গুরুত্ব বিষয় হচ্ছে গাইনেকোমাস্টিয়ার জন্য দায়ী ওষুধগুলো বন্ধ করা হলে স্তন আগের অবস্থায় ফিরে যায় বা মিলে যায়। এরপরও যদি অবস্থা স্বাভাবিক না হয় তাহলে অস্ত্রোপচারের দরকার হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, যদি পুরুষদের মধ্যে স্তন বড় ধরণের হয় মানে অস্বাভাবিক হয় তাহলে অবশ্যই সংকোচ না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডাঃ এ, কে, এম সুজাউর রহমান
মেডিসিন, চর্ম ও যৌন ইউনিট। মেডিসিন, চর্ম ও যৌন রোগে অভিজ্ঞ
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: সন্ধ্যা ৬.৩০ – রাত ৯.৩০ টা
(শুক্রবার)
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
