ডাস্টবিনে মিলল শিশুদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ

প্রতিকী ছবি

শিশু ও মানবদেহের সংরক্ষিত বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পশ্চিম পার্শ্বের ড্রেন ও ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে । গতকাল সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় জরুরি বিভাগের পশ্চিম পার্শ্বের পানির ট্যাঙ্ক-সংলগ্ন ড্রেনে একটি অপরিপক্ক শিশুর দেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে একে একে পাওয়া যায় শিশুসহ ২৬টি মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ওই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শিশুর দেহ কলেজের গাইনি বিভাগের ল্যাবে রাখা ছিল। বহু পুরনো হওয়ায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা মাটিতে না পুঁতে ড্রেনে ফেলা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী মাটিতে না পুঁতে কেন ড্রেনে ফেলা হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে প্রত্যক্ষদর্শী খান আব্বাস জানান,  সিটি করপোরেশনের লোকজন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ময়লা অপসারণ করতে গেলে জরুরি বিভাগ-সংলগ্ন পানির ট্যাঙ্কের নিচ থেকে খোলা ও বোতলজাত অবস্থায় অপরিপক্ক শিশু এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখতে পায় তারা। এ ঘটনা জানাজানি হলে পুরো হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয় আর শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী  জানান, কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অধিকাংশই পাওয়া গেছে পানির ট্যাঙ্কের নিচে ডাস্টবিনে। এ ব্যাপারে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাকির হোসেন বলেন, গাইনি বিভাগের ল্যাবরেটরিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু এবং মানবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংরক্ষিত থাকে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর জন্য এগুলো ব্যবহার হয়।

পরিচালক আরো জানান, যেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু  অব্যবহৃত শিশু ও মানবদেহের অঙ্গগুলো মাটিতে না পুঁতে ড্রেন ও ডাস্টবিনে ফেলেছে, যা মোটেই ঠিক হয়নি।  অধ্যাপক ডা. বাকির জানান, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কেন তা ঘটল, তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*