এই রাতে করণী ও স্বলাত আদায় করার নিয়মাবলী

এই রাতে করণী ও স্বলাত আদায় করার নিয়মাবলী

আজ পবিত্র শবে বরাত। শবে বরাতের স্বলাত আদায় করার রাত ।হাদীসে আছে,সাবান চাঁদের ১৫ তারিখে রাতে  যে ব্যাক্তি এবাদতে থাকবে এবং দিনের বেলায়  রোজা রাখবে, জাহান্নামের আগুন তাকে ছোঁবে না।

আজকে করণীয়সমূহ:-

আজকের সম্পূর্ণ রাত্রি হল স্বালাত আদায় করার ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য এক উত্তম রাত্রী, যার ফজীলত হাজার রাতের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতে বান্ধা তার সকল পাপ কাজের ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আল্লাহর আরশ উন্মুক্ত পাবে আর মহান আল্লাহ ও নিজেই ঘোষনা করে দিয়েছেন যে তিনি চাইতে থাকেন খুজতে থাকেন কে তাহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা চাচ্ছে।

শবে বরাতের নামাযের নিয়ম:-

আসলে শবে বরাতের নামাজ বলে আলাদা কিছু নেই, যেহেতু এই রাতটি ইবাদত বন্দেগী করে কাটাতে হবে তাই হাদিসেই সমাধান আছে। আর বিশ্ব মুসলিম এই বিশেষ কিছু ইবাদত পালন করে থাকেন। হাদিসের আলোকে সেগুলো নিম্নরূপ:

 ‘সালাতুল তাসবীহ নামাজ:

রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামায পড়লে আল্লাহ আয-যাওযাল আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন।

‘হে চাচা জান !

আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক ১ করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন ( তবুও ছাড়বেন না)”।

সালাতুল তাজবীহ নামাজের পদ্ধতি:

রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামায পড়লে আল্লাহ আয-যাওযাল আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন।

তিনি বলেন, চাচা জান ! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামায পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামায পড়বেন ।

সালাতুল তাসবিহ নিয়মঃ

৪ রকাত । প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোন সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাযে বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রকাতে পঁচাত্তর বার করে, চার রাকাতে মোট তিনশত বার তাসবীহ পড়তে হবে।

তাসবীহ আরবি:  سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ

বাংলা উচ্চারণঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

-) প্রথম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবীহ টি পনের বার পড়তে হবে

-) এরপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত  ৩ আয়াত পড়ার পরে তাসবীহ টি দশ বার পড়তে হবে ।

-) তারপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পরার পরে তাসবীহ টি দশ বার পড়তে হবে

-) তারপর  রুকু হতে দাড়িয়ে গিয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” পড়ার পরে তাসবীহ টি দশ বার পড়তে হবে ।

-) তারপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি দশ বার পড়তে হবে ।

-) প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবীহ টি  দশ বার পড়তে হবে ।

-) তারপর পুনরায় সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহ টি  দশ বার পড়তে হবে ।

-) এরপর আগের মতই ২য় রাকাত পড়তে হবে,

[সুরা ফাতিহা পড়ার পূর্বে তাসবীহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।]

— এরপর দ্বিতীয় রাকাতে ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…”,

দরুদ আর দোয়া পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ২য় রাকাত এর মতো ৩য় এবং

চতুর্থ রাকাত একই নিয়মে শেষ করতে হবে।

শব–ই বরাত এর নফল নামাযঃ

। দুই রকাত তহিয়াতুল অযুর নামায।

পদ্ধতি: প্রতি রকাতে আল হামদুলিল্লাহ ( সূরা ফাতিহা) পড়ার পর , ১ বার আয়াতুল কুরসী এবং তিন বার ক্বুলহু আল্লাহ শরীফ ( সূরা এখলাছ) । ফযীলতঃ প্রতি ফোটা পানির বদলে সাতশত নেকী লিখা হবে।

। দুই রকাত নফল নামায:

নিয়মঃ ১নং নামাযের মত, প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর, ১ বার আয়াতুল কুরসী এবং ১৫ বার করে সূরা এখলাছ শরীফ, অতপর সালাম ফিরানোর পর ১২ বার দুরূদ শরীফ।

ফযীলত সমূহ: রুজিতে রবকত, দুঃখ-কষ্ট হতে মুক্তি লাভ করবে, গুনাহ হতে মাগফিরাতের বখসিস পাওয়া যাবে।

। ৮ রকাত নফল নামায , দু রকাত করে পড়তে হবে।

নিয়মঃপ্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর , সূরা এখলাছ ৫ বার করে। একই নিয়মে বাকি সব। ফযীলতঃ গুনাহ থেকে পাক হবে , দু’আ কবুল হবে এবং বেশী বেশী নেকী পাওয়া যাবে।

। বার রকাত নফল নামায , ২ রকাত করে।

নিয়মঃ প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহার পর, দশ বার সূরা এখলাছ এবং এই নিয়মে বাকি নামায শেষ করে , দশ বার কলমা তওহীদ, দশ বার কলমা তামজীদ এবং দশ বার দুরূদ শরীফ।

। চৌদ্দ রকাত নফল নামায, ২ রকাত করে।

নিয়মঃপ্রতি রকাত সূরা ফাতিহার পর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। ফযীলতঃ যে কোন দু’আ চাইলে তা কবুল হবে।

। ৪ রকাত নফল নামায, প্রথম সালামে পড়তে হবে।

নিয়মঃ প্রতি রকাতে সূরা ফাতিহা পর পঞ্চাশ বার সূরা এখলাছ শরীফ।

ফযীলতঃ গুনাহ থেকে এমনভাবে পাক হবে যে সদ্য মায়ের গর্ভ হতে ভুমিষ্ঠ হয়েছে।

। আট রকাত নফল নামায, প্রথম সালামে।

নিয়মঃ প্রত্যেক রকাতে সূরা ফাতিহার পর এগার বার সূরা এখলাছ শরীফ।

হযরতে সৈয়্যদাতুনা ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহুমা এরশাদ করেছেন, “ আমি ঐ নামাজ আদায় কারীর সাফায়াত করা ব্যাতিত জান্নাতে কদম রাখবো না। রোযার ফযীলত হুজুর সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে শাবানে ১ দিন রোযা রেখেছে, তাকে আমার সাফায়াত হবে।

তাড়াহুড়া করে একশত রাকাত পড়ার চেয়ে একনিষ্ঠভাবে দীর্ঘ রুকু-সিজদা করে ২ রাকাত পড়া অনেক ভালো।

আরো পড়ুন: বাত রোগ ও এর প্রকারভেদ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*