আঘাতজনিত পক্ষাঘাতের রোগী, হাসপাতালে অথবা পক্ষাঘাত কেন্দ্রে আঘাতের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বাসনের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ যত্ন নিতে হবেঃ
✪ সহানুভূতি ও সমবেদনার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা শুশ্রষা করতে হবে।
✪ রোগীর মনোবল ও সাহস জোগাতে হবে।
✪ এ ধরনের অন্যান্য রোগীর সঙ্গে ভালোভাবে মেলামেশার ব্যবস্থা করতে হবে।
✪ বিছানা ক্ষত (Bedsore) প্রতিরোধের জন্য রোগী ও পরিচর্যায় নিয়োজিত আত্মীয় স্বজনকেই দুই ঘন্টা পর পর পার্শ্ব পরিবর্তনের পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ
নিতে হবে।
✪ মূত্রাশয়ের যত্ন নিতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে। মূত্রনালী, মূত্রাশয় ও বৃক্কের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট শল্যবিদের পরামর্শ নিতে হবে। রোগী ও আত্মীয় স্বজনকে ক্যাথেটার প্রয়োগ ও চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে জমা প্রস্রাব নিঃসরন পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অবিরাম মূত্র নল ব্যবহারের ফলে মূত্রাশয় সংকোচিত ও ছোট আকারের যাতে না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
✪ অস্ত্রের যত্ন সহজ পাপ্য ও পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ডুসের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় আঙুল দ্বারা মল বের করতে হয়।
✪ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের যত্ন: গিরা ও মাংসপেশির কাজ স্বাভাবিক রাখা, দুর্বলতা, ক্ষয়প্রাপ্ততা ও বিকৃতি প্রতিরোধ করার জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আত্মীয়-স্বজন দ্বারা নিয়মিত কৌশলগত ব্যায়াম করতে হবে। অন্যথায় পরে পুনর্বাসন কঠিন হবে।
✪ দৈহিন পুনর্বাসন: ভগ্ন অস্থি ও সন্ধি দৃঢ় হওয়ার পর ব্যায়াম দ্বারা শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাংসপেশি শক্তিশালী ও কর্মক্ষম করে পুনর্বাসন প্রযুক্তি বা উপকরণ ব্যবহারের উপযোগী করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
✪ প্রাথমিক অবস্থা থেকেই উপযুক্ত পেশায় নিয়োজিত করলে সে পেশাভিত্তিক ব্যায়ামে ভালো ফল পাওয়া যায় এবং পুনর্বাসন সহজ হয়।
✪ সহায়ক উপকরণ ব্যবহার প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্পাইনাল ব্রেস, একজিলারি ক্রাচ, এলবো ক্রাচ ও হুইলচেয়ারের কার্যকরী ব্যবহার করতে হবে। ধীরে ধীরে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।
✪ উপযোগী পেশায় নিয়োজিত হয়ে যতটুকু পেয়েছি ততটুকু’ নিয়ে জীবনযাপন করতে হবে। বসে বসে কাজগুলো যেমন-লেখাপড়া, টাইপ, টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, ঘড়ি মেরামত, খেলনা তৈরি, দরজি, কাপড় ধোয়া ও সেলাই ছাতা জুতা তৈরি ও সেলাই , বই বাধাই ও কাঠমিস্ত্রী এ ধরনের আরও অনেক কাজ হুইল চেয়ারে করে সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানের তদারকির কাজও করানো যেতে পারে।
✪ সামাজিক পুনর্বাসন: সমাজের সর্বস্তরের লোকের সহানুভূতি ও সমবেদনার সঙ্গে সঙ্গে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। সমাজসেবক, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি তরফ থেকে আর্থিক অনুদান বসে ভিক্ষারূপে না হয়ে অর্থোপার্জনে ব্যবহৃত হয় সে দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।
✪ পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পঙ্গুদের অন্ন-বস্ত্র ও অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করা
✪ বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরচর্চা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
✪ পক্ষাঘাত গ্রস্তদের জন্য সমিতি ও চিত্তবিনোদন মূলক ব্যবস্থা, যেমন- সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, গান বাজনা, তাস, দাবা ও পড়ার জন্য লাইব্রেরির ব্যবস্থা করতে হবে।
✪ কর্মশালা নির্মাণ, প্রশিক্ষণ ও কাজের সংস্থান।
✪ পক্ষাঘাতগ্রস্তের মনোবল দৃঢ় রাখার ব্যবস্থা, চিকিৎসাসহ সব রকম সাধ্যমতো উন্নতমানের জীবনযাপন বিধানের নিশ্চয়তা ও সময়োপযোগী কার্যকরী সহযোগিতার নিশ্চিত বিধিব্যবস্থা থাকতে হবে।
✪ অক্ষমতা ও অপারগতা এক নয় বোঝাতে হবে
✪ অতীত জীবনের কথা ভুলে অক্ষমতা ও অপরগতাকে স্বীকার করে নতুন করে কাজে নামতে হবে।
✪ সংক্রমণ ও জ্বরের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে হবে ও প্রচুর পানি পান করতে হবে।
পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

