স্বাতী মন্ডল- হাটুঁর সমস্যা ও ডিপিআরসি হাসপাতাল লিঃ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

আমি স্বাতী মন্ডল, পেশায় স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ। আমি এই পেশায় দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর সসম্মানে ও সুষ্ঠুভাবে কর্তব্য সম্পাদন করে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। আমি বর্তমানে ক-১৪৩/৩ জোয়ার নাহার ঢাকা-১২২৯ নিজের বাড়িতে থাকি। আমি ঢাকায় থাকলে ও ডিপিআরসি হাসপাতালের কথা কিছুটা শুনেছি, কিন্তু ওদের ঠিকানা-কার্যক্রম কিছু জানা ছিলনা। প্রয়োজনের তাগিদে আমি কেমন করে এখানে এলাম ও চিকিৎসা নিলাম আজ তা-ই বলবো। বয়সকালে কর্মঠ বলে যথেষ্ট সুনাম ছিল। ঘরে বাইরে সব কাজ একাই সামলাতাম, আজ সায়াহ্ন বেলায় আমার শরীরের কল কব্জাগুলি বিদ্রোহ করছে- বলছে, হয়েছো প্রবীণ।

মাস ২/৩ ধরে আমার হাঁটুতে খুব ব্যথা হচ্ছিল, দিন দিন যেন পঙ্গু হয়ে যাচ্ছিলাম। রাতে বাথ রুমে যেতে হলে ধরে ধরে যেতে হতো। খুব কষ্ট হচ্ছিল, কি যে হতাশ আর অসহায় লাগছিল নিেেজকে! কারণ আমার সংসারে কাজ আমাকেই করতে হয়। এর আগে ২/৩ বার এপোলো হাসপাতাল থেকে ঔষধ ও ইনজেকশন নিয়ে কিছুটা সাময়ীক উপশম হয়েছিল, তাই এবার ও সেই ভরসায় গেলাম। গিয়ে দেখি ডাক্তারের ভিজিট ২০০ বেড়ে ১৮০০ হয়েছে। তাও ভাবলাম এসেছি যখন ডাক্তার দেখিয়ে-ই যাই। আমি ব্যথা সহ্য করি তবু ব্যথার ঔষধ খাই না, কারণ ৩ বৎসর আগে আমার রক্তে Creatinine ধরা পড়েছে। যাক, ডাক্তার দেখালাম, ডাক্তার এক বাক্য বল্লেন হাঁটুর অপারেশন করতে হবে। আমার ও ব্যথার জ্বালায় মনটা দুর্বল ছিল, আর সব ডিসিশান আমাকেই নিতে হবে।

স্বামী থাকতে সব সিদ্ধান্ত ওনিই নিতেন, আমাকে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে দিতেন না। আমি কিছু নিয়ে চিন্তা করলে বলতেন, আমি তো আছি। এখন আর এই তিন শব্দের কথাটা বলার কেউ নেই। থাক, অপারেশানের খরচ, অপারেশন পরবর্তি ঝামেলার কথা শুনার পর মন খারাপ করে একটা ব্রেঞ্চে বসে আমার ইষ্ট দেবতার নিকট প্রার্থনা করছিলাম একটা পথ দেখাবার জন্য। এমন সময় একজন অপরিচিত ভদ্রমহিলা। আমর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন- আমার কি হয়েছে। আমি তাঁকে সব বলি। সব শুনে বলেন, আপনি অপারেশন একদম করাবেন না। আপনি রিং রোড ডিপিআরসি হাসপাতালে চলে যান, আমি সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভাল আছি। ওনি আমাকে একটা মোবাইল নাম্বার দেন। আমি বাসায় এসেই ফোন করি। এক ভদ্রমহিলা অফিস থেকে আমার মোবাইলে এসএমএস করে ডাক্তারের নাম ও ঠিকানা দেন ডা: মো: সফিউল্ল্যাহ্ প্রধান
ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব
১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা- ১২০৭।

পরদিন আমি ডিপিআরসি হাসপাতালে যাই এবং ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে দেখা করি। ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা পদ্ধতি ও খরচপাতি আমার আয়ত্বে থাকায় ২৭ এপ্রিল হসপিটালে ভর্তি হয়ে যাই। হসপিটালের বেডে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে আমাকে কতগুলি জিনিস যেমন- গরম জলের ব্যাগ, ব্যায়ামের পোষাক, থালা- গ্লাস ইত্যাদি প্রয়োজনীয় আরও অনেক কিছু গিফট হিসাবে দেয়া হয়। আমার খুব ভাল লাগছিল। এই প্রয়োজনীয় গুলি যদি আমাকে বাইরে থেকে কিনতে হলে কত কষ্টেই না পরতাম। ভর্তির দিন থেকেই আমার চিকিৎসা শুরু হয়।

তৃতীয় দিনেই আমি না ধরে হাঁটতে পারি। এখানে কোন কিছুর জন্যেই বাইরে যেতে হয় না। খাবার, ঔষধ এখান থেকেই দেয়া হয়। খাবারও বেশ উন্নত মানের। রমজান মাসের শরুতেই সেহরী ইফতারী, ঠান্ডা পানীয় শরবত সরবরাহ করা হচ্ছে সকলের জন্যে। হাসপতালটা খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আমার রুমে ফ্যান, এসি ফ্রীজ, টেলিভিশন, গরম পানি সবই আছে। রুমটাও বেশ বড় ও খোলামেলা। এই হাসপাতালের কর্মকান্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডা: প্রাধনই আছেন। উনি রোগীদের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল এবং ঈড়হপবৎহ । আমার মনে হয়েছে উনি ওনার কর্তব্যে যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও পারদর্শী। ওনার সঙ্গে পরিচয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট ও আশ্বস্থ।
এই হাসপাতালের ছোট বড় সকল স্টাফদেরই ব্যবহার বেশ ভাল ও সকলেই খুব কর্তব্যনিষ্ঠ।

স্বাতী মন্ডল
১৯-০৫-১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × five =