লিভারের শত্রু অতিরিক্ত চর্বি- জেনে নিন কি করবেন?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

কিছু অলসতার কারণে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে আপনার আমার সকলের। আমাদের সবার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে অনেকে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন না বা এ নিয়ে চেষ্টাও করেন না। তখন ঘটে বিপত্তি। অতিরিক্ত ওজনের ফলে একটি সমস্যা হচ্ছে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা। জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে যেসব অসুখ সহজেই শরীরে বাসা বাঁধে তার অন্যতম একটি মারাত্বক সমস্যা বা রোগ হচ্ছে ফ্যাটি লিভার।

আমাদের প্রত্যেকের লিভারেই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে চর্বি থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের ধারণা কেবলমাত্র মদ্যপানের অভ্যাস এই রোগের কারণ। এই ধারণা মোটেও সঠিক নয়।

আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন

প্রথমেই জেনে নিই- ফ্যাটি লিভার রোগ কী?

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করছে। লিভার ৫ শতাংশ পর্যন্ত চর্বি দাহ্য করতে পারে। তবে লিভারে যদি ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমে থাকে, এটা ধীরে ধীরে ফ্যাটি লিভারে রূপান্তর হয়। এই লিভারে চর্বি জমে যখন লিভারের কার্যক্ষমতা কিছুটা নষ্ট করে দেয়, তখন লিভার এনজাইমগুলো বেশি হয়ে যায়।

তখন একে বলি আমরা স্ট্যাটু হেপাটাইটিস। এই স্ট্যাটু হেপাটাইটিস দুই রকমের রয়েছে।

  • অ্যালকোহলিক হতে পারে
  • নন-অ্যালকোহলিক হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করি। একটি হলো

  • নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিস

আরেকটি হলো

  • ন্যাশ। অর্থাৎ নন-অ্যালকোহলিক স্ট্যাটু হেপাটাইটিস।

মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান থেকে লিভারে চর্বি জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি মূলত খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল, ফ্যাট জাতীয় উপাদান বেড়ে গেলে হয়। কখনও কখনও নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বংশগত কারণেও হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের কারণে দেখা দিতে পারে লিভার সিরোসিস। লিভার তার নিজস্ব কর্মক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে। আপনি চাইলে ঘরোয়া কিছু অভ্যাসে দূর করতে পারেন ফ্যাটি।

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা রোগ প্রতিরোধে করণীয়

ব্যথানাশক ঔষধ

শরীরের কোথাও ব্যথা বাড়লেই তা সহ্য না করে যখন তখন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ব্যথানাশক ওষুধে ব্যবহৃত নানা উপাদান লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে লিভারের ক্ষতি করে। তাই যথাসম্ভব এটা পরিহার করুন।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করা

লিভারে প্রদাহ সিরোসিসের আরেকটি কারণ। সাধারণত এ,বি, সি ভাইরাসের আক্রমন করলে লিভার সিরেসিস হতে পারে।এগুলো রক্তদান বা গ্রহণের সময় শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে রক্ত দেওয় বা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। সেই সঙ্গে এসব ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা দিতে পারেন।

জাঙ্কফুড খাবার

মসলাদার, জাঙ্কফুড, প্রক্রিয়াজাত খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

পেঁয়াজ-রসুন

কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন শরীরের টক্সিনকে বের করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কিছুটা কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন রাখুন।

কফি

যারা দিনে ২ থেকে ৩ বার কফি খান তাদের লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় কম থাকে।

অ্যালকোহল মুক্ত থাকা

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারণ।সাধারণত ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করলে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি থাকে।

পানি

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যে পরিমাণ পানি পান করা জরুরি সেটা অবশ্যই পান করুন। লিভার সুস্থ রাখতে পানি বিকল্প কোন কিছু নেই। তাই পানির কোন অভাব শরীরে পড়তে দিবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 + seventeen =