“বার্ধক্যের বাত ব্যথার চিকিৎসা”

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

“বার্ধক্যের বাত ব্যথার চিকিৎসা”

স্বাস্থ্য সচেতনতা, চিকিৎসা সুবিধা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি পরিবর্তনের ফলে দিনে দিনে মানুষের বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক ও মানষিক শক্তি এবং দেহ কোষের কর্মক্ষমতা বা সামর্থ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। টিস্যুর এই সামর্থ ক্রমাবনতির হার বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও জয়েন্টের ব্যথায় যাকে আমরা সহজ ভাষায় বাত বলে জানি। সাধারণতঃ ৫০ বছর পর বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের দেশে ৫০ উর্দ্ধ জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগ লোক জয়েন্টের ব্যথা জনিত সমস্যায় ভোগেন।

হাঁটুর ব্যথা, চিকিৎসা ও পরামর্শ

হাঁটু মানুষের একটি বড় জয়েন্ট। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বয়সজনিত ক্ষয়ের জন্য হাঁটুর ভিতরের লিগামেন্ট, মিনিসকাস এবং হাড়ের প্রদাহজনিত পরিবর্তনের ফলে হাঁটুতে ব্যথার সৃষ্টি হয়ে চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে এই রোগকে সাধারণত অস্টিও আর্থ্রাইটিস বলে বেশী পরিচিত। সাধারণত আঘাত, শারীরিক ওজন বৃদ্ধি, হরমোনজনিত সমস্যা এই রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

চিকিৎসা: ব্যথা নিবারক ঔষধ দীর্ঘদিন গ্রহণ করতে হয় বলে তাতে নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দেখা দিতে পারে। তাই এই রোগের উৎকৃষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা হচ্ছে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা পদ্ধতি। রিহেব-ফিজিও তে সর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, কিংবা আইছ থেরাপি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। নিয়মিত সঠিকভাবে হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশীর শক্তি বর্ধন জাতীয় ব্যায়াম দেওয়া হয়ে থাকে যাতে জয়েন্ট এর রেঞ্জ এবং মাংসপেশীর শক্তি বৃদ্ধি পায়।

তবে কোনো ক্রমেই এমন কোনো কাজ বা ব্যায়াম করা ঠিক হবেনা যাতে ব্যথা বৃদ্ধি পায় এছাড়া রোগীকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে যেমনঃ হাটু অতিরিক্ত ভাঁজ না করা, শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখা কিংবা অতিরিক্ত ওজন কমানো, হাটু কোনো অবস্থায় পুরোপুরি ভাঁজ করা ঠিক হবেনা, সেই ক্ষেত্রে তারা নামাজ পড়ার সময় চেয়ার এবং বাথরুম ব্যবহার করার সময় কোমড ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়।

স্কন্ধ অস্থি সন্ধি বা সোল্ডার জয়েন্টে ব্যথা, চিকিৎসা ও পরামর্শঃ

স্কন্ধ অস্থি সন্ধি একটি জয়েন্ট। বয়স ও ব্যবহারজনিত কারণে এই সকল জয়েন্টের আশে-পাশের মাংসপেশী, টেন্ডন, লিগামেন্ট, ক্যাপসুল ও বার্সাতে প্রদাহ হতে পারে এবং রোগী জয়েন্ট নাড়াচাড়া করতে ব্যথা অনুভব করে, ফলে জয়েন্ট নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকেন এবং জয়েন্টটি আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে জমতে শুরু করে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় জয়েন্ট এর নাড়াচাড়া করার ক্ষমতা হ্রাস হয় এবং স্টিফনেস ডেভলাপ করে। ডায়াবেটিস, ঘাড়ের ব্যথা ও বুকের সার্জারীর কারণেও এ জোড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসাঃ এই রোগের চিকিৎসায় ব্যথা নিরাময় কারক ঔষধের সাথে সাথে কার্যকরী ও প্রধান চিকিৎসা ব্যবস্থা হচ্ছে রিহেব-ফিজিও। রিহেব-ফিজিওতে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রোমেডিকেল যন্ত্রপাতি যেমন: সর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, আইএফটি ব্যবহার করে ব্যথা কমানো যায়। ইলেক্ট্রোথেরাপির সাথে সাথে জয়েন্টের সচলতা বাড়ানো জন্য বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম যেমনঃ পেন্ডুলার এক্সারসাইজ, মেনুপুলেশন, কৌশলগত ব্যায়াম করা উচিৎ।

এছাড়া ফ্রোজেন সোল্ডার রোগীদের নিয়মিত সাতার কাটা ও ব্যবহারিক ব্যায়াম যেমনঃ দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে হাত আস্তে আস্তে উপরে উঠানো, উপরে ঝুলানো পুলির মাধ্যমে দড়ির সাহায্যে হাত উপরে নীচে করা, তোয়ালে দিয়ে পিঠ মোছা ইত্যাদি। যে জোড়ার ব্যথা সেদিকে কাত হয়ে না শোয়া এবং জোড়ার গরম শেক দেয়া ইত্যাদি উপদেশ মেনে চলতে হয়। অনেক সময় সোল্ডার জয়েন্টে ইনজেকশান প্রয়োগ করলেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

কোমর ব্যথার চিকিৎসা ও পরামর্শঃ

বার্ধ্যক্যজনিত বয়সে কোমর ব্যথার প্রধান কারণ হচ্ছে কোমরের হাড় ও ইন্টারভার্টিক্যাল ডিস্ক এর ক্ষয় এবং কোমরের মাংশ পেশীর দুর্বলতা। কোমর ব্যথার রোগগুলোকে আমরা, লো-ব্যাক পেইন/লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস/ প্রোলাপস্ ডিস্ক ইত্যাদি রোগ বলে থাকি। এই রোগের কারণ, প্রক্রিয়া ও চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ঘাড় ব্যথা বা সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস এর অনুরূপ।

তবে রোগীর শরীরের অবস্থান/ পোশ্চার সঠিকভাবে রক্ষার গুরুত্ব দিলে অনেক ক্ষেত্রে কোমরের ব্যথা এড়ানো সম্ভব। শক্ত বিছানায় শোয়া, কাত হয়ে বিছানায় শুতে যাওয়া, ওঠা, ভারী জিনিস বহন বা তোলা পরিহার করা, নিয়মিত কোমরের ব্যয়াম করা এবং অসমতল যায়গায়, ওঠা, ভারী জিনিস বহন বা তোলা পরিহার করা, নিয়মিত কোমরের ব্যায়াম করা এবং অসমতল যায়গায় চলাচল না করা ইত্যাদি।

কোমরের ব্যায়ামের ভিতরে উল্লেখযোগ্য চীত হয়ে শুয়ে হাটু ভাঁজ করে পিঠ দিয়ে বিছানায় চাপ দেওয়া, একই অবস্থায় শুয়ে হাঁটু একত্রে এপাশ ওপাশ চাপ দেওয়া, একই অবস্থায় শুয়ে এক পা এক পা করে হাঁটু ভাঁজ করে পেটের সাথে চাপ দেওয়া ইত্যাদি। কোমরের ব্যথার রোগীরা ব্যথানাশক ঔষদের সাথে সাথে ফিজিওথেরাপিস্ট এর পরামর্শ মোতাবেক শর্টওয়েভ, আলট্রাসাউন্ট, আই, এফটি কোমরের ব্যায়াম ও হাইড্রোথেরাপি অর্থাৎ পানিতে সাঁতার কাটলে উপকার পেতে পারেন।

ঘাড়ে ব্যথা, চিকিৎসা ও পরামর্শ:

ঘাড়ের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে মূলতঃ ঘাড়ের মেরুদণ্ডে যে হাড় ও জয়েন্ট আছে তা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যবহারের ফলে তাতে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ঘটে তার লিগামেন্টগুলো মোটা ও শক্ত হয়ে যায় এবং দুইটি হাড়ের মাঝে যে ডিস্ক থাকে তার উচ্চতা কমে এবং সরু হওয়া শুরু হয়। আবার অনেক সময় হাড়ের মাঝে যে ডিস্ক থাকে তার উচ্চতা কমে এবং সরু হওয়া শুরু হয়। আবার অনেক সময় হাড়ের মাঝে দূরত্ব কমে গিয়ে পাশে অবস্থিত স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথার জন্ম দিতে পারে।

অনেক সময় স্নায়ু রজ্জু সরু হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘাড় ব্যথা ও নাড়াচাড়া করতে অসুবিধাসহ মাথা ব্যথা কিংবা ব্যথা হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এই ব্যথা অব্যাহত থাকলে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের বিকৃতি বা স্পাইরাল ডিফারমিটি দেখা দিতে পারে। এই সব সমস্যাগুলোকে প্রকার ভেদে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয় যেমনঃ সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, সারভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসথোসিস, সারভাইক্যাল রিব, স্টিফ নেক, সারভাইক্যাল ইনজুরি ইত্যাদি।

লক্ষণঃ সাধারণত এই সমস্ত রোগীরা ঘাড়ের ব্যথাসহ ঘাড় নাড়াচাড়া করা এবং হাতে ঝিনঝিন অনুভব করার অসুবিধা কথা বর্ণনা করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে হাতে শক্তি কমে যাওয়া সহ হাতের আঙ্গুলের বোধশক্তির তারতম্যের কথা বলতে পারে। ব্যথা ঘাড় হতে মাথার দিকে উঠতে পারে।

উপসর্গ: এ রোগে কাঁধের অস্থিসংযোগস্থলে ব্যথা হয় এবং কোনো কাজ করতে গেলে এ ব্যথা প্রচণ্ড আকার ধারণ করে, কাঁধের অস্থিসংযোগ জমাট হওয়ার কারণে হাত নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা হয় এবং কখনো কখনো এমনও হয় যে, হাত সামান্য নাড়াচাড়া করা সম্ভব হয় না। কাঁধের অস্থিসংযোগের ব্যথা রাতের বেলায় বেড়ে যায় এবং ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যায়, হাত অবশ অবশ মনে হয় এবং আঙুলে ঝিনঝিন অনুভূত হয়, প্রাত্যহিক কাজ যেমন- চুল আঁচড়ানো, পিঠ চুলকানো, জামা গায়ে দেয়া, বাথরুমে পানি ব্যবহার করা ইত্যাদিতে কষ্ট হয়। কখনো কখনো এ কাজ একেবারেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।

চিকিৎসাঃ এই রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, ঘাড়ের মাংস পেশীর শক্তি বৃদ্ধি করা, ঘাড় বা বা স্পাইনের সঠিক পজিশন বা অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং যে সকল কারণে পুনরায় ঘাড় ব্যথা হতে পারে তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে সেভাবে চলার চেষ্টা করা।

ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণত ব্যথানাশক ঔষধের পাশাপাশি রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা এইসব রোগে অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে পদ্ধতিগত ব্যায়াম যেমনঃ হাত দিয়ে মাথার বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে ঘাড়ের মাংশপেশী শক্ত করে, দুই কাঁধ একত্রে উপরে উঠানো, হালকা বালিশ ব্যবহার করা ইত্যাদি। রিহেব-ফিজিওতে বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে হিট চিকিৎসা, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, মেনুপুলেশন এবং প্রয়োজন হলে ট্রাকশন এ রোগের উপকারে আসে। ঘাড়কে অপ্রয়োজনীয় নাড়াচাড়া থেকে বিরত এবং সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার, মাথার নীচে হালকা নরম বালিশ ব্যবহার করা ইত্যাদি।

কাঁধে ব্যথাঃ ফ্রোজেন শোল্ডার

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বয়ঃবৃদ্ধিজনিত অনেক রকম সমস্যাই দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফ্রোজেন শোল্ডার। ডাক্তারী ভাষায় আরেক নাম পেরি আথ্রাইটিস বা ক্যাপসুলাইটিস। তাছাড়া যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভোগেন, কাঁধে আঘাত পেলে বা কাধের মাংসপেশী মচকালে বা ছিড়ে গেলেও কাধে ব্যথা বা ফ্রোজেন সোল্ডার হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়ের সমস্যা যেমন- স্পন্ডাইলাইটিস, সোল্ডার ডিসলোকেশন থেকেও কাঁধে ব্যথা হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন ফ্রোজেন শোল্ডার হয়েছে?

  • যদি দীর্ঘদিন ধরে কাঁধের বড় জোড়ায় এক পাশ অথবা দুই পাশেই একটু একটু করে ব্যথা হয়।
  • ব্যথা জোড়ার চারপাশে হতে পারে অথবা বাহুর পাশ দিয়ে নিচেও নামতে পারে।
  • যে পাশে সমস্যা হয়, সেদিকে কাত হয়ে শুলে যদি ঐ হাত নাড়াতে কষ্ট হয়।
  •  দৈনন্দিন কাজে হাত নড়াচড়া করতে যদি ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
  • পিঠ চুলকাতে, ভাত খেতে, টয়লেট ব্যবহার করতে গেলে যদি কাঁধের জোড়ায় প্রচুর ব্যথা হয়।
  • এভাবে চলতে চলতে আস্তে আস্তে যদি জোড়ার নড়াচড়া ও কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে আসে।

এসব উপসর্গ থাকলে বুঝে নিতে হবে, আপনার ফ্রোজেন শোল্ডার হয়েছে।

চিকিৎসাঃ সাধারণত চিকিৎসকরা বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকেন এবং পাশাপাশি স্টেরয়েড জাতীয় ইনজেকশন জোড়ার ভেতর প্রয়োগ করে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, সে জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রিহেব-ফিজিও হচ্ছে এ রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন অত্যাধুনিক চিকিৎসা। ফ্রোজেন শোল্ডার সমস্যায় সাধারণত যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয় তা হচ্ছে- আইএফটি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, বিভিন্ন মবিলাইজিং এক্সারসাইজ, ম্যানুপুলেশন প্রভৃতি।

পরামর্শঃ ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দিতে পারেন। তবে কোনোরকম মালিশ করা যাবে না। চিকিৎসকের নির্দেশমতো নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। যে পাশে জোড়ার সমস্যা, সেদিকে কাত হয়ে শোবেন না। ভারী জিনিস টানবেন না। ডায়াবেটিস থাকলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

কোমর, হাঁটু ও ঘাড় ব্যথা রোগীদের পরামর্শ:

  • ব্যথা বেশী হলে ৭-১৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিবেন।
  • বিশেষজ্ঞ রিহেব-ফিজিও চিকিৎসকের নির্দেশমত থেরাপি নিতে হবে, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।
  • ব্যথার জায়গায় গরম/ঠাণ্ডা শেক দিবেন ১০-১৫ মিনিট। নতুন আঘাত প্রাপ্ত স্থানে গরম সেক দিয়া নিষেধ।
  • বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।
  • মেরুদণ্ড ও ঘাড় নীচু করে কোনো কাজ করবেন না।
  • নীচু জিনিস যেমন- পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে পীঠ সাপোর্ট দিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন।
  • ফোম ও জাজিমে না শুয়ে উচু শক্ত সমান বিছানায় শোবেন। ১-২ ইঞ্চি পুরুত্ব তোষক বা মেট্রেস ব্যবহার করবেন।
  • মাথায় বা হাতে ভারী ওজন/বোঝা বহন করা নিষেধ।
  • দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করবেন। ঘর ঝাড়ু/মোছার সময় দাঁড়িয়ে করবেন।
  • ব্যথা না থাকলে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ পরবেন।
  • রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশমত দেখানো ব্যায়াম নিয়মিত করবেন, ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, পেট ভরে খাওয়া নিষেধ, অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। আগের চেয়ে অর্ধেক কম খাবেন।
  • প্রয়োজনে লাল মাংস (চার পা পশুর মাংস) ডাল জাতীয় খাবার, মিষ্টি, ঘি, ডালডা, চর্বি, ফাস্টফুড, সামুদ্রিক মাছ পুঁইশাক নিষেধ।
  • সিঁড়িতে ওঠার সময় ধীরে ধীরে হাতল ধরে উঠবেন। ঝরণায় বা চেয়ারে বসে গোসল করবেন।
  • মেরুদণ্ড সবসময় সোজা রাখবেন, সেলুন বা ম্যাসেজ পার্লারে দিয়ে ম্যাসেজ করবেন না বা কাউকে দিয়ে কেনো প্রকার মালিশ করা নিষেধ।
  • দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না, ১ ঘন্টা পর পর অবস্থান বদলাবেন।
  • শোবার সময় একটি পাতলা নরম বালিশ ব্যবহার করবেন। প্রয়োজনে সারভাইক্যাল পিলো ব্যবহার করবেন।
  • বাহিরে চলাফেরা করার সময় কোমরের বেল্ট ব্যবহার করবেন, শোবার সময় ও ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই বেল্ট খুলে রাখবেন। ৩ মাসের বেশী একটানা কোমরের বেল্ট ব্যবহার করা যাবে না।
  • হাই হিল যুক্ত জুতা ব্যবহার করবেন না, নরম জুতা ব্যবহার করবেন, খালি পায়ে হাঁটবেন না।
  • ব্যথা তীব্র হলে উঁচু কমোডে বসে টয়লেট করবেন।
  • চলাফেরায় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তা এড়িয়ে চলবেন ও সামনের বা মাঝামাঝি আসনে বসবেন।
  • ব্যথা কমে গেলে নিয়মিত সমতল জায়গায় কমপক্ষে ২ ঘন্টা হাঁটুন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

মেডিকেলবিডি/এএনবি/ ২৬ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four − one =