প্লাস্টারকৃত রোগীর জন্য উপদেশ

প্লাস্টারকৃত রোগীর জন্য উপদেশ

১.    প্লাস্টার করার পর পরই প্লাস্টারের জন্য কোনো অসুবিধা হলে যেমন হাত বা পায়ের আঙ্গুল নাড়াতে বা কোনো স্থানে বেশি চাপ পড়লে চিকিৎসককে জানাতে হবে। প্লাস্টার শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়ার সময় অল্প তাপের সৃষ্টি হতে পারে- কয়েক মিনিটের জন্য যা খুবই স্বাভাবিক।

২.    টাইট প্লাস্টার হলে চিকিৎসককে অনতিবিলম্বে জানাতে হবে। টাইট প্লাস্টার বেশিক্ষণ থাকলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে রক্ত চলাচল বন্দ হয়ে পচন ধরতে পারে।

৩.    প্লাস্টার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাখতে হবে কোনো অসুবিধা না হলে রোগীর ইচ্ছামতো খোলা যাবে না।

৪.    প্লাস্টার ভেজানো যাবে না। ভেজালে প্লাস্টার শক্ত থাকবে না টুকরা/গুঁড়া গুঁড়া হয়ে ভেঙে যাবে, প্লাস্টার পাউডার চলে যাবে, থাকবে শুধু উদ্দেশ্যবিহীন নরম ব্যান্ডেজ। প্লাস্টার ব্যান্ডেজ বিফল হবে সঠিকভাবে লক্ষ্য না রাখলে চিকিৎসা বিভ্রাট ঘটবে। ভেজার আশংকা থাকলে পলিথিন পেপার ব্যাগ দিয়ে প্লাস্টারকৃত অঙ্গ ভালোভাবে জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে যাতে পানি না ঢুকে।

৫.    প্লাস্টার ভেঙে গেলে বা ঢিলা হয়ে গেলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসক দ্বারা প্লাস্টার করিয়ে নিতে হবে। চিকিৎসক ছাড়া প্লাস্টার করা কোনো অবস্থাতেই উচিত নয়।

৬.    চিকিৎসকের উপদেশ মোতাবেক ব্যায়াম অবশ্যই করতে হবে। প্রয়োজন হলে আত্মীয়স্বজন বা ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে হবে।

৭.    প্লাস্টার ও প্লাস্টারে অঙ্গের অবস্থা মাঝে মাঝে চিকিৎসককে দেখানো প্রয়োজন।

৮.   ঊর্ধ্বাঙ্গের প্লাস্টারে হাত গলার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখতে হবে- তা না হলে প্লাস্টারের বাহিরের অংশ আঙ্গুল ও হাত ফুলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৯.    নিন্মাঙ্গের প্লাস্টার- প্লাস্টারকৃত পায়ে  ভর দিয়ে হাঁটা যাবে না- হাঁটলে প্লাস্টার ভেঙে যাবে, প্লাস্টারে ফল হবে না এবং জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের উপদেশমতো ক্রাচে ভর দিয়ে চলতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বিশেষ পদ্ধতিতে প্লাস্টার হাঁটার যোগ্য (Walking plaster) করে দিতে পারেন। প্লাস্টার কাস্ট ব্রেস দিয়ে হাঁটা ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

১০.   নিন্মাঙ্গের প্লাস্টারে পা নিচে ঝুলিয়ে বেশিক্ষণ বসা যাবে না – পা ও আঙ্গুল ফুলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়ে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।  প্লাস্টার করা পা একটু উঁচু অবস্থানে বা সমান্তরাল রাখতে হবে।

১১.প্লাস্টার ময়লা বা নোংরা করা উচিত নয়। শক্ত প্লাস্টার নোংরা হয়ে গেলে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে প্লাস্টার বদলিয়ে অথবা নতুন প্লাস্টার

প্রলেপের মতো জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে।

১২. প্লাস্টারে নিচের তুলা সরানো বা তুলে ফেলা নিষেধ।

১৩. কোনো কোনো রোগীর প্লাস্টার এলার্জি বা প্লাস্টার ডারমাটাইটিস হতে পারে- এ অবস্থা চিকিৎসককে জানাতে হবে এবং চিকিৎসক যথাযোগ্য

ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

১৪. পেনসিল, কাঠ, শলাকা, টুথ ব্রাশ ইত্যাদি দিয়ে প্লাস্টারের ভেতরে চুলকানো নিষেধ। খুঁচিয়ে চুলকালে চুলকানি না কমে বরং আরও তীব্র হতে

পারে এবং ঘা হয়ে যেতে পারে। তদুপরি প্লাস্টারের নিচের তুলা সরে গিয়ে ঢিলা হয়ে যেতে পারে। অমসৃণ ও শক্ত প্লাস্টারের ঘর্ষণেও ঘা সৃষ্টি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে চুলকানির ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

১৫. প্লাস্টারের ভেতর কোনো শক্ত বস্তু যেমন- পয়সা, পাথর বা কাঠের টুকরা ঢুকানো নিষেধ। শক্ত বস্তুর চাপে অস্বস্তি লাগতে পারে এবং চাপে ঘা হতে পারে।

১৬. প্লাস্টারের ভেতর যাতে পিঁপড়া ছারপোকা বা উকুন ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

১৭. প্লাস্টার অথবা প্লাস্টারকৃত অঙ্গে যদি কোনো অসুবিধাজনক লক্ষণ দেখা দেয় তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।

১৬। সংশ্লিষ্ট অঙ্গের অস্থি-সন্ধিতে ফোলা, তীব্র ব্যথা ও অনমনীয়তা (e.g., sudeck’s Painful Atrophy) হলে।

১৭। সংশ্লিষ্ট অস্থি-সন্ধিতে স্থায়ী অনমনীয়তা সৃষ্টি হলে বা অঙ্গ সঞ্চালন সীমিত হলে।

১৮। প্লাস্টারোত্তর সৃষ্ট অসুবিধা বা জটিলতা প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসকের উপদেশ মতো চলতে হবে। প্লাস্টারকৃত এবং প্লাস্টারোত্তর অবস্থায় সমভাবে চিকিৎসকের উপদেশ মতো চললে চিকিৎসায় পূর্ণতা লাভ হবে এবং পূণর্বাসন ত্বরান্বিত হবে।তা না হলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও পুনর্বাসন বিগ্নিত হতে পারে।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*