প্রতিদিন কতটুকু দুধ পান জরুরি? জেনে নেই

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 190
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    190
    Shares

প্রতিদিন কতটুকু দুধ পান জরুরি?

১. হাড় শক্ত রাখে:- দুধ মানেই ক্যালসিয়েসের খনি। তাই দুধ যেমন দাঁত ভাল রাখে, তেমনি হাড়ের জন্যও উপকারী। বাড়তে থাকা শিশুদের জন্য তো বটেই, বড়দের হাড় মজবুত করতেও প্রয়োজন দুধ। তাই বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেরই রোজকার খাবারের তালিকায় থাকা দরকার এক গ্লাস দুধ।

২. শক্ত দাঁত:- দাঁত শক্ত রাখতে হলে অবশ্যই রোজ খান এক গ্লাস দুধ। দুধ যেমন ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়, তেমনি দাঁতের ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। ক্যাভিটিস থেকেও দাঁতকে বাঁচায়।

৩. চামড়ার জন্য উপকারী উপাদান:- ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ছাড়াও দুধে থাকে ভিটামিন, নিউট্রিন। ভিটামিন, নিউট্রিন থাকার জন্য দুধ খেলে চামড়ার উজ্জ্বলতা বাড়ে। চামড়া নরম হয়। তাই স্কিন ভাল রাখতে অবশ্যই খান দুধ।

৪. পেশীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:- দুধে শুধু ক্যালসিয়ামই থাকে না, প্রচুর পরিমাণ প্রোটিনও থাকে। আর এই প্রোটিন শরীরের পেশীকে শক্ত করে, পেশীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৫. ক্লান্তি দূর করে:- সারাদিনের কাজের চাপে আপনি কি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন? তবে ক্লান্তি দূর করার সবথেকে সহজ উপায় হল এক গ্লাস দুধ। দুধের মধ্যে থাকা ভিটামিন, মিনারেলস ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

পুষ্টি মূল – পানি (গ্রাম) ৮৭.৭, খাদ্যশক্তি(কিলো ক্যালরি) ৬৪, আমিষ (গ্রাম) ৩.৩, এ্যাশ (গ্রাম) ০.৭, ফ্যাট (গ্রাম) ৩.৬, কোলেস্টেরল (মিলিগ্রাম) ১১, পটাসিয়াম (মিলিগ্রাম) ১৪৪, ভিটামিন-এ (আই ইউ) ১৪০

গবাদি পশু থেকে জাত দুধ হল মানুষের একটি প্রধান খাদ্য। কাচা দুধের পুষ্টির পরিমাণ বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও তাতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আবার গরুর দুধ হল সামান্য অম্লজাতীয়।

প্রতিদিন দুধ পান করলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়। দুধে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংক।

তবে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু দুধ পান করতে হবে, এ নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। শুধু দুধ পান করলেই হয় না, বয়স অনুযায়ী কতটুকু দুধ খাওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়টিও জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কতটুকু দুধ প্রতিদিন পান করবেন, সে বিষয়ে।

১. শূন্য থেকে ১২ মাসঃ শূন্য থেকে ১২ মাসের শিশুদের গরুর দুধ খাওয়া ঠিক নয়। এ সময় কেবল মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুর ক্ষুধা লাগলে প্রয়োজন অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

২. এক থেকে ১০ বছরঃ এক থেকে তিন বছরের শিশুদের ৩৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রতিদিন প্রয়োজন হয়। এই চাহিদা পূরণে ১০০ এমএল দুধ খেতে হবে। ১০০ থেকে ১২৫ গ্রাম দুধের তৈরি পনির বা দই খাওয়া যেতে পারে এর পাশাপাশি। আর ৪ থেকে ১০ বছরের শিশুদের ১৩০ থেকে ১৫০ এমএল দুধ খাওয়া প্রয়োজন প্রতিদিন।

৩. এগার থেকে ১৮ বছরঃ এ সময় সাধারণত ৮০০ থেকে এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রতিদিন প্রয়োজন পড়ে। এ বয়সে দুধ খাওয়া প্রয়োজন ২০০ থেকে ২৫০ এমএল। দুধের বাইরেও অন্যান্য দুগ্ধজাতীয় খাবারও খাওয়া যায়, যেমন : দই খেতে পারেন ২০০ গ্রাম এবং পনির খেতে পারেন ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম।

৪. উনিশ থেকে ৫০ বছরঃ ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সের লোকদের জন্য প্রতিদিন ২০০ এমএল দুধ খাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দুগ্ধজাতীয় পণ্য দই (১৫০ গ্রাম) ও পনির (৩০ গ্রাম) খাওয়া প্রয়োজন। এই পরিমাণ খাবার ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে অনেকটা সাহায্য করে।

৫. পঞ্চাশ বছর উরধেঃ  ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পাশাপাশি ২০০ এমএল দুধ, দই ১৫০ গ্রাম, পনির ৩০ গ্রাম খাওয়া প্রয়োজন। ৭০ বছর বয়সের লোকদের প্রতিদিন ২৩০ থেকে ২৫০ এমএল দুধ খাওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ স্টেরয়েড দেয়া পশু চেনার ৫টি সহজ কৌশল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 3 =