পরিবেশ দূষণের কারণে সৃষ্ট অসুখ বিসুখ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    49
    Shares

পরিবেশ দূষণের কারণে সৃষ্ট অসুখ বিসুখ

পরিবেশ দূষণের কারণে মানবদেহে অনেক রোগ হতে পারে। যেমন: বেশি খেলে মেদ ভুঁড়ি, আবার, খাবারের অভাব বা কম খেলে অপুষ্টিজনিত রোগ হয়ে থাকে। তাছাড়া মদপান, ধূমপান, দারিদ্র্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, খাদ্যে ভেজাল, তেজক্রিয়তা, পানিতে আর্সেনিক, জলবায়ু পরিবর্তন, পর্বতে আরোহণ, প্লেনে ভ্রমণ, ওষুধের অপব্যবহার (মাদকাসক্তি) ইত্যাদি কারণে অনেক ধরনের প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে।

ধূমপানে কী ক্ষতি হাতে পারে?

ধূমপান এক অর্থে বিষপানের সমতুল্য। এটা ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অনেক শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সৃষ্টি কারে। ফলে ফুসফুসের অসুখ বা হার্টের অসুখে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া শ্বাসনালী, অন্ত্রনালী, অগ্ন্যাশয়, মূত্রথলি, কিডনির রোগ, স্ট্রোক বা পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁঁকি বৃদ্ধি করে। আবার গর্ভবতী মায়ের ধূমপান গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা প্রধান করে। তাছাড়া ধূমপায়ীর সংস্পর্শে থাকা অন্যান্য লোকেরও হার্ট ও ফুসফুসের রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ধূমপান বন্ধ করার উপায় কী?

ধূমপান বন্ধ করাতে হলে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় আন্দোলন এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে ক্রমান্বয়ে এর কুফল বুঝাতে পারলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিরুৎসাহিত করে এবং ট্যাক্স বৃদ্ধি করে, প্যাকেটে ধূমপান মৃত্যুর কারণ ইত্যাদি প্রচারণায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। বর্তমানে ধূমপান বন্ধ করার জন্য ওষুধ বা প্যাচ পাওয়া যায়। যারা ধূমপান করেন, তারা উদাহরণ দেন, অমুক ব্যক্তি ধূমপান করেও অনেক দিন বেঁচেছিলেন। এভাবে নিজেদের তারা সান্তনা দিয়ে থাকেন। পরিবারে যদি পিতামাতা ধূমপান থেকে বিরত থাকেন, তবে তাদের সন্তানেরা ধূমপান করবেন না, এটা আশা করা যায়। অনেক সময় খারাপ বন্ধুদের সংস্পর্শে এসে ধূমপায়ী হয়ে যেতে পারে এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার।

মদ্যপান কী ক্ষতি করে?

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বছরে পৃথিবীতে ২৫ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে থাকে। তবে এটা দেশ, কাল, পরিবেশ, মদের দাম কম ও সহজপ্রাপ্ততা অনুসারে কমবৃদ্ধি হয়। সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললেও এর ব্যবহার কমে যেতে পারে। অনেক দিন ধরে মদপানে সামাজিক সমস্যা (কাজে অনুপস্থিতি, কাজে অনীহা, পরিবারে অশান্তি, সন্তানদের মারধর করা, অর্থনৈতিক সমস্যা, ছাড়াও রাস্তায়, দুর্ঘটনা, পাগলামি করা) দেখা দেয়। এ ছাড়া ডিপ্রেশন, উদ্বিগ্ন থাকা, মদপানে অস্বাভাবিক ব্যবহার, মদপান ছেড়ে দিলে খিঁচুনি হওয়া, প্রলাপ বকা, সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে। এমনকি ব্রন, লিভার, ফুসফুস, ত্বক, হার্ট, এন্ডোক্রাইন, পেটে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্থূলতা (ওবেসিটি) কী ক্ষতি করে?

স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন বৃদ্ধি পেলে অনেক রোগরে কারণ হতে পারে। যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ডিজিজ, জয়েন্টে ব্যথা, স্লিপ এপনিয়া ইত্যাদি। বর্তমানে বেশি বেশি ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ এবং সেই সাথে অলস জীবন যাপন করা অর্থাৎ হাঁটা, ব্যায়াম করা, সাইক্লিং, সাঁতার কাটা, শাকসবজি বেশি খাওয়া ইত্যাদিতে অনীহা ওজন বৃদ্ধি করে।

বায়ুদূষণ কী ক্ষতি করে?

শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া, বর্জ্য এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট ও মোটরযানের সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ধূলিকণা, ধাতবদ্রব্য ইত্যাদি শহর ও শহরতলিকে দূষিত করছে। ফলে ফুসফুস ও হার্টের রোগ বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে বিভিন্ন স্থানের নির্গত উষ্ণতা ও রান্নার ফলে বায়ুদূষণ শ্বাসজনিত রোগের সৃষ্টি করছে।

পরিবেশের দূষণে অন্যান্য কী কারণে ক্ষতি হচ্ছে?

উপরিউক্ত কারণ ছাড়াও শব্দদূষণ, তেজস্ক্রিয়তা, পানিতে আর্সেনিক, খাদ্যে ফরমালিন ও অন্যান্য বিষ প্রয়োগ, হিট স্ট্রোক, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বজ্রপাতে মৃত্যু, অসাবধানতায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু, সড়ক দূর্ঘটনা ইত্যাদি ও পরিবেশজনিত ক্ষতির কারণ।

এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সাবধানতা, প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা নেয়া এবং বিভিন্ন আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশজনিত সমস্যা, ক্ষতি ও মৃত্যু বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ ভিব্রিও ব্যাক্টেরিয়া খুব পরিচিত নয়, কিন্তু ভয়ংকর।

গণসচেতনায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × 1 =