কাঁচা বা পাকা পেঁপের কিছু গুণাগুণ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

কাঁচা বা পাকা পেঁপের কিছু গুণাগুণ

সারা বছরই পেঁপে পাওয়া যায়। পেঁপে একদিকে যেমন সবজি, অন্যদিকে ফল। কাঁচা থাকতে পেঁপে সবজি—ভর্তা, ভাজি আর রান্না করে খাওয়া যায়।

আর পাকলে পেঁপে হয়ে যায় সুস্বাদু ফল। অতিপরিচিত পেঁপের আরেকটি নামও কিন্তু আছে, নামটি হলো অমৃততুন্বী।

নামের জন্য নয়, গুণ বিচারের কথা বলতে গেলে শেষ করা যাবে না  ‘১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে রয়েছে ৪৩ ক্যালরি শক্তি।

হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায়: প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে পেঁপেতে। এই উপাদানগুলো রক্তনালিতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। তাই হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং উচ্চরক্তচাপ এড়াতে পেঁপে খেতে পারেন নিয়ম করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে: শরীরের মেদ ঝরাতে যাঁরা তৎপর, তাঁদের খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখুন। একদিকে যেমন কম ক্যালরি আছে, অন্যদিকে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অসাধারণ।

প্রতিরোধ ব্যবস্থায়: দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারে ভূমিকা রাখে পেঁপে। নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরেই থাকে।

ডায়াবেটিস রোগের পথ্য: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ফল। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই প্রয়োজনীয় ফল নয়, ডায়াবেটিস রোগ এড়ানোর জন্যও পেঁপে খান।

চোখ ভালো রাখতে: এর ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া বয়সজনিত ক্ষীণদৃষ্টি রোগ প্রতিরোধেও পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

বয়স ধরে রাখবে: পেঁপের মধ্যে থাকা উপাদানগুলো বয়সের ছাপ লুকিয়ে ফেলতে খুব দক্ষ। নিয়মিত পেঁপে খেলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার প্রবণতা ধীর হয়ে যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধী: কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে এটি উপকারী।

হজমশক্তি বাড়াতে: উৎসব-পার্বণে ভূরিভোজটা একটু বেশিই হয়ে যায়। এ জন্য বিড়ম্বনাও কম হয় না। হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতেও খেতে পারেন পেঁপে।

কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের পেঁপেই শরীরের জন্য উপকারী। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইন নামের প্রচুর প্রোটিওলাইটিক এনজাইম।

এ উপাদান আমিষ ভাঙতে ও হজমে সাহায্য করে। তাই গরু, খাসি বা মুরগির মাংসের সঙ্গে কাঁচা পেঁপে বা রান্না করা পেঁপে খেলে বদহজম কম হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। মাংস রান্নায় পেঁপের ব্যবহারে চর্বির পরিমাণও কমায়।

প্রচুর ভিটামিন এ ও সি রয়েছে পাকা পেঁপেতে। ভিটামিন এ ও সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যুদ্ধ করে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে, দাঁত, চুল, ত্বকের সুরক্ষা করে।

তা ছাড়া কেরোটিন, ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভোনয়েড হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার ও হূদেরাগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া এর ফলিক অ্যাসিড হোমোসিস্টিনকে ভেঙে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

পেঁপে এমন একটি ফল, যাতে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ প্রায় শূন্য শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ ডাবের পানি ও তার কিছু উপকারিতা।

গণসচেতনায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × three =