হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর মধ্যে পার্থক্য

হঠাৎ করেই এবং আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম এবং নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ও জ্ঞান হারানো হলো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। অনেকেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও হার্ট অ্যাটাককে এক মনে করেন কিন্তু  এদের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য তা অনেকেই বুঝে না বা জানে না। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই আসে। হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে শুরু করলে এই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।  কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হৃদস্পন্দন থমকে যায়। কোনো রোগীর ধমনী ব্লক হয়ে গেলে অক্সিজেনপূর্ণ রক্ত হৃৎপিণ্ডে পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়। তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে হৃৎপিণ্ডের সেই অংশটি অকেজো হয়ে ।সমস্ত হার্ট অ্যাটাক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে পর্যবসিত হয় না।

আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন

মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পরে রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে যায়। আসলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পরে যদি হৃৎপিণ্ডের বৃহৎ অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বনাম হার্ট অ্যাটাক: হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য আছে। হার্ট অ্যাটাক হলে হৃদপিণ্ডের একটি অংশে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং হার্টের মাংসপেশিতে জখম হয়। অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক থেকেও আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর লক্ষণগুলো

সাধারণত সব রোগই আগে লক্ষণ প্রদর্শন করে তারপর আসে। কিন্তু একেবারে কোনো লক্ষণ ছাড়াও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে! কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই আঘাত হানতে পারে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। তবে একেবারে আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কিছু পূর্ব লক্ষণ করে থাকে। সেই লক্ষণগুলো হলো…

  • ক্রমাগত ঝিমুনি যা সহজেই চলে যায় না।
  • হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি
  • শ্বাস ছোট হয়ে আসা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • ক্লান্তি বা অবসাদ
  • কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর চার সপ্তাহ আগে বুকে ব্যথা হতে পারে

নারীদের মধ্যে এর লক্ষণগুলো একটু ভিন্ন হয়ে থাকে…

নারীদের মধ্যে এর লক্ষণগুলো একটু কম অস্পষ্ট এবং দ্ব্যার্থক হতে পারে। যেমন বুক ব্যথা অতটা তীব্র নাও হতে পারে। এবং সঙ্গে বমিভাব, ক্লান্তি, পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা এবং কাঁধেও ব্যথা হতে পারে। ধমনীতে শক্ত ব্লক নারীদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে এমনটা সচরাচরই দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে নারীদের গর্ভাধারনের সময় প্রিক্ল্যাম্পসিয়া নামে উচ্চ রক্তচাপের একটি সমস্যা হয়।

ঝুঁকির উপাদানগুলো:

জীবন-যাপন সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে যেগুলো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এর ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন:

  • শারিরীক তৎপরতা একেবারে না থাকা বা কম থাকা
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা
  • উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেনশন
  • ডায়াবেটিস
  • ধুমপান
  • উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল

ডাঃ মেহেদি হাসান (শাওন)

হৃদরোগ ও রক্তনালী অভিজ্ঞ

চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

সক্ষাতের সময়: সন্ধ্যা ৬ টা – রাত ৮টা

(শনি থেকে বুধবার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*