হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলে- যেসব জটিল রোগের ইঙ্গিত দেয়!!

মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পিছনে থাকতে পারে জটিল শারীরিক সমস্যা। আমাদের সচেতনতার সম্পূর্ণ দায় বর্তায় মস্তিষ্কের ওপর। আর মস্তিষ্কের সঠিকভাবে নিজের কাজকর্ম করে চলার জন্য রক্তের দরকার পড়ে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কোনও কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সামান্য ব্যাহত হলে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যাওয়ার সমস্যা । মস্তিষ্কের ভার্টিগো ভেসিলারি ধমনিতে রক্ত কম পৌঁছালেই মাথা ঘোরে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ভাষায় একে সিনকোপি বলা হয়।

মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া একটি লক্ষণ মাত্র যা অন্য রোগের ইঙ্গিত দেয়।

হৃদপিণ্ডজনিত কারণ

আমাদের শরীরের প্রতিটি প্রান্তে রক্তকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে হার্টের ওপর। তবে হৃৎপিণ্ডের কোনও সমস্যা হলে হঠাৎই মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হার্টের এমন সমস্যার পিছনে থাকতে পারে

  • অ্যারিদমিয়া (হৃদপিণ্ডের গতির ছন্দপতন)
  • ব্র্যাডি কার্ডিয়া (হৃদগতি কমে যাওয়া)
  • আর্টারি ব্লকেজ
  • বাধা পায় রক্তের স্বাভাবিক চলাচল
  • কার্ডিও মায়োপ্যাথি
  • পেরিকার্ডিয়াল ইফিউশন (হার্টে তরল জমে)
  • হার্ট ফেলিওর
  • হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা।

এপিলেপসি বা মৃর্গী

নিম্ন রক্তচাপ কোনও কারণে রক্তচাপ ১২০/৮০ এমএম/এইচজি-এর নিচে চলে গেলে মস্তিষ্কে সঠিক পরিমাণে রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে

মস্তিষ্কে টিউমার টিউমার থেকেও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে।

স্ট্রোক

  • ইসকেমিক স্ট্রোক
  • হেমারেজিক স্ট্রোক

এ দু-ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও মানুষ সাধারণত মাথা ঘুরে পড়ে যান

 রক্তক্ষরণ

দুর্ঘটনা বা অন্যান্য অনেক কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে গিয়ে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক পরিমাণ রক্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে মাথা ঘুরে পড়ে যান।

পশ্চারাল সিনকোপি

দীর্ঘসময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার জন্যও রক্তচলাচলে ব্যাঘাত ঘটে ও মাথা ঘোরার সমস্যা হয়।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

মাথা ঘোরার পূর্বে যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়

  • মাথা ঘোরার আগে—
  • দুর্বলতা
  • বমিবমি ভাব
  • চোখের মণি ঘোরা
  • চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা অন্ধকার দেখা
  • ঘন ঘন হাই ওঠা
  • বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ থাকা সম্ভব।
  • তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলেই বসে পড়া বা শুয়ে পড়া ভালো।

সচেতন

  • জীবনযাত্রা পাল্টান।
  • খাবারে বেশি নুন বা মশলা বা তেল যুক্ত খাবার ও জাঙ্ক ফুড পরিহার করুন।
  • অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • বদলে খান শাক, সবজি, ফল।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • সিগারেট, মদ্যপান বাদ দিন
  • রাত জাগা চলবে না।
  • ৭ ঘণ্টা ঘুমোন
  • ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেশার বা হার্টের অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*