হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জুয়েল শতকোটি টাকার মালিক!!

হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জুয়েল শতকোটি টাকার মালিক!!

ডেস্কঃ মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (হিসাবরক্ষক) লিয়াকত হোসেন জুয়েল মাত্র ১৫ বছরেই  শতকোটি টাকার উর্দ্ধে সম্পদের। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ৩১ জানুয়ারি সম্পদের হিসাবের বিষয়ে লিয়াকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে । দুদক সূত্র মতে, তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারীর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নামেই রয়েছে ১৬টি ছোট কার্গো জাহাজ  এবং আধুনিক মডেলের ৩টি প্রাইভেটকার ব্যবহার করছে লিয়াকতের পরিবার। বক্ষব্যাধি হাসপাতালে হিসাব সহকারী পদে  স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ২০০৩ সালে  চাকরিতে যোগদান করেন লিয়াকত হোসেন জুয়েল। এর পরই এসব সম্পদের মালিক হয় লিয়াকত এবং তার সাথে তার স্ত্রী লাকি আক্তার চৌধুরী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনও। দুদক সূত্রে তৃতীয় শ্রেণির এ কর্মচারীর যেসব সম্পদ রয়েছে-

১৬টি ছোট কার্গো জাহাজ ও আধুনিক মডেলের তিনটি প্রাইভেটকার ।। শহরের ভাটি লক্ষ্মীপুরে ২৪ কাঠা জমিতে রয়েছে তার বিলাস বহুল বাগানবাড়ি ।। ফরিদপুর সদরের টেপাখোলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় লিয়াকতের স্ত্রী লাকির নামে রয়েছে একটি প্রাসাদতুল্য বাড়ি ।। একই এলাকায় ‘মাহি মাহাদ ভিলা’ নামে রয়েছে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি, যেখানে লিয়াকতের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা থাকছেন ।। ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় লিয়াকতের স্ত্রীর নামে রয়েছে পাঁচ কাঠার আবাসিক প্লট ।। গোলডাঙ্গীরচরে এল অ্যান্ড এমএম নামে রয়েছে একটি ইটভাটা, যার মালিক লিয়াকত ।। তার বড় বোন নাসরিন আক্তারের নামেও নাজিরপুরে এঅ্যান্ডআর ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা রয়েছে ।। সিঅ্যান্ডবি ঘাটের বাজারে রয়েছে ১৭ শতাংশ জমি ও একটি দোতলা ভবন ।। শহরতলির আদমপুর এলাকার বেরহমপুর মৌজায় ১৭ বিঘা জমি রয়েছে স্ত্রীর নামে।

লিয়াকত হোসেন জুয়েলের ভাই বেলায়েত হোসেন জানান, এসকল সম্পত্তির বিষয়ে ৩১ জানুয়ারি ঢাকার দুদক অফিসে লিয়াকতের পরিবারকে তলব করা হয়েছে । দুদক কার্যালয়ে আমাদের পরিবার ও সম্পত্তির বিভিন্ন তথ্য দিয়েছি আমরা বলে জানান জুয়েলের ভাই।  সাধারণ সম্পাদক (ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের) হাসানউজ্জামান বলেন , একজন সাধারণ হিসাবরক্ষক হয়ে লিয়াকত হোসেন জুয়েল এত সম্পদের মালিক কীভাবে হলেন তা বের করে আনতে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এর আগে গত মাসে মেডিকেল এডুকেশন শাখার ( স্বাস্থ্য অধিদফতরের) হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন এবং তার স্ত্রী রুবিনা খানমের নামে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছিল। আবজাল ও তার স্ত্রীর ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি তদন্ত শেষে দুদক জব্দ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*