
ধনে বীজ একটি রন্ধন সহযোগি রান্নার উপকরণ। আমরা প্রায় নিত্য দিনই তরকারি, সালাদ, স্যুপ ইত্যাদি প্রায় সব কিছুতেই ব্যবহার করে থাকি । এটি মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এর কিছু ঔষধি গুনাগুণও আছে। এটি পটাসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে ও ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের উৎস বলেই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার নিরাময় করতে পারে। কোন কোন অসুস্থতা এবং অবস্থায় ধনে খাওয়া উচিৎ নয় তা নিচে দেওয়া হল:
১। ব্রণ এর সমস্যা দূর করে
তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের এবং বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণের সমস্যা বারবার হয়ে থাকে। ধনে বীজ ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করে। ধনে বীজ পেস্ট করে নিয়ে এর সাথে ১ চামচ মধু ও ১ চিমটি হলুদ মেশান। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এর সাথে মুলতানি মাটি মেশাতে পারেন। এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে শুষ্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ধনে বীজের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুনাগুণের কারণেই এটি ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমাতে অনেক কার্যকরী।
২। চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, হেয়ার ফলিকল দুর্বল হওয়া, স্ট্রেস এবং অপর্যাপ্ত খাওয়ার ফলে চুল পড়ার সমস্যা হয়। ধনে বীজ চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনি চুলে যে তেল ব্যবহার করেন তার সাথে সামান্য পরিমাণ ধনে বীজের গুঁড়া মিশিয়ে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন সপ্তাহে অন্তত দুইবার। ধনে বীজ চুলের গোঁড়াকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে এবং চুলের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।
৩। হজমে সাহায্য করে
ধনে বীজ এবং ধনেপাতা স্বাস্থ্যকর হজমের জন্য উপকারী। একমুঠো ধনে বীজ পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিন সারাদিন। পরদিন সকালে দ্রবণটি ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে পান করুন। এটি নিয়মিত পান করলে বদ হজমের সমস্যা দূর হয়। ধনে বীজে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং ডায়েটারি ফাইবার থাকে। তাই এটি যকৃৎকে ভালোভাবে কাজ করার এবং মল নির্গমনের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। ডাইজেস্টিভ এনজাইম উৎপাদনে সাহায্য করে বলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। এছাড়াও ধনে বীজ ঠাণ্ডা ও ফ্লু দূর করতে সাহায্য করে, অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, কনজাংটিভাইটিস নিরাময়ে সাহায্য করে ও অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যাকে প্রতিরোধ করে। যেসব সমস্যা থাকলে ধনে খাওয়া যাবে না।
৪। ত্বকের রোগ সারায়
বিভিন্ন ধরনের ত্বকের রোগ যেমন – অ্যাকজিমা, চুলকানি, র্যাশ এবং ইনফ্লামেশন সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে ধনে বীজ। এছাড়াও মুখের আলসার ও ঘা সারাতেও সাহায্য করে ধনে বীজ। ধনে বীজ সিদ্ধ করা পানি দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের আলসার কমতে সাহায্য করে। ধনে বীজের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন, এর সাথে ১ চা চামচ মধু মেশান। এই মিশ্রণটি ত্বকের চুলকানির স্থানে লাগালে খুব দ্রুত চুলকানি কমে। ১০ মিনিট পরে স্থানটি ধুয়ে ফেলুন। ধনে বীজে অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান আছে বলে অ্যাকজিমা ও র্যাশের মত ত্বকের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এছাড়াও ধনে বীজে লিনোলেইক এসিড থাকে যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বলে আর্থ্রাইটিস ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে।
তাছাড়াও যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত:
বদহজম: অধিক পরিমাণ ধনে গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, ক্ষুধা মন্দা, বদহজম ইত্যাদি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যকৃতে সমস্যা: অধিক পরিমাণ ধনে গ্রহণের ফলে যকৃতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জি: অধিক পরিমাণ ধনে গ্রহণের ফলে অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, চুলকনি, মুখ ও গলা ফুলে ওঠা, ঝিমুনি ভাব ইত্যাদি হতে পারে।
ত্বকের ক্যান্সার: এটা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে সূর্যের আলোতে ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে রোদে ত্বক পুড়ে যেতে পারে এমনকি ত্বকে ক্যান্সার হতে পারে।
কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস: ত্বকে প্রদাহ, অস্বস্তি, ডার্মাটাইটিস, ত্বক কালো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ত্বকের সমস্যা ধনে গ্রহণের ফলে দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী নারী: গর্ভবতী নারী এবং যারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা উচিৎ নয় কারণ এটা শরীরের গ্রন্থি থেকে রক্তরস নিঃসরণ করে। এর ফলে গর্ভবতী নারীদের ভ্রূণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
মনিকা সরকার
সহকারী অধ্যাপক। খাদ্য ও পুষ্টি ইউনিট
চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব
(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
সক্ষাতের সময়: বিকাল ৪টা – সন্ধ্যা ৬টা
(শনি, সোম, বুধ)
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
