চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি গুরুত্ব, ফিজিক্যাল থেরাপিষ্টদের ভূমিকা ও অবদান চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ও সাধারন মানুষের মাঝে পৌছানোর লক্ষ্যে ১৯৫১ সালে থেকে প্রতি বৎসর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় দিবসটির ব্যপকতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে আমরাও র্যালি, সভা সেমিনারের আয়োজন করে থাকি।
ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ন শাখা যা অতি প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ করে হাড় জোড়া, মাংস পেশী ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা হ্রাস বা লোপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূন ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় এসেছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও আধুনিকতা, ব্যপ্তি সর্বক্ষেত্রে। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের এর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন।
গত বছর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ছিল বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ন, কারণ প্রথম বারের মতো শুধু মাত্র অসংক্রামক রোগের উপর জাতি সংঘের সামিট করা হয়েছিল। জাতি সংঘের ইতিহাসে শুধু মাত্র একটি বিষয়ের ওপর সামিট আহবানের ঘটনা এটা দ্বিতীয় যা আমেরিকার নিউইয়ার্ক এ সেদেশের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সামিট উপলক্ষে জাতি সংঘের বিবৃতি বিশ্বে অসংক্রামক রোগের বিশেষ করে হ্নদ রোগ, বক্ষ্যব্যধি, ডায়াবেটিকস, এবং ক্যানসার আশাংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি বিশ্ব স্বাস্থ্যেও ঝুকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। জাতি সংঘের মতে বিশ্বে প্রতি বছর ৩৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় শুধু মাত্র অসংক্রামক রোগের কারনে যা বিশ্বে মোট মৃত্যুও ৬০%।
রির্পোট মতে অসংক্রামক রোগের কারনে অক্ষমতা ও মৃত্যুও হার কমানো ফিজিওথেরাপি এর মাধ্যমে সম্ভব। ফিজিওথেরাপিষ্টরা হিউম্যান মুভমেন্ট এবং ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিাট, প্রমটিং হেলথ, ফিটনেস এবং বিশেষজ্ঞ, ফলে ফিজিওথেরাপিষ্টরা লক্ষ লক্ষ মানুষ কে অক্ষমতা থেকে সক্ষমতায় আনতে ও মৃত্যুও হার কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোট মতে ফিজিক্যাল ইনএ্যাকটিভিটি বিশ্বে মৃত্যুও অন্যতম প্রধান কারন এবং একারণে প্রায় ৩.২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় বছরে, অন্যদিকে ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটি অসংক্রামক রোগের হার কমায়।
সামিট এর আলোচিত অসংক্রামক রোগের ক্যান্সার ছাড়া অন্যান্য সব রোগ যেমন, হ্নদ রোগ, বাত ব্যথা, বক্ষ্যব্যধি, ডায়াবেটিকস সহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারন ফিজিক্যাল ইনএ্যাকটিভিটি এবং ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিাট এর মাধ্যমে প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা যায় যা অনেক গবেষণার প্রকাশিত। সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণার প্রকাশিত বিশ্বে প্রতি বছর ৭.৬ মিলিয়ন(মোট মৃত্যুর-১৩%) মানুষ ক্যান্সারে মারা যায় এবং ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটি বাড়িয়ে ৩০% মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। আরেকটা গবেষণায় প্রকাশিত সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটি ৩৪% কোলোন এবং ব্রেষ্ট ক্যান্সার এর মৃত্যু হার ও কমায়।
সুতরাং সামিটে অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কেন্দ্র বিন্দুতে যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপিষ্টরা থাকবেন এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

