জেনে নিন- কেন এন্টিবায়োটিক খাবেন না!!

মনে হলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া- অপ্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক কখনো্ই খাবেন না , সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কোন প্রকার ঔষধই  খাওয়া উচিত নয় । আমাদের সামান্য জ্বর হলেই ঔষধের দোকানে গিয়ে দুটো জিম্যাক্স (অ্যাজিথ্রোমাইসিন) খেয়ে ফেলি। একশ ব্যাকটেরিয়াকে মারার জন্য যদি সাত দিনের ডোজ লাগত, আমরা দুইদিন পর ভালো হলে আর ডোজটা পুর্ণ করি না।

৭০ টা ব্যাকটেরিয়া মরলেও বেঁচে থাকা বাকী ৩০ টি ব্যাকটেরিয়া জি-ম্যাক্সকে চিনে ফেলে। ফলে তারা নিজেদের গঠন দ্রুত পাল্টিয়ে ফেলে। তখন আর জি-ম্যাক্স দিয়েও পরেরবার আমরা রোগ সারাতে পারি  না। কারণ জি-ম্যাক্সের বিরুদ্ধে সব ধরণের স্থায়ী ব্যবস্থা ব্যাকটেরিয়া ততদিনে নিয়ে ফেলেছে তখন সে  খুব সাধারণ রোগটিও আর এন্টিবায়োটিক দিয়ে ভালো হয় না।  অন্যদিকে  ব্যাকটেরিয়াটি ইচ্ছেমত শরীরে  বাচ্চাকাচ্চা দিয়ে   রোগ সৃষ্টি করে আর আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। আপনি আমি শুধু  দর্শক হয়ে দেখব। এরপর সব সাঙ্গ হবে। আর একদিন  সেই ছোট অসুখটা নিয়েই মৃত্যু বরণ করতে হবে।

একটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন, যেসকল ডাক্তার এন্টিবায়োটিক দিয়ে  খুব দ্রুত রোগ ভালো করে আপনাকে সুস্থ করে দিচ্ছে সে আসলে আপনাকে সুস্থ নয় বরং শেষ করে দিচ্ছে। কথায় কথায় এন্টিবায়োটিক খেতে দেয় এমন ডাক্তারকে ত্যাগ করুন। অসুখ হলে মনে মনে ধরে নিবেন যে ভাল হতে টাইম লাগবে সেইভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করবেন। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সাধারণত ৩ ধাপে মারা যায়

  • প্রাইমারী,
  •  সেকেন্ডারি
  • টারশিয়ারি স্টেপে

সুতরাং বুঝতেই পারছেন একটু সময় তো লাগবেই ৷ ভাল ডাক্তার আপনাকে কম পাওয়ারের মেডিসিন দিবে যেটা ধীরে ধীরে কাজ করবে কিন্তু আপনার জন্য ভাল। আসুন আমরা অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিককে না করি, সুস্থ সুন্দর থাকি। রোগ হলে একটু ধৈর্য ধারণ করি, কিন্তু তাড়াহুড়া না করি।

ডাঃ মোঃ এ বি সিদ্দিক

লিভার ও পরিপাকতন্ত্র ইউনিট

লিভার, পরিপাকতন্ত্র, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

চেম্বার: ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

ফোনঃ ০৯৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

সক্ষাতের সময়: সন্ধ্যা ৫টা – ৬টা

 (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*