
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এসেক্সে একটি সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে- ভ্রুণে সমস্যা দেখা দেওয়ায় গর্ভ থেকে বের করে অস্ত্রোপচারের পর আবারো মায়ের গর্ভেই রেখে দেয়া হয় ভ্রুণটিকে । বিথান সিম্পসনের গর্ভে থাকা ভ্রূণের বয়স যখন ২০ সপ্তাহ, তখন পরীক্ষায় ধরা পড়ে ওই ভ্রুণের মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হচ্ছে না, মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। এরপরই গর্ভবতী বিথানকে ইংল্যান্ডের এসেক্সের ব্রুমফিল্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা বলেন, গর্ভস্থ ভ্রূণটি ‘স্পাইনা বিফিডা’ নামে এক জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভ্রূণের স্নায়ুনালি থেকে ভবিষ্যতে সুষুম্নাকাণ্ড (স্পাইনাল কর্ড) এবং মস্তিষ্ক তৈরি হয়।
আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক যেকোন তথ্য জানতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথেই থাকুন
এই স্পাইনা বিফিডা থাকার কারণে মানবদেহে স্নায়ুনালির গঠনে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সুষুম্নাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের বৃদ্ধিও যথাযথ হয় না। এ কারণে জন্মগ্রহণের পর ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেই দম্পতি দম্পতিকে জানান, ভ্রূণটিকে নষ্ট করে ফেলতে হবে, নয়তো গর্ভস্থ ভ্রূণের ওই স্নায়ুনালির অস্ত্রোপচার করতে হবে তাছাড়া অন্যকোন উপায় নেই| বিথান গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করতে চাননি। তিনি বলেন, যখন জানতে পারলাম- ওকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় রয়েছে, আমরা অস্ত্রোপচারেই রাজি হয়ে গেলাম শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য। সেই ভ্রূণের বয়স যখন ২৪ সপ্তাহ হল, তখন লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
মাইকেল বেলফোর্ডের তত্ত্বাবধানে ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামের একদল সার্জন সফলভাবে এই অস্ত্রোপচার করেন। তারা বিথানের গর্ভ থেকে ভ্রূণটিকে বের করে নিয়ে আসেন এবং পরে ভ্রুণটিকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রেখে সেই ভ্রুণে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার শেষে আবার বিথানের গর্ভে সেই ভ্রুণটিকে স্থাপন করা হয় | বিথান বলেন, সন্তানকে স্বাভাবিক জীবন দিতেই তিনি অস্ত্রোপচারের ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন। ব্রুমফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, এ ধরণের অস্ত্রোপচারের ৮০% ক্ষেত্রেই গর্ভস্থ ভ্রূণটি কোনভাবেই বাঁচানো সম্ভব হয় না।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
