গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসের প্রভাব

গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসের প্রভাব

জিকা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে সবার ভেতরে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে এই ভাইরাসটি নিয়ে চিন্তা সব থেকে বেশি গর্ভবতী মায়েদের । কারণ গর্ভের শিশু জিকা ভাইরাসের মূল শিকার ।

গর্ভবতী মায়েদের জিকা ভাইরাস সম্বন্ধীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকায় গর্ভবতী মহিলাদের যাওয়া উচিৎ না। আক্রান্ত স্থান থেকে যত দূরে থাকা সম্ভব তত ভালো। তবে কোন কারণে আক্রান্ত এলাকায় যেতে হলে পর্যাপ্ত সতর্কতা গ্রহণ করা আবশ্যক।

গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুটি কত সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। মায়ের শরীর থেকে কত শতাংশ ভাইরাস ভ্রূণে পৌঁছাচ্ছে তার উপর এটি নির্ভর করে।

অনেক সময় দেখা যায় যে গর্ভের সন্তানটি আক্রান্ত হয় না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে শিশুটি আক্রান্ত হয় কিন্তু এই ভাইরাসের কোন প্রভাব বা কোনরূপ ক্ষতিকর দিক শিশুটির মধ্যে দেখা যায় না।

 

গর্ভাবস্থায় যদি আক্রান্ত স্থানে ভ্রমণ করতে হয়ঃ

গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত স্থানে ভ্রমনে গেলে পরবর্তীতে দেহে এই ভাইরাস দেহে চলে আসছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা খুব একটা সহজ নয়। রক্তের ভেতরে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং এর পরীক্ষা করানোর উপকরণও সীমিত। সুতরাং পরীক্ষা করানোর জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। (১) আপনাকে মশা কামড়েছিল কি না? এবং (২) এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিয়েছে কি না?

এছাড়াও গর্ভের সন্তান ২০-২২ সপ্তাহের না হলে মাইক্রোসেফালি হয়েছে কি না তা বোঝা সম্ভব নয়। সুতরাং আক্রান্ত স্থান থেকে ফিরে আসার পর অপেক্ষা করা এবং নিজের শরীরের দিকে লক্ষ্য রাখা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

মাকে যদি জিকা পরিবহনকারী মশা কামড় দেয় তাহলে কি গর্ভের সন্তানও আক্রান্ত হয়ে যাবে না। কারণ ব্রাজিলে এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া গেছে যেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মা স্বাভাবিক শিশুর জন্ম দিয়েছে। অন্য দিকে মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা মাত্র ৪১০০।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য যে সকল মশা বিতারনকারী ক্রিমে ডিইইট(DEET), পিকারিডিন, লেবুর নির্যাশ রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেনমশা বিতারনকারী কাপড়ও পাওয়া যায়। এছাড়া যে সকল মশা বিতারনকারী স্প্রেতে প্রিমেথ্রিন রয়েছে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।তবে খেয়াল রাখবেন স্প্রে যেন কাপড়ের উপরে করা হয়, সরাসরি ত্বকে স্প্রে করা উচিৎ নয়।

গর্ভাবস্থায় জিকা ভাইরাসঃ

এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ভয়াবহ কোনো সমস্যা হয় না। ৫-৭ দিনের মধ্যে এমনিতেই রোগ সেরে যায়। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এ রোগের প্রভাব মারাত্মক হতে পারে, যেমন-গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়া, বাচ্চা অস্বাভাবিক ছোট মাথা বা ব্রেইন নিয়ে জন্মানো যা মাইক্রোসেফালি নামে পরিচিত।

মাইক্রোসেফালি একটি মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি, যার ফলে বাচ্চার ব্রেইন ঠিকমত গঠিত হয়না। এর ভয়াবহতার উপর ভিত্তি করে এটি বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে, যেমন- খিঁচুনি এবং বাচ্চার ধীরগতির বিকাশ।

গবেষণায় দেখা গেছে যেসব নবজাতক গর্ভে থাকাকালীন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তারা গ্লাউকমাতে আক্রান্ত হতে পারে এতে তার শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি ক্ষতি গ্রস্থ হয় এবং তার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

কিছুদিন আগে পর্যন্তও জিকা ভাইরাস কে গর্ভের ভ্রুনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হতো। জিকা ভাইরাসের কারনেই এমনটা হয় সেটা নিশ্চিত ছিলনা। কিন্তু সম্প্রতি গবেষকরা জিকা এবং মাইক্রোসেফালির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। এখনো অনেক বিষয় অজানা রয়ে গেছে, যেমন-গর্ভবতী মহিলা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ভ্রুনের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত সব শিশুই মাইক্রোসেফালি নিয়ে জন্মায় কিনা বা এতে গর্ভ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু ইত্যাদি।

জিকা ভাইরাস, আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে সপ্তাহ খানেক অবস্থান করে। CDC এর মতে গর্ভাবস্থায় একবার আক্রান্ত হলে পরবর্তী গর্ভধারণে এর প্রভাব পরতে পারে, এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। জিকা ভাইরাস রক্ত থেকে দূর হওয়ার পর গর্ভধারণ করলে এর কোন প্রভাব গর্ভস্থ শিশুর উপর পড়েনা। পরবর্তীতে সন্তান নেওয়ার সময় জিকা ভাইরাস সমস্যা করতে পারে এরকম হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। শরীরে এই ভাইরাসের স্থায়ীত্বকাল খুব বেশি নয়।

আরও পড়ুনঃ ত্রিশের পরে মা হতে চান।

গণসচেতনায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*