অত্যধিক ফলের রস শিশুর জন্য ক্ষতিকর

অত্যধিক ফলের রস

শিশুদের জন্যে মায়ের দুধের পরে যে পানীয়টি সর্বোত্তম বলে বিবেচিত সেটি হচ্ছে ফলের রস। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই পানীয়তে কোনো চর্বি থাকে না। ছোট ছোট সোনামনিরা এটি পছন্দ করে খুব। আমেরিকায় গড়ে এক একটি শিশু প্রতিবছর ৩৪ লিটার সুস্বাদু পানীয় পান করে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই থাকে আপেলের রস। কিন্তু এখন নতুন যেসব প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায়, শিশুর বয়স ২৪ মাস হওয়ার আগে তাকে খুব বেশি ফলের রস পান করানো ঠিক নয়। এ সময় বেশী ফলের রস পান করানো ঠিক নয়। এ সময়ে বেশী ফলের রস পান করালে শিশু স্বাস্থ্যের জন্যে তা ক্ষতিকর হয়। এই তরল পানীয়তে শিশুদের পাকস্থলী পূর্ণ থাকলে তাদের অন্যান্য খাবারের স্পৃহা নষ্ট হয়। তারা তখন এর চেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি সাময়িকীতে এই মর্মে যে সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে বলা হয়, এর ফলে যে অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয় তাতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।

যেসব পিতা-মাতা তাদের শিশুদের চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ানোর জন্য বেশী ফলের রস পান করাতেন তাদের জন্যে এবিষয়ক গবেষণাটি সতর্ক সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। মার্কিন চিকিৎসকরা বড় শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক লোকদের বরাবরই সম্পৃক্ত চর্বি যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। সম্পৃক্ত চর্বির ক্ষতিকর দিকগুলো তারা প্রায়শই সর্ব সমক্ষে তুলো ধরেন।

কিন্তু শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত যে দু’বছরের কম বয়সী শিশুদের চর্বি জাতীয় খাবার খেতে দেয়া দরকার। শিশুর দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্যেই এটা দরকার। ছোট শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য দুদ্ধজাত খাবারও বেশ দরকার। এসব ব্যাপারে যে আমিষ ও চর্বি থাকে সেটা শিশুর জন্য খুবই উপকারী। ফলের রসে এসব উপাদান থাকে না।

অধিকাংশ পিতা-মাতাই ভুলবশত ফলের রস যথাযথ পরিমাণে খাওয়ানোর ব্যাপারটাকে ততো গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। নিউইয়র্কের একদল গবেষক ১৪ থেকে ১৭ মাস বয়সের ৮টি শিশুকে পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের দেহের বৃদ্ধি সমপর্যায়ের অন্যান্য শিশুদের মতো হয়নি। পরে তারা জানতে পেরেছেন যে, এসব শিশু দিনে ৩৫০ মিলিলিটার ফলের রস বা ফ্রুট জুস পান করতো।

এসব শিশুর প্রতিদিনকার খাবারে ২৫ থেকে ৬০ ভাগ থাকতো ফলের রস। ব্রুকলিনের মেইননিডস মেডিকেল সেন্টারের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ফিমা লিফশিজ বলেন, শিশুদের একজাতিয় ক্যালরি যেমন ফলের রস খুব বেশী করে নিতে দিলে তারা অনেক খানিজ ও পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ এসব খনিজ ও পুষ্টি উপাদান তাদের দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজণীয়। গবেষণাধীন যে আটটি শিশুর শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল পরে তাদের খাবারের ফলে রস কমিয়ে তার পরিবর্তে দুধসহ অন্যান্য দেহের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ফলের রসের বিজ্ঞাপনের পাশে এ রস পান করায় উপযোগী বোতলের ছবিও খুব যত্নের সঙ্গে সেটে দেয়। কিন্তু সে দেশের ডাক্তাররা এখন বলছেন, শিশুর বয়স ৬ মাস হওয়ার আগে এভাবে বোতলে করে ফলের রস পান করাতে নেই। অনেকে মনে করেন, শিশুর বয়স এক বছর পূর্ন হওয়ার আগে বোতলে করে ফলের রস পান করাতে নেই। কারণ এতে বেশি সময় ধরে অধিক পারিমাণ ফলের রস পান করতে শিশুরা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এরপর যখন এ প্রক্রিয়া শুরু হবে তখনো দৈনিক ১শ মিলিলিটারের বেশী ফলের রস শিশুদের খেতে দেয়া উচিত নয়।

আপেলের রসে যে দুটি শর্করা তাকে এদের বলে সরবিটল এবং ফ্রুকটোস। এ দুটি শর্করা অধিক পরিমাণে শিশুরা হজম করতে পারে না। এতে কখনো কখনো তাদের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলের রস খুবই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একথা সঠিক হলেও খুব বেশী করে এটা পান করা উচিত নয়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন যে, শিশুদের এটি বোতলের পরিবর্তে কাপে করে সীমিত পরিমানে পান করতে দেয়া দরকার। এক সঙ্গে বোতলে করে অধিক পরিমাণ ফলের রস শিশুদের পান করতে দেয়া ঠিক নয়। কাপে করে ছোট শিশুদের এটি পান করতে দিলে একদিকে এর পরিমাণে সীমিত রাখা সম্ভব হয় এবং অন্যদিকে শিশুরা কাপ ব্যবহারের অভ্যাসটাও আয়ত্ত করে নিতে পারে। দাঁতের সুরক্ষার জন্যও এ পদ্ধতিটি অপেক্ষাকৃত ভালো। মিষ্টি জাতীয় যে কোনো পানীয় বেশীক্ষণ দাঁতে লাগিয়ে রাখলে সেটা দন্তক্ষয় রোগের কারণ হতে পারে।

এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের আরও পরামর্শ হচ্ছে, সব খাবারের ক্ষেত্রেই পরিমিত বোধ বজায় রাখতে হবে। একটি খাবার খুব স্বাস্থ্যকর হলেও সেটি যতো খুশী ততো বেশী খাওয়া যায় না। তেমনটা করা হলে প্রকারান্তরে এটি ক্ষতিকরও হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ আপনার শিশুর প্রথম দাঁত উঠলে করনীয়।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*