৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের মানববন্ধন

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

মেডিকেলবিডি ডেস্ক: বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিও থেরাপি, চাকরি, ইন্টার্ন ভাতাসহ ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এর জন্য মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। আজ বুধবার ০৯ ই সেপ্টেম্বর, সকাল ১০ ঘটিকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (নতুন ভবন), মহাখালীতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে এই দেশে সর্বপ্রথম ফিজিওথেরাপি প্রফেশনের আবির্ভাব ঘটে। জাতির জনকের হাত ধরে আসা এই প্রফেশনটা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের আন্দোলন চলে আসছিল। আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে সর্ব প্রথম দাবিটি ছিল স্বতন্ত্র ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়ন।

সেই লক্ষ্যে ২০০৯ সালে টানা ৫২ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে জায়গা বরাদ্দ দেয়া সহ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার পরেও নানা ধরনের অশুভ তৎপরতার কারণে আমাদের প্রিয় ফিজিওথেরাপি কলেজটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

পাশকৃত ফিজিওথেরাপিস্টদের এক বছর ইন্টার্নি করতে হয় ইন্টার্নির সময়ও তাদেরকে সরকারি ভাতা প্রদান করা হয় না। এমনকি এই করোনা মহামারীর মধ্যেও ইন্টার্ন ফিজিওথেরাপিস্টরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে তার পরেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি ভাতা পাচ্ছেনা। বর্তমান পর্যন্ত প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে “ফিজিওথেরাপিস্ট” হিসেবে জাতির সেবায় নিয়োজিত আছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি জবের ব্যবস্থা হয়নি।

এই রকম বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীগণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মানিত ডিজি মহোদয় বরাবর ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল। দাবিগুলো হলোঃ-

০১. অতিসত্বর “বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি”এর ভবন নির্মাণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

০২. সরকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্ন ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য মাসিক ইন্টার্ন ভাতা প্রদান করতে হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টার্ণ ভাতা প্রদান বাধ্যতামুলক করতে হবে।

০৩. অনতিবিলম্বে সরকারী হাসপাতাল/স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্টদের ১ম শ্রেণির পদ সৃজন ও নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

০৪. ফিজিওথেরাপি তে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ন্যূনতম জিপিএ(এসএসসি+এইচএসসি) ০৯.০০ নির্ধারণ করতে হবে। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত “সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার” মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৬. সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্বতন্ত্র ফিজিওথেরাপি বিভাগ ও জনবল নিয়োগ দিতে হবে।।

৭. বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারী পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমরা এই দাবিগুলো নিয়ে আগস্টের ২০ তারিখ সম্মানিত ডিজি মহোদয়ের সাথে দেখা করি। ডিজি মহোদয় আমাদের বিষয়গুলো নিয়ে অবগত নন বলে আমাদের সকল ফাইলগুলো দেখতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে ২৪ তারিখ আমরা আমাদের সকল ফাইলগুলো ডিজি মহোদয়ের কাছে জমা দেই। আমরা ডিজি মহোদয়কে ৩১ই আগস্ট, ২০২০ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম।

ডিজি মহোদয়ের কোনো উত্তর না পাওয়াতে গত ০৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (বাপসু) মানববন্ধন, ডিজি হেলথ ঘেরাও, প্রতীকী অনশন ও অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আজ ০৯ ই সেপ্টেম্বর ২০২০ রোজ বুধবার সকাল ১০.০০ টা থেকে দুপুর ০১.০০ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (নতুন ভবন) সামনে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন ফিজিও চিকিৎসকদের পক্ষে ডাঃ শান্তনু বাড়ৈ বলেন, “আমরা ইন্টার্ন করেও ইন্টার্ন ভাতা পাচ্ছি না। সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি যাতে করে অতি শীঘ্রই আমাদের জন্য ইন্টার্ন ভাতা এবং সরকারি জবের বাস্তবায়ন করা হয়”

পেশাজীবীদের মধ্যে ডাঃ দলিলুর রহমান বলেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি”।

সালাউদ্দিন মুন (প্রচার সম্পাদক) বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রপতির লিখিত আদেশ থাকার পরেও আমাদের কলেজ হচ্ছেনা কেনো? কোন সে অলোকিক শক্তি কাজ করছে আমাদের পিছনে?”

নুজাইম প্রান্ত (আহবায়ক) বলেন, “আমাদের এই সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে” মেডিকেলবিডি /এএনবি/ ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − three =